ঢাকা প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বেশি কথা বললে সব বন্ধ করে বসে থাকব। ইলেকশনের পরে যদি আবার আসতে পারি, তখন করব। দেখি কে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়? সব রেডি করে দিয়েছি, এখন বসে বসে অনেকেই বড় বড় কথা বলে।’
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
দেশের রিজার্ভ ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি, তখন আমাদের রিজার্ভ এক বিলিয়নও ছিল না। এখন যদি বলেন রিজার্ভ রক্ষা করতে হবে, তাহলে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিই? পানি দেওয়া, সার দেওয়া বন্ধ করে দিই? সব বন্ধ করে বসিয়ে রাখি। তাহলে আমার রিজার্ভ ভালো থাকবে?’
শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘রিজার্ভ বেশি রাখা আমার বেশি প্রয়োজন, না কি দেশের মানুষের কমফোর্ট। দেশের মানুষের ভালো-মন্দ। কোনটা বেশি প্রয়োজন?’
বিশ্বব্যাপী জিনিসপত্রের দামের বিবরণ তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা আগে দুইশ ডলারে যে গম কিনতাম, এখন তা ছয়শ ডলারে কিনতে হচ্ছে। ৮০০ ডলারের পরিবহণ খরচ এখন তিন থেকে চার হাজার ডলার লাগছে। যে কারণে আমি দেশবাসীকে সব সময় আহ্বান জানায়, যেন এক ইঞ্চি জমিও খালি পড়ে না থাকে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নিজেরা উৎপাদন করব, নিজেরা খাব। অনেকে করছে। আমরাও করছি। যদি এতো বেশি কথা হয়, যখন সরকার গঠন করেছিলাম, তখন যেমন বিদ্যুৎ ছিল, ওখানে রেখে আবার ইলেকশন করব, করে আবার বাড়াব। কিন্তু, দেখাব যে, আগে ও-ই ছিল। বিদ্যুৎ শতভাগ থেকে কমিয়ে ওই ২৮ ভাগে নিয়ে আসব। সবাই একটু টের পাক, আগে কী অবস্থা ছিল। আমরা তো ভুলে যাই।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে বলছিলাম, প্রতিদিন যেন কিছুটা লোডশেডিং দেয়। তাহলে মানুষের একটু মনে থাকবে, লোডশেডিং আছে। তখন পয়সা দিয়ে তেল কিনে জেনারেটর চালাতে হবে। তখন আবার আক্কেলটা একটু ঠিক হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগে বাংলাদেশ শুনলে আলাদাভাবে তাকাতো। এটা বাতাসে হয়নি, আওয়ামী লীগ এটা করেছে। এখন বাংলাদেশে কেউ তো না খেয়ে কষ্ট পায় না, উত্তরবঙ্গে সবাই খেয়েপরে বেঁচে আছে।’
ঢাকা/ইবিটাইমস/এনএল