সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সুইডেন আ.লীগের নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত

সুইডেন প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ আট বছর পর সুইডেন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। দলের সভাপতি এ এইচ এম জাহাঙ্গীর কবির সমর্থিত একাংশ শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্টকহোমের একটি হলে সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধান অতিথি (ভার্চুয়াল) কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবাহান গোলাপকে রাখা হয়েছে।

তবে দলের বৃহত্তর অংশের দাবি, সভাপতি কারো সাথে আলাপ আলোচনা না করেই কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। সম্মেলনের ব্যাপারে দলের সাধারণ সম্পাদকসহ দলের একটি বৃহত্তর অংশ বারবার সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন এবং সবাই নিয়ে একটি সফল সম্মেলনের আয়োজনের ব্যাপারে মতামত দিলেও সভাপতি সে বিষয়ে কোন কর্ণপাত করছে না বলে দাবি সুইডেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।

এ ব্যাপারে শুক্রবার দলের সাধারণ সম্পাদক ড. ফরহাদ আলী খানের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি হলে সম্মেলন স্থগিত চেয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় নেতাকর্মীরা দলের বৃহত্তর স্বার্থে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবিত সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তনের পক্ষে মত প্রদান করেন।

তারা আরো বলেন, সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটি, নির্বাচন কমিশন/সাবজেক্ট কমিটি, অনুষ্ঠানসূচি, অতিথি, কাউন্সিলার ও ডেলিগেট লিস্ট, সম্মেলনের স্থান, বাজেটসহ সকল বিষয়গুলো একটা কার্যকরী সভা কিংবা বর্ধিত সভা করে আলোচনা করা হয়নি। এমনকি সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের সম্মানিত আন্তর্জাতিক সম্পাদককেও অবহিত বা আমন্ত্রণ করা হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থায় কতিপয় পদলোভী বিতর্কিত ব্যক্তির উদ্যোগে আহুত অবৈধ সম্মেলন কেন্দ্র থেকে আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেন।

সভায় অবৈধ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী প্রক্রিয়ায় আয়োজিত সম্মেলনকে স্থগিত করায় ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এরপরও কেউ যদি সুইডেন আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে সম্মেলন আয়োজন করার চেষ্টা করে ত সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপ। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়। ঐক্যবদ্ধভাবে দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী জামায়াত-বিএনপির এজেন্টদের প্রতিহত করার দৃঢ় সংকল্পে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী প্রকৃত মুজিবসেনাদের নিয়ে শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল হাউইব্রিডমুক্ত সুইডেন আওয়ামী লীগ গড়ে তোলা হবে। অতি সত্বর সকল নেতাকর্মীকে নিয়ে সাধারণ সভার মাধ্যমে আলোচনা করে সকল গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনে বৃহত্তর ও গতিশীল সুইডেন আওয়ামী লীগ গঠনকল্পে নতুন সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- ড. ফরহাদ আলী খান (সাধারণ সম্পাদক), সহসভাপতিবৃন্দ: খালেদ চৌধুরী, সেলিম সরোয়ার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. মুহিত টুটু (ভার্চুয়াল), শাহ আলম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন মিয়া (উপদেষ্টা), বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম (কোষাধ্যক্ষ)। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ: দলিল উদ্দিন দুলু, মোস্তফা ওয়ালিদ জুয়েল, কামরুল হাসান (ভার্চুয়াল); সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দ: সৈয়দ শহীদ (ভার্চুয়ালি), আ. রশিদ মোল্লা, আ. রাজ্জাক, খালেদ মো. আলী, কাউসার আলী। সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যবৃন্দ: ডা. সমিউল ইসলাম রনী (তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক), অ্যাড. মোরশেদ চৌধুরী বাপ্পি (আইন সম্পাদক), ডা. তামান্না হোসেন খান (ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক), শ্যামল দত্ত (শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক), ডা. শাম্মি দাস (স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক); সদস্যবৃন্দ: মঞ্জুরুল হাসান, কাজী হুদা, কাজী মিরাজ, লাভলু মনোয়ার, শফিকুল আলম লিটন, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ার হেদায়েতুল ইসলাম শেলী, নাজমুল হাসান খান, ডা. বিপ্লব শাহ নেওয়াজ, সেন্টু আলী, ফয়সল চৌধরী, সুভাষ বণিক, ড. হুমায়ুন কবির, মোর্শেদুজ্জম্যান খান মফিজ, সাইফুল ইসলাম চুন্নু, মাহমুদ হাসান চৌধুরী নওরোজ, রিপন চৌধুরী, মুজাহিদুল ইসলাম নওরোজ, মনিরুল ইসলাম, আব্দুল মালিক জলিল, মাহবুব আরিফ, জোবায়দুল হোক সবুজ (আহবায়ক, যুবলীগ সুইডেন শাখা); আনিস হাসান তপন ( সাধারণ সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সুইডেন শাখা), একরামুল্লাহ, ফরহাদ রেজা, অমিতাভ চন্দ্র নাথ, দেলোয়ার হোসেন জুয়েল, আরিফ হোসেন সুমন, পলাশ পাল, মাহবুবুর রহমান তুষার, পিঙ্কু দেব, মান্না দেব, মাসুদ আহমেদ বাবু, আহসানুল কবিরসহ আরো অনেকে।

এ ব্যাপারে সুইডেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. ফরহাদ আলী খান বলেন, সুইডেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সুইডেন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নানারকম বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে। বারংবার সংগঠনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী দলের বৃহত্তর স্বার্থে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবিত সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তনের পক্ষে মত প্রদান করেছেন। সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো যথাযথ নিয়মে ও যথাসময়ে চূড়ান্ত করা হয়নি, তড়িঘড়ি করে করা হচ্ছে এবং একটা কার্যকরী সভা কিংবা বর্ধিত সভা করে আলোচনার সুযোগ ও হয়নি। নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ও অনৈক্যের মুখে একটা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে স্বল্পসময়ের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশে অধিকাংশ সদস্যের মতামতকে অশ্রদ্ধা করে সম্মেলন কোনোভাবেই সফলভাবে করা সম্ভব না। যেহেতু আমাদের সম্মেলন আয়োজনের প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠভাবে হয়নি, প্রস্তুতিরও ঘাটতি আছে এবং সামনে আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাই এখন দলের বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে সম্মেলন কিছুদিন পর আয়োজন করলে ভালো হয়। জাতির এ ক্রান্তিকালে নিজেদের মাঝে কাদা ছোড়াছুড়ি পরিহার করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

এ ব্যাপারে ফোনে সুইডেন আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম জাহাঙ্গীর কবির বলেন, সম্মেলন যথা সময়েই হবে। সকলেই মতামত নিয়েই সম্মেলনের আয়োজন করেছি, সমন্বয়ের চেষ্টা করেছি, গুটি কয়েকজনের জন্য সম্মেলন বাতিল কিংবা স্থগিত হবে না।

এ ব্যাপারে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

স্টকহোম/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »