ভিয়েনা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃষ্ণ সাগরে দুইটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা পাকিস্তান মানবিক সাহায্যের জন্য আফগান সীমান্ত খুলে দিতে পারে বুলগেরিয়ান সীমান্তে তিন মিশরীয় অনিয়মিত অভিবাসী প্রত্যাশী কিশোরের মৃত্যু ইন্দোনেশিয়য় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেন শান্তি পরিকল্পনার আলোচকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন – ভলোদিমির জেলেনস্কি অস্ট্রিয়ার আগামী বাজেট ঘাটতি পেনশন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে মাভাবিপ্রবিতে পরিবেশ বিষয়ক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে : সিইসি

লিবিয়ায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ৩ হাজার, নিখোঁজ ১০,০০০

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১০:২১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • ২৩ সময় দেখুন

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে, বন্যা কবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) লিবিয়ার বেনগাজি প্রশাসন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা জানিয়েছে।

মঙ্গলবার লিবিয়ার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র তাকফিক শুকরি বলেন, এই বন্যায় ২ হাজার ৮৪ জন নিহত হয়েছে। প্রায় দশ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তাছাড়া প্রায় ২০ হাজার মানুষ ভিটামাটি ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছে। এদিকে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের বেনগাজি প্রশাসন ধারণা করছে, প্রায় তিন হাজার মানুষ মারা গেছে।

রাজধানী ত্রিপোলিতে জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দইবা বলেন, ১৪ টন ত্রাণ সামগ্রী ও চিকিৎসা কর্মীদের নিয়ে একটি বিমান বেনগাজির দিকে রওনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেরনা শহর। সেখানে প্রবেশ করতে সমস্যা হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ত্রিপোলি সরকার পূর্বাঞ্চলকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। অসহায় মানুষদের জন্য সাহায্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। সবাই ত্রাণ নিয়ে বিভক্ত লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে যাচ্ছে।

বেনগাজি প্রশাসন বলেছে, ভূমধ্যসাগরীয় শহর দেরনা থেকে এক হাজারেরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল পূর্ব লিবিয়াকে বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে। যার ফলে ওয়াদি দেরনা নদীর দুটি বাঁধ ভেঙে যায়। এই বাঁধ ভেঙে দেরনা শহরে লক্ষাধিক ঘনমিটার পানি ঢুকে পড়ে। এই পানি দেরনা শহরে আঘাত হানে, যার ফলে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়েছে।

বন্যায় শহরের আবাসিক ভবনগুলো ধসে পড়েছে। পানির স্রোতে একাধিক সেতু ভেঙে গেছে। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) ত্রিপোলি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মালিক ট্রেনা বলেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কত মানুষ নিখোঁজ হয়েছে তা নিশ্চিত বলা যাবে না। আনুমানিক পাঁচ থেকে ১০ হাজার মানুষ এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন।

ট্রেনা আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ দেরনা শহরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তারা কোনোভাবেই সেখানে যেতে পারছে না। কারণ, বন্যার পানির স্রোতে এই শহরের রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে দেরনা শহরের আশপাশের মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় শহরটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহ বন্যায় শহরের চার ভাগের একভাগ ডুবে গেছে।

মঙ্গলবার আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলার সময় লিবিয়া-মার্কিন সম্পর্কের জাতীয় কাউন্সিলর হানি শেনিব বলেন, শহরের প্রায় চার বর্গ কিমি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ট্রেনা বলেন, অনেক রোগী ও কর্মীকে প্লাবিত এলাকার হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকেই প্লাবিত এলাকায় আটকা পড়েছেন।

লিবিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ প্রতিনিধি দলের সদস্য তামের রমাদান উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বন্যা মোকাবিলা করা আমাদের সাধ্যের বাইরে।

বেনগাজির বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী হিচেম চকিউয়াত দেরনা শহর পরিদর্শন করে মঙ্গলবার রয়টার্সকে বলেন, সমুদ্রে, উপত্যকায়, ভবনের নিচে, সব জায়গায় মৃতদেহ পড়ে আছে। তিনি আরও বলেন, আমি বাড়িয়ে বলছি না, এই শহরের ২৫ শতাংশ পানির নিচে ডুবে গেছে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

কৃষ্ণ সাগরে দুইটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

লিবিয়ায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ৩ হাজার, নিখোঁজ ১০,০০০

আপডেটের সময় ১০:২১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে, বন্যা কবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) লিবিয়ার বেনগাজি প্রশাসন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা জানিয়েছে।

মঙ্গলবার লিবিয়ার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র তাকফিক শুকরি বলেন, এই বন্যায় ২ হাজার ৮৪ জন নিহত হয়েছে। প্রায় দশ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তাছাড়া প্রায় ২০ হাজার মানুষ ভিটামাটি ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছে। এদিকে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের বেনগাজি প্রশাসন ধারণা করছে, প্রায় তিন হাজার মানুষ মারা গেছে।

রাজধানী ত্রিপোলিতে জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দইবা বলেন, ১৪ টন ত্রাণ সামগ্রী ও চিকিৎসা কর্মীদের নিয়ে একটি বিমান বেনগাজির দিকে রওনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেরনা শহর। সেখানে প্রবেশ করতে সমস্যা হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ত্রিপোলি সরকার পূর্বাঞ্চলকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। অসহায় মানুষদের জন্য সাহায্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। সবাই ত্রাণ নিয়ে বিভক্ত লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে যাচ্ছে।

বেনগাজি প্রশাসন বলেছে, ভূমধ্যসাগরীয় শহর দেরনা থেকে এক হাজারেরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল পূর্ব লিবিয়াকে বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে। যার ফলে ওয়াদি দেরনা নদীর দুটি বাঁধ ভেঙে যায়। এই বাঁধ ভেঙে দেরনা শহরে লক্ষাধিক ঘনমিটার পানি ঢুকে পড়ে। এই পানি দেরনা শহরে আঘাত হানে, যার ফলে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়েছে।

বন্যায় শহরের আবাসিক ভবনগুলো ধসে পড়েছে। পানির স্রোতে একাধিক সেতু ভেঙে গেছে। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) ত্রিপোলি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মালিক ট্রেনা বলেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কত মানুষ নিখোঁজ হয়েছে তা নিশ্চিত বলা যাবে না। আনুমানিক পাঁচ থেকে ১০ হাজার মানুষ এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন।

ট্রেনা আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ দেরনা শহরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তারা কোনোভাবেই সেখানে যেতে পারছে না। কারণ, বন্যার পানির স্রোতে এই শহরের রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে দেরনা শহরের আশপাশের মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় শহরটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহ বন্যায় শহরের চার ভাগের একভাগ ডুবে গেছে।

মঙ্গলবার আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলার সময় লিবিয়া-মার্কিন সম্পর্কের জাতীয় কাউন্সিলর হানি শেনিব বলেন, শহরের প্রায় চার বর্গ কিমি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ট্রেনা বলেন, অনেক রোগী ও কর্মীকে প্লাবিত এলাকার হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকেই প্লাবিত এলাকায় আটকা পড়েছেন।

লিবিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ প্রতিনিধি দলের সদস্য তামের রমাদান উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বন্যা মোকাবিলা করা আমাদের সাধ্যের বাইরে।

বেনগাজির বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী হিচেম চকিউয়াত দেরনা শহর পরিদর্শন করে মঙ্গলবার রয়টার্সকে বলেন, সমুদ্রে, উপত্যকায়, ভবনের নিচে, সব জায়গায় মৃতদেহ পড়ে আছে। তিনি আরও বলেন, আমি বাড়িয়ে বলছি না, এই শহরের ২৫ শতাংশ পানির নিচে ডুবে গেছে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস