৮৪ তম জন্মদিনে কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী, লালগোলাপ শুভেচ্ছা

রিপন শানঃ বাংলাদেশের জনপ্রিয়  সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। আজ তার জন্মদিন। ১৯৪০ সালের ১ জুলাই তার জন্ম হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে। বেড়ে ওঠেন আগরতলা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কলকাতায়। কলেজ জীবন কাটে রংপুর আর ঢাকায়। তার বাবা সৈয়দ আবদুল হাই ছিলেন ইপিসিএস (ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস) অফিসার।
আজ ৮৩ বছর পেরিয়ে ৮৪-তে পা দিয়েছেন কিংবদন্তি এই শিল্পী। তার জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকার কবির বকুল। আব্দুল হাদীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে বকুল লিখেছেন, ‘সৈয়দ আব্দুল হাদী। জীবন্ত কিংবদন্তি। আমাদের সংগীতাঙ্গনের বিস্তৃত আঙিনায় হয়ে আছেন বটবৃক্ষের মত। তার ছায়ায় সুশীতল হচ্ছি আমরা। আজ তাঁর জন্মদিন।’ বকুল আরও লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন। আপনি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আপনার দীর্ঘজীবন কামনা করছি।’ ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিটির কথা উল্লেখ করে গীতিকার লিখেছেন, ‘ছবিটি ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে তোলা। এসেছিলেন প্লেব্যাক করতে আমার লেখা ও সুর করা একটি গান।’
সৈয়দ আব্দুল হাদীর বাবা গান গাইতেন এবং কলেরগানে গান শুনতে পছন্দ করতেন। বাবার শখের গ্রামোফোন রেকর্ডের গান শুনে কৈশোরে সংগীত অনুরাগী হয়ে উঠেন আব্দুল হাদীও। তখন থেকেই গাইতে গাইতে তিনি গান শিখেছেন। সৈয়দ আব্দুল হাদী দেশাত্ববোধক গানের জন্য বিখ্যাত। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি গান গাইছেন। ১৯৬০ সালে ছাত্রজীবন থেকেই চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু। ১৯৬৪ সালে তিনি একক কণ্ঠে প্রথম বাংলা সিনেমায় গান করেন। নাম ছিল ‘ডাকবাবু’।
মো. মনিরুজ্জামানের রচনায় সংগীত পরিচালক আলী হোসেনের সুরে একটি গানের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু। আব্দুল হাদীর বেতারে গাওয়া প্রথম জনপ্রিয় গান ‘কিছু বলো, এই নির্জন প্রহরের কণাগুলো হৃদয়মাধুরী দিয়ে ভরে তোলো’। সালাউদ্দিন জাকি পরিচালিত ‘ঘুড্ডি’ চলচ্চিত্রের গানে সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছিলেন লাকী আখ্‌ন্দ। এই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘সখি চলনা, সখি চলনা জলসা ঘরে এবার যাই’- গেয়েছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত হয় এই শিল্পীর প্রথম রবীন্দ্র সংগীতের একক অ্যালবাম ‘যখন ভাঙলো মিলন মেলা’। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নিয়ে অনার্স পড়ার সময় সুবল দাস, পি.সি গোমেজ, আবদুল আহাদ, আবদুল লতিফ প্রমুখ তাকে গান শেখার ক্ষেত্রে সহায়তা ও উৎসাহ যোগান।
বহু সিনেমা এবং অ্যালবামে বহু কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। তার মধ্যে ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘এই পৃথিবীর পান্থশালায়’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিড়ে’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘কেউ কোনো দিন আমারে তো’, ‘যেও না সাথী’, ‘আমি তোমারই প্রেম ভিক্ষারী’, ‘চক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সুর্যাস্তে তুমি’, ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’, ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’, ‘আউল বাউল লালনের দেশে’, ‘মনে প্রেমের বাত্তি জ্বলে’, ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার বারেস্টার’ ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান।
চলচ্চিত্রে গান গেয়ে সেরা গায়ক ক্যাটাগরিতে সৈয়দ আব্দুল হাদী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন পাঁচ বার। সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনে থেকে সৈয়দ হাদী পেয়েছেন আরও নানান সম্মাননা পুরস্কার। তিনি বাংলাদেশ রোদসী কৃষ্টিসংসারের সিনিয়র উপদেষ্টা।  ৮৪ তম জন্নদিনে বাংলা গানের এই কালজয়ী শিল্পীকে লালগোলাপ শুভেচ্ছা।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »