হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি চালুর কয়েক বছর পরই বন্ধ

হবিগঞ্জ প্রতিনিতি: হবিগঞ্জ জেলারর শায়েস্তাগঞ্জে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি চালুর কয়েক বছর পরই নানা সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে বাচ্চা উৎপাদন।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ২০ বছর আগে গড়ে তোলা হয় একটি আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার। যার মূল উদ্যেশ্য ছিল খামারটি থেকে বাচ্চা উৎপাদন। কিন্তু খামারটি চালুর কয়েক বছর পরই নানা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় বাচ্চা উৎপাদন। আর এতে করে বছরের পর বছর ধরে নষ্ট হচ্ছে বাচ্চা ফুটানোর ইনকিউবেটর ও জেনারেটরসহ নানা সরঞ্জামাদি।

উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় বেকার লোকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কোটি টাকা ব্যয় করে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার স্থাপন করে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর। ২০০৩ সালে খামারটি স্থাপন করা হলেও কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬ সালে। এর পর মাত্র ৩ বছর সেখানে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে নানা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় বাচ্চা উৎপাদন।

২০১২ সালের শেষ দিকে ৩ একর জায়গাজুড়ে খামারটি স¤প্রসারণ করা হয়। নির্মাণ করা হয় একটি অফিস ভবন, হ্যাচারি ভবন, স্টোর ভবন, ডরমেটরি ভবন, পাম্প হাউজ, ৮টি ব্রুডার, গ্রোয়ার ও লেয়ার শেড এবং গ্যারেজ ও নাইটগার্ড রুম। সেই সাথে এখানে স্থাপন করা হয় প্রায় দেড়কোটি টাকা মূল্যের দুটি বাচ্চা ফুটানোর ইনকিউবেটর। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠানিকভাবে পুণরায় এর কার্যক্রম শুরু করা হয়।

কার্যক্রম শুরু হলেও শুরুই হয়নি বাচ্চা উৎপাদন। নামে মাত্র প্রায় হাজারখানেক হাঁস পালন করা হচ্ছে সেখানে। যা থেকে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩০০ পিস ডিম। খামারটি থেকে ন্যায্য মূল্যে ডিম গ্রামবাসিকে দেয়ার কথা থাকলেও তা দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

এমতাবস্থায় সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার স্থাপন করেছিল তার কোন সুফল মেলেনি। এদিকে, শুধু বাচ্চা ফুটানোর ইনকিউবেটর ও জেনারেটর নয়, দিনের পর দিন বছরের পর বছর ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শেডগুলো।

স্থানীয় গ্রামবাসিসহ বেকার লোকজনদের কর্মসৃষ্টির লক্ষ্যে এটা স্থাপন করে দিয়েছে। অথচ কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে প্রকল্পটি বিন্দু মাত্র আলোর মুখ দেখেনি। এখান থেকে ন্যায্য মূল্যে ডিম পাওয়ার কথা থাকলেও চাহিদা মতো তাও দিতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে খামারটির কার্যক্রম চালু না থাকায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ভেঙে পড়ছে শেডের বিভিন্ন স্থানের দরজা জানালা। এছাড়াও শেডগুলোর চারপাশে জন্মাচ্ছে আগাছা। যে কারণে পরিণত হচ্ছে জঙ্গলে। তাদের দাবী, অচিরেই যেন সব সমস্যার সমাধান করে সৃষ্টি করা হয় কর্মসংস্থানের।

এ বিষয়ে খামার-এর অতিরিক্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ নাজিম উদ্দিন মন্ডল জানান, মূলত জনবল সংকটের কারণে বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে জনবল পদায়ন করা হয়েছে। যন্ত্রাংশ মেরামত করে শিগগরিই হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন শুরু করা হবে।

মোতাব্বির হোসেন কাজল/ইবিটাইমস/এম আর  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »