দুই অস্ট্রিয়ান এবং একজন ডেনিশ নাগরিক ইরানি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ইইউতে ফিরেছে

বন্দী বিনিময়ে ইরানের দ্বারা মুক্তি পাওয়ার একদিন পর শনিবার তিনজন ইউরোপীয় দেশে ফিরে এসেছে এবং তেহরান বলেছে যে, ইউরোপীয়দের বিদেশী নিরাপত্তা পরিষেবা দ্বারা “শোষিত” না হলে তাদের গ্রেফতার করার কোন কারণ নেই

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে,শনিবার (৩ জুন) ইরান থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ইরানী বংশোদ্ভূত দুই অস্ট্রিয়ান নাগরিক ভিয়েনায় অবতরণ করলে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গ তাদেরকে ভিয়েনা বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। অস্ট্রিয়ান নাগরিকদ্বয় বছরের পর বছর ইরানে বন্দী ছিল।

এদিকে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ওমান হয়ে এই তিন ইইউ নাগরিককে নিয়ে বিমান প্রথমে ব্রাসেলসের কাছে মেলসব্রোকে বেলজিয়ামের সামরিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বেলজিয়ামের বেলগা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা দুপুর ২ টা ৪৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছায় এবং বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদজা লাহবিব তাদের স্বাগত জানান। ডেনিশ নাগরিক টমাস কেজেমস পরে বিমানে করে কোপেনহেগেনে পৌঁছান।

এপিএ আরও জানায়,গত সপ্তাহে ইরানের হেফাজত থেকে বেলজিয়ামের এক উন্নয়ন কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিগুলি তেহরানের সাথে ইইউর একটি বিনিময় চুক্তির অংশ। বেলজিয়ামে সন্ত্রাসবাদে দোষী সাব্যস্ত একজন ইরানি কূটনীতিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ইরানের নাগরিক আসাদুল্লাহ আসাদিকে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে জার্মানিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং ইরানী নির্বাসিতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হত্যা প্রচেষ্টার জন্য ২০২১ সালে এন্টওয়ার্পে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে কারাদণ্ড: দুই অস্ট্রিয়ান-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বছরের পর বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ভিয়েনার আইটি বিশেষজ্ঞ গাদেরি তাই ২০১৬ সাল থেকে তেহরানের কারাগারে ছিলেন। অস্ট্রো-ইরানিয়ান সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল মোসাহেবকে ২০১৯ সালের শুরুতে তেহরান সফরের সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল। অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুজন ইরানি আটকে ২,৭০৯ এবং ১,৫৮৬ দিন কাটিয়েছেন। বেলজিয়াম সূত্রে জানা গেছে, ডেনিশ বন্দীকে গত নভেম্বরে “নারীদের অধিকারের জন্য একটি সমাবেশ” এর ফাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ইইউর ইরানের সাথে বন্দি বিনিময় মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। জার্মানীর কর্মী ডুজেন টেক্কাল মে মাসের শেষে এটিকে একটি “নোংরা চুক্তির” কথা বলে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যান্য বিষয়গুলির মধ্যে, আশঙ্কা রয়েছে যে তেহরানের সরকার ভবিষ্যতে পশ্চিমা বন্দীদের পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলির সাথে দর কষাকষির চিপ হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। প্রায় ২০ জন ইইউ নাগরিক বর্তমানে ইরানে বন্দী রয়েছে, যাদের বেশিরভাগেরই ইরানি পাসপোর্ট রয়েছে।

ভয়েস অফ আমেরিকার খবরে বলা হয়েছে,ডেনিশ নাগরিক টমাস কেজেমস কোপেনহেগেনে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের জানান, ইরানের কারাগারে থাকা অবস্থায় সময় আমাকে কোনও শারীরিক নির্যাতন করা হয় নি। খাবার এবং পানীয় ইত্যাদি যথা সময়ে নিয়মিত দেওয়া হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান শনিবার টুইট করেছেন যে তিনি বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাহবিবকে বলেন যে, তিনি আশা করেন বন্দীদের মুক্তি বেলজিয়াম এবং ইউরোপের সাথে ইরানের সম্পর্কের “একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে”।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »