ভিয়েনা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানকে হামলা বন্ধের আহ্বান ইইউ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ইরান থেকে নাগরিক সরিয়ে নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৬৫ বাংলাদেশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইনে প্রবাসীদের সতর্ক থাকতে দূতাবাস থেকে নির্দেশনা ইরানি ড্রোনের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ করল আজারবাইজান হরমুজ প্রণালীতে তেলের ট্যাংকারে ইরানের হামলা, ২৪ ক্রুকে বাঁচালো ওমান চরফ্যাশনে বসতভিটা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩ টাঙ্গাইলে ৫ ক্রেতাকে ওয়ালটনের উপহার হস্তান্তর লালমোহন শাহবাজপুর রেসিডেনসিয়াল মাদরাসার প্রথম বছরেই ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ

সকলের সহযোগিতায় বাঁচতে চায় মোস্তফা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৫:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুন ২০২৩
  • ৩৬ সময় দেখুন

জাহিদ দুলাল, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: মো. মোস্তফা মিয়া। বয়স প্রায় ৪০ বছর। এ বয়সেই কষ্টের শেষ নেই তার। নারিকেল গাছ পরিষ্কার করতে উঠে নিচে পড়ে যায় সে। ২০১৭ সালে এ ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় তার পা ও কোমড় ভেঙে যায়। এ জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় তাকে।

এরপর থেকেই মোস্তফার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। অর্থের অভাবে পরিপূর্ণ চিকিৎসা করাতে না পারায় কোমড় ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে ঘা হয়ে গেছে। বর্তমানে জীবন বাঁচাতে একটি ভাঙা হুইল চেয়ারে বসে হাত পেতে মানুষের থেকে সহায়তা তুলছেন মোস্তফা।

ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের নবীনগর এলাকার মুন্সি বাড়ির আব্দুল আজিজের ছেলে মো. মোস্তফা মিয়া। সংসারে রয়েছে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। এর মধ্যে বড় মেয়েকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়িয়ে অর্থাভাবে আর পড়াতে পারেননি। এখন বন্ধ তার পড়ালেখা। অন্যদিকে ছোট মেয়ে বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। সে কোন পর্যন্ত পড়তে পারবে তাও জানেন না মোস্তফা মিয়া।

নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ওই দুর্ঘটনার আগে দিনমজুরির কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোই চলছিল। তবে ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। টাকার অভাবে পুরোপুরি চিকিৎসা করাতে না পারায় পঙ্গুত্ব বরণ করি। যার ফলে পেটের তাগিদে আর সংসার চালাতে মানুষের কাছ থেকে সহায়তা চান। মানুষের দেওয়া সহায়তায় তার দৈনিক প্রায় তিনশত টাকার মতো হয়। যা দিয়ে নিজের সংসার ও ওষুধ চলে। তবে ঠিকমতো ওষুধও কিনতে পারেন না তিনি। দৈনিক তিনটি ওষুধ খাওয়ার কথা থাকলেও অর্থাভাবে খাচ্ছেন মাত্র একটি ওষুধ।

মোস্তফা আরো বলেন, আমার নামে একটি পঙ্গু ভাতা আছে। তিন মাস পর পর ওই ভাতার টাকা পাই। যা দিয়ে কিছুই হয় না। তাই বাধ্য হয়ে একটি ভাঙা হুইল চেয়ারে বসে  মানুষের কাছে হাত পাতি। হুইল চেয়ারটিও নাজুক। এখন একটি নতুন হুইল চেয়ারের দরকার। এছাড়া চিকিৎসা করাতে দরকার অর্থের।

তাই সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের  কাছে অনুরোধ; আমার জন্য নতুন একটি হুইল চেয়ার, চিকিৎসার জন্য অর্থ এবং সংসার পরিচালনার জন্য একটি মুদি দোকানের ব্যবস্থা করার। যাতে করে মানুষের কাছে হাত না পেতে পরিবার পরিজন নিয়ে সামনের দিনগুলো ভালোভাবে বাঁচতে পারে।

ভোলা/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

ইরানকে হামলা বন্ধের আহ্বান ইইউ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

সকলের সহযোগিতায় বাঁচতে চায় মোস্তফা

আপডেটের সময় ০৫:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুন ২০২৩

জাহিদ দুলাল, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: মো. মোস্তফা মিয়া। বয়স প্রায় ৪০ বছর। এ বয়সেই কষ্টের শেষ নেই তার। নারিকেল গাছ পরিষ্কার করতে উঠে নিচে পড়ে যায় সে। ২০১৭ সালে এ ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় তার পা ও কোমড় ভেঙে যায়। এ জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় তাকে।

এরপর থেকেই মোস্তফার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। অর্থের অভাবে পরিপূর্ণ চিকিৎসা করাতে না পারায় কোমড় ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে ঘা হয়ে গেছে। বর্তমানে জীবন বাঁচাতে একটি ভাঙা হুইল চেয়ারে বসে হাত পেতে মানুষের থেকে সহায়তা তুলছেন মোস্তফা।

ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের নবীনগর এলাকার মুন্সি বাড়ির আব্দুল আজিজের ছেলে মো. মোস্তফা মিয়া। সংসারে রয়েছে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। এর মধ্যে বড় মেয়েকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়িয়ে অর্থাভাবে আর পড়াতে পারেননি। এখন বন্ধ তার পড়ালেখা। অন্যদিকে ছোট মেয়ে বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। সে কোন পর্যন্ত পড়তে পারবে তাও জানেন না মোস্তফা মিয়া।

নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ওই দুর্ঘটনার আগে দিনমজুরির কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোই চলছিল। তবে ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। টাকার অভাবে পুরোপুরি চিকিৎসা করাতে না পারায় পঙ্গুত্ব বরণ করি। যার ফলে পেটের তাগিদে আর সংসার চালাতে মানুষের কাছ থেকে সহায়তা চান। মানুষের দেওয়া সহায়তায় তার দৈনিক প্রায় তিনশত টাকার মতো হয়। যা দিয়ে নিজের সংসার ও ওষুধ চলে। তবে ঠিকমতো ওষুধও কিনতে পারেন না তিনি। দৈনিক তিনটি ওষুধ খাওয়ার কথা থাকলেও অর্থাভাবে খাচ্ছেন মাত্র একটি ওষুধ।

মোস্তফা আরো বলেন, আমার নামে একটি পঙ্গু ভাতা আছে। তিন মাস পর পর ওই ভাতার টাকা পাই। যা দিয়ে কিছুই হয় না। তাই বাধ্য হয়ে একটি ভাঙা হুইল চেয়ারে বসে  মানুষের কাছে হাত পাতি। হুইল চেয়ারটিও নাজুক। এখন একটি নতুন হুইল চেয়ারের দরকার। এছাড়া চিকিৎসা করাতে দরকার অর্থের।

তাই সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের  কাছে অনুরোধ; আমার জন্য নতুন একটি হুইল চেয়ার, চিকিৎসার জন্য অর্থ এবং সংসার পরিচালনার জন্য একটি মুদি দোকানের ব্যবস্থা করার। যাতে করে মানুষের কাছে হাত না পেতে পরিবার পরিজন নিয়ে সামনের দিনগুলো ভালোভাবে বাঁচতে পারে।

ভোলা/ইবিটাইমস