গৃহবধুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

চরফ্যাসন(ভোলা)প্রতিনিধিঃ ভোলার চরফ্যাসনে তুলি বেগম নামের এক ১সন্তানের জননী গৃহবধুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর , শ্বাশুড়ী ,তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে স্বামীর বাড়িতে এঘটনা ঘটে। শ্বাশুর, শ্বাশুরীর নির্যাতনে ওই গৃহবধু সংঙ্গাহীন হয়ে পরলে রাতেই তাকে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত গভীর হলে গৃহবধুর স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে ওই গৃহবধুকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে চরফ্যাসন থানা পুলিশ শুক্রবার বিকালে তাকে উদ্ধার করে ফের চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আহত গৃহবধু তুলি বেগম পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার উত্তরী পাড়া গ্রামের মৃত আবদুর রব গাজীর মেয়ে।

শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধু অভিযোগ করেন, ৫ বছর আগে আবদুল্লাপুর গ্রামের হারুন মাঝির ছেলে মো. জিসানের সাথে প্রেম প্রনয়ের মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা কাবিনে তার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সন্তান জম্মের পরপরই স্বামী মো. জিসান তার কর্মস্থল কুমিল্লাতে অন্যনারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এনিয়ে তাদের মধ্যে দম্পত্ত্য কলহ শুরু হয়।

ঘটনার দিন তিনি স্বামীর সাথে ফোন কথা বলেন এবং এসব অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে ফিরে আসতে অনুরোধ করেন। এবং তিনি তার স্বামীর এসব অনৈতিক কর্মকাÐের কথার তার শ্বশুর হারুন মাঝি ও শ্বাশুড়ী জাহানারাকে জানান। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান শ্বশুড় , শ্বাশুড়ী ও তার পরিবারের অপর সদস্যরা। তার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অজুহাত দিয়েছি এমন অভিযোগ তুলে শ্বশুর হারুন মাঝি , শ্বাশুড়ী জাহানারা ও দুই ননদ মিলে তাকে এলোপাতারী মারধর শুরু করেন। এতে তিনি সংঙ্গাহীন হয়ে পরলে তার ননদের স্বামী আবদুর রশিদ তাকে চরফ্যাসন হাসপাতালে নিয়ে আসেন । হাসপাতালের কর্মব্যরত চিকিৎসকদেরকে ভূল তথ্য দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতে হাসপাতালে থেকে পালিয়ে চলে যান। এবং ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরে শুক্রবার ফের তার অবস্থার অবনতি দেখা দিলে প্রতিবেশীরা থানাপুলিশকে খবর দেন। সন্ধ্যায় চরফ্যাসন থানা পুলিশের তাকে উদ্ধার চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

আহত গৃহবধুর শ্বশুরের বক্তব্য জানাযায়নি। তবে তার বোন পপি বেগম জানান, মারধরের ঘটনা সঠিক নয়। সংসারের কাজ নিয়ে তর্ক হয়েছে। আর এমনিতেই তার ভাইয়ের স্ত্রী প্রায় সময় ভিবিন্ন রোগে আক্রন্ত আছেন। সেদিন তাকে মারধর করা হয়নি। সে মাথা ঘুরে পরে গেছে পরে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চরফ্যাসন থানার ওসি মোহাম্মদ মোরাদ হোসেন জানান, এঘটনায় এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চরফ্যাসন/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »