পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরে মনোনয়ন ত্রুটিতে বিএনপি নেতার কাছে নৌকার পরাজয় ঘটেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ মে) অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে উপজেলার সদর ইউনিয়নে এমন ঘটনায় নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রীয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রæয়ারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ বারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মো. মোশারেফ হোসেন খান বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আর তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করলে পদটি শূন্য ঘোষনা করেন নির্বাচন কমিশন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ওই নির্বাচনে বহিস্কৃত বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাসেল সিকদার ৫ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর আ’লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তানভীর হাসান ডালিম পেয়েছেন ৪হাজার ৫২৪ ভোট।
স্থানীয় আ’লীগ নেতা-কর্মীদের দাবী নির্বাচনের আগে দলের সবাই তাদের নিজেদের ভীতর থাকা গ্রæপিং ভুলে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিলেও তাতে ফল হয় নি। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে যোগ্য ও জনপ্রিয়দের বাদ দিয়ে কৌশলে অযোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তা ছাড়া আ’লীগ মনোনীত তানভীর হাসান ডালিম জেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আউয়ালের হাত ধরে রাজনীতিতে উত্থান হন। কিন্তু আউয়াল দি¦তীয় মেয়াদে এমপি থাকা কালে আউয়াল ও তার ভাইদের মধ্যে চরম গ্রপিং সৃষ্টি হয়। তখন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে তানভীর হাসান ডালিম উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেন খানের পক্ষ হয়ে আউয়ালের মেঝো ভাই পিরোজপুর পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের পক্ষে অবস্থান নেন। এতে ক্ষিপ্ত ছিলেন জেলা আ’লীগের সভাপতি । এ কারনে আউয়াল সমর্থকরা প্রকাশ্যে তানভীর হাসান ডালিমের পক্ষে প্রচরনা করলেও তাকে ভোট দেন নি বলে অভিযোগ।
তা ছাড়া জেলা আ’লীগের সভাপতি আউয়াল সমর্থিত নাজিরপুর উপজেলা আ’লীগের সাবেক সহ সভাপতি অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন খান ও সদর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. সাইফুদ্দিন খান বাদশা দলীয় মনোনয়ন বি ত হন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নৌকার বিরুদ্ধে গোপনে কাজ করার অভিযোগ নৌকার কর্মীদের। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে গত ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মো. মোশারেফ হোসে খানের প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস। তিনি এবারের উপ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও দলীয় অনুরোধে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নৌকার পক্ষে কাজ করেন। কিন্তু তার সমর্থিত সাধারন ভোটাররা তা মেনে নেন নি।
এ ছাড়া আউয়াল এমপি থাকা কালে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হাসান ডালিম ও আউয়াল সমর্থিত একটি গ্রপ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নৌকা সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। ওই সব নৌকা সমর্থিত প্রার্থীরা ডালিমের নির্বাচনে সূযোগ পেয়ে তার বিরুদ্ধে গোপনে কাজ করেছেন বলে দাবী তাদের। এ দিকে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগ সভাপতি মোশারেফ হোসেন খানের সাথে ইউনিয়নের কবিরাজ বাড়িতে এক হিন্দুর দোকানে তালা দেয়ার ঘটনা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আর সে কারনে মোশারেফ হোসেন খানের ঘনিষ্টজন খ্যাত ডালিমকে সেখানের হিন্দুরা ভোট দেন নি।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক সহ আ’লীগ বিরোধীদের দাবী ভিন্ন। তাদের মতে সুষ্ঠ নির্বাচন হওয়ায় ভোটাররা সুযোগ পেয়ে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। এটা শাসকদলের জন্য একটি অশুভ সংকেত।
উল্লেখ্য, চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত মো. রাসেল সিকদারের পিতা মৃত মো. আনোয়ার হোসেন সিকদার ছিলেন ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।
এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস