অবশেষে মিয়ানমারে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় মোখা

বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর থেকে মহাবিপদ সংকেত সরিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রবিবার (১৪ মে) বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে,অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা উত্তর উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মায়ানমার উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

খবরে প্রকাশ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা মিয়ানমারের সিতওয়া উপকূলে আছড়ে পড়েছে। বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরত্বে দক্ষিণ মিয়ানমারের উপর দিয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়েছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা।

ইতিপূর্বে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান রবিবার (১৪ মে) দুপুরে আগারগাঁও আবহাওয়া অধিদপ্তর ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা মূল আঘাত হানবে মিয়ানমারের ওপর। যে কারণে বাংলাদেশের জন্য অনেকটাই ঝুঁকি কেটে গেছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখা টেকনাফ থেকে ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরত্বে দক্ষিণ মিয়ানমারের সিটুই অঞ্চল দিয়ে প্রভাহিত হবে। তিনি আরও বলেন ‘ঘূর্ণিঝড়ের মূল ঝুঁকিটা চলে যাবে মিয়ানমার অঞ্চল দিয়ে। টেকনাফ, কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের অঞ্চলগুলো ঝুঁকিমুক্ত হতে চলেছে। এর ফলে শুরু থেকে ঘূর্ণিঝড় মোখা নিয়ে আমাদের যে ঝুঁকির সম্ভাবনা ছিল, এখন আর ততটা ঝুঁকি নেই।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার পিক আওয়ার হবে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা। এ সময়ে দ্রুত বেগে জলোচ্ছ্বাস প্রবাহিত হবে। তখন ঘণ্টায় ১২০-১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে, যা বর্তমানে (সাড়ে দশটায়) রয়েছে ৬০ কিলোমিটার পার আওয়ার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আরও বলেন, বিকেল নাগাদ ঘূর্ণিঝড় মোখা আমাদের অতিক্রম করে গেলেও এর প্রভাব থেকে যাবে আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত। আর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পরিলক্ষিত হবে টেকনাফ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপে। আমরা আশঙ্কা করছি জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা যদি ৮ থেকে ১২ ফিট পর্যন্ত হয়, তাহলে টেকনাফ এবং সেন্টমার্টিনে অস্থায়ীভাবে পানির জলাবদ্ধতা থাকবে। তবে পর্যায়ক্রমে তা কেটে যাবে।

 

এদিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা ভূমি স্পর্শ করার পর বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঝড়ের ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া কয়েক ঘণ্টা ধরে চলবে।.এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ এবং মায়ানমার উপকূলে এটি আরও ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ৭৪ কিলোমিটার কেন্দ্রে বাতাসের গতি ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। টেকনাফে ৮০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ঝড়ো বাতাস বইছে। ক্রমান্বয়ে বাতাসের গতি বাড়ছে সাথে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।

রবিবার (১৪ মে) বিকেল ৩টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করবে। সন্ধ্যা নাগাদ স্থলভাগ পুরোপুরি অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র উপকূলে পৌঁছালে সৌভাগ্যক্রমে ওই সময়েই সমুদ্রে ভাটা শুরু হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়টি প্রথমে সমুদ্রের মধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়ে, পরে স্থলভাগে আঘাত করার সময় প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র মূল কেন্দ্রটি মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে যাবে। এতে বাংলাদেশের কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝুঁকি কমে আসছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে মায়ানমার ও বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায় নি।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »