অস্ট্রিয়ায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ

অস্ট্রিয়া ভৌগোলিকভাবে মধ্য ইউরোপের একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত (ইইউ) দেশ। অস্ট্রিয়ার রাস্ট্রীয় ভাষা জার্মান ভাষা (অস্ট্রিয় জার্মান)

 ভিয়েনা থেকে কবির আহমেদঃ শেনজেন ভুক্ত ইইউ দেশ অস্ট্রিয়ার প্রায় ৬০ শতাংশ পর্বত বেষ্টিত। ইউরোপের বিখ্যাত আল্পস পর্বতমালা জার্মানি ও ইতালির সাথে দেশটির পশ্চিম এবং দক্ষিণাঞ্চল হয়ে স্লোভেনিয়া চলে গেছে। রাজধানী ভিয়েনা বিশ্বের অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক শহর। ভিয়েনা দীর্ঘ বছর যাবত বিশ্বে বসবাসের জন্য সেরা শহর হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অস্ট্রিয়া একটি শীত প্রধান দেশ।

অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশীদের আগমন শুরু হয় স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সাল থেকে। সে সময় প্রবাসীরা আসেন সাধারণত ভিয়েনায় অবস্থিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি এজেন্সিতে (IAEA) চাকরি নিয়ে। তারপর ১৯৮০ এর দশকে প্রবাসীরা অস্ট্রিয়ায় আসেন ট্যুরিস্ট ভিসা ও পোর্ট এন্টি ভিসায়। তাছাড়াও অনেকে আসেন স্কলারশিপ নিয়ে। ১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে মূলত অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় আসতে থাকে প্রবাসীরা। নব্বইয়ের দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ভিসা পদ্ধতি সহজ থাকায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের আগমন ঘটে অস্ট্রিয়ায়।

বর্তমানে অস্ট্রিয়ান সরকারের নিয়মকানুন কঠোর হওয়ার ফলে স্টুডেন্ট ভিসা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। অস্ট্রিয়ায় আসা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের
মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যতীত অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স সমাপ্ত করতে পারে নি। অনেকেই ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে কাজে যোগদান করেন। তবে বর্তমানে ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তন করা যায় না। অর্থাৎ কেহ স্টুডেন্ট ভিসায় আসলে তাকে স্টুডেন্ট হিসাবেই থাকতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী হলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (HSC) পাস হয়ে সরাসরি ব্যাচেলর কোর্সে ভর্তি হওয়া যায় না। বাংলাদেশ থেকে ১২+ শিক্ষার যোগ্যতা থাকতে হবে এবং সেটা চলমান থাকতে হবে অর্থাৎ HSC পাশের পর বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চলমান থাকতে হবে এবং যে যে বিষয়ে পড়াশোনা করবে সে ঐ বিষয়েই অস্ট্রিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবে। অস্ট্রিয়ায় এসে সরাসরি ব্যাচেলর শুরু করা যায় না।

অস্ট্রিয়ার ভাষা যেহেতু জার্মানি,তাই অস্ট্রিয়ায় বিদেশীদের প্রথমে জার্মানি ভাষার ওপর Preparatory Course করতে হয়। তারপর ভাষা কোর্সের একটা Exam নিবে, উপযুক্ত নম্বর পেলেই কেবল ব্যাচেলর ক্লাশ শুরু করা যায়। বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় পড়তে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, অস্ট্রিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে বিনা বেতনে বা স্বল্প বেতনে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ।

University of Vienna ইউরোপের পুরনো ও বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১২০টির বেশি ডিগ্র্রি প্রোগ্রাম পড়ার সুযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২২টি ব্যাচেলর প্রোগ্রাম, ২৯টি মাস্টার্স প্রোগ্রাম, ৪৯টি ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম এবং ২৪টি টিচার অ্যাক্রিডিয়েশন প্রোগ্রাম ছাড়াও ৮০টি ক্ষেত্রে ডক্টরাল প্রোগ্রাম পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব বিষয়ে পড়ানো হয়: অস্ট্রিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাচেলর অব সায়েন্স, মাস্টার অব মার্কেটিং, মেডিকেল সায়েন্স ও মেডিসিন (অ্যানেস্থেসিওলজি, কার্ডিওলজি, ডার্মাটোলজি, ভেনেরোলজি, গাইনোকোলজি, ইসিওনোলজি, কেমোথেরাপি, ইন্ডোক্সিনোলজি, গ্যাস্ট্রোয়েন্টারোলজি, হেমাটোলজি, নেফরোলজি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, অর্থোপেডিক, সার্জারি, প্যাথলজি, রেডিওলজি, ইউরোলজি ইত্যাদি), ডিপ্লোমা ইন ক্রিয়েটিভ আর্টস, একাডেমিক ইংলিশ, ব্যাচেলর অব ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, জেনারেল ইংলিশ, ফটোগ্রাফি কোর্স, ডিপ্লোমা অব কমার্স, ডিপ্লোমা অব প্রপার্টি সার্ভিস, মাস্টার্স অব আর্টস, ডিপ্লোমা অব ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, প্লাস্টিক আর্টস অ্যান্ড ডিভাইস, ফাইন আর্টস, ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন, মিউজিক, ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম, হোটেল অ্যান্ড ক্যাটারিং ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স, ল’, অ্যাকাউন্টিং, মার্কেটিং, ইনফরমেশন সায়েন্স, সোশ্যাল সায়েন্স, টেলিকমিউনিকেশন, কম্পিউটার সায়েন্স, ফিন্যান্স, মিডিয়াসহ আরো অনেক কোর্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

১. উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা: অস্ট্রিয়ায় মোট ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ২১টি এপ্লাইড সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনার্স, মাস্টার্স, ডিপ্লোমা, পিএইচডি ডক্টরাল ও বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স বিদ্যমান। এসব কোর্সেও শিক্ষামান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

এদেশে অনার্স কোর্সের মেয়াদ তিন থেকে চার বছর, মাস্টার্স কোর্স এক থেকে দুই বছর এবং পিএইচডি তিন থেকে চার বছর মেয়াদি হয়ে থাকে।
অস্ট্রিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত বছরে ২ বার আবেদন করা যায়। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন এ দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।
এদেশে অধিকাংশ কোর্স জার্মানি ভাষায় পড়ানো হয়।

তবে ২০০টির মতো ইংরেজি কোর্সও রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। যদি কেহ জার্মানি ভাষায় পড়াশোনা করতে চায়, তাহলে জার্মানি ভাষা জানা বাধ্যতামূলক। অনেক অস্ট্রিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ই বিদেশী ছাত্রদের জার্মানি ভাষার ওপর কোর্স করায়। আবার কেহ চাইলে বাংলাদেশ থেকেও জার্মানি ভাষা শিখে যেতে পারে।

২. কাজের সুযোগ: ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অন্যান্য দেশের মতো এদেশেও শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা খন্ডকালীন কাজ করতে পারে। তাছাড়া ছুটির সময় ফুলটাইম কাজ করা যায়। এখানে বিভিন্ন রেস্তোরা, শপিংমল, হোটেলে কাজ করতে পারবেন। জার্মানি ভাষায় পারদর্শী হলে
শিক্ষার্থীরা সহজেই কাজ পেয়ে যায়।

৩. বিনা বেতনে বা স্বল্প খরচে পড়ার সুযোগ: ইউরোপের যেসব দেশে স্বল্প খরচে পড়াশোনা করা যায় তার মধ্যে অস্ট্রিয়া অন্যতম। অস্ট্রিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার টিউশন ফি দিতে হয় না, ক্ষেত্র বিশেষে লাগলেও সেটা খুবই সামান্য। তবে ভর্তির সময় রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাপ্লিকেশন ফি বাবদ কিছু ইউরো দিতে হবে। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিছু কোর্সের ক্ষেত্রে টিউশন ফি দিতে হয়, তবে তা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।

৪. স্থায়ী বসবাসের সুযোগ: পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীরা চাকরি খোঁজার জন্যে ছয় মাসের একটি জব সার্চ ভিসা পায়। এছাড়া স্থায়ীভাবে বাস করতে চাইলে নূন্যতম পাঁচ বছর বৈধভাবে একটানা বাস করার প্রমাণপত্র দেখিয়ে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির (পিআর) জন্য আবেদন করতে পারে।

আরও কিছু তথ্য: অস্ট্রিয়ায় ব্যাচেলর কোর্স সাধারণত জার্মানি/ডয়েচ ভাষায় করতে হয়। ব্যাচেলর কোর্স এর জন্য জার্মানি/ডয়েচ B2 লেভেল সম্পন্ন করতে হবে। ল্যাংগুয়েজ কোর্স বাংলাদেশেও করা যায় অথবা অস্ট্রিয়াতে এসেও করা যায়। বাংলাদেশে সম্পন্ন না করলে প্রথম একবছর অস্ট্রিয়াতে জার্মানি ভাষা পড়ার পরে ব্যাচেলর কোর্স করতে হবে।

অস্ট্রিয়ার প্রধান পড়াশুনার ভাষা জার্মানি হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজী ভাষায় কোর্সও রয়েছে। যদি কেহ ব্যাচেলর প্রোগ্রামে যেতে চায় তাহলে HSC + ১ বছর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে হবে। সেই সাথে ন্যূনতম ৫০% মার্ক্স অর্জন করতে হবে। যদি কেহ মাস্টার্স প্রোগ্রামে যেতে চায়, তাহলে ব্যাচেলর ডিগ্রী আর পিএইচডি প্রোগ্রামে যেতে মাস্টার্স ডিগ্রী থাকতে হবে।

অস্ট্রিয়ায় মোট ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ২১টি এপ্লাইড সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের লিস্ট নিচে দেওয়া হলঃ

University of Vienna | http://www.univie.ac.at
Vienna University of Technology | http://www.tuwien.ac.at
Medical University of Vienna | http://www.mediuniwien.ac.at
University of Graz | http://www.uni-graz.at
Graz University of Technology | http://www.tugraz.at
University of Innsbruck | http://www.uibk.ac.at
Vienna University of Economics and Business | http://www.wu.ac.at/

কোর্স খুঁজতে নিম্মোক্ত ওয়েবসাইটের সাহায্য নেয়া যেতে পারে।

http://www.studienwahl.at/Content.Node/homepage.en.php

অস্ট্রিয়ার সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে জার্মানি ভাষা শিখতে প্রতি সেমিস্টার আনুমানিক ৪৫০-৫০০ ইউরোর মত লাগতে পারে। তবে প্রাইভেট বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেটা অনেক বেশি ( ১৫০০-২৫০০ ) ইউরোর মত লাগতে পারে।

অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য IELTS অত্যাবশ্যকীয় নয়, তবে ভিসা আবেদনের পূর্বে অবশ্যই IELTS স্কোর ৫.৫ থাকতে হবে। মাস্টার্স কোর্স ইংরাজি ও জার্মানি ভাষাতে আছে। ইংরাজিতে পড়াশোনার জন্য IELTS ৬/৬.৫ থাকতে হবে।

ডকুমেন্টস সত্যায়ন: সকল একাডেমিক কাগজপত্র সত্যায়িত করতে হবে যথাক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অস্ট্রিয়ান দূতাবাস দ্বারা। মন্ত্রণালয় থেকে কাগজপত্র সত্যায়ন করার পর যখন এগুলো জমা করা হয়, তখন দূতাবাস কনস্যুলেট সেগুলোকে VFS ঢাকা অফিসে পাঠাবে এবং এর ফি বাবদ প্রায় ৪৩,১২০ টাকা থেকে ৪৭,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এরপর সকল কাগজপত্র যাচাই বাছাই করার পর VFS সেটা পুনঃরায় দূতাবাসে পাঠাবে এবং তারপর দূতাবাস কনস্যুলেট তা সত্যায়িত করবে। এখানে উল্লেখ্য যে,অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাস থাকলেও বাংলাদেশে অস্ট্রিয়ার দূতাবাস নাই। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত অস্ট্রিয়ান দূতাবাস একই সাথে বাংলাদেশের কাজ করে থাকে। তবে ঢাকায় দিল্লি অস্ট্রিয়ান দূতাবাসের হয়ে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান কনস্যুলেটের কাজ করে থাকে।

ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া: অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সাধারণত দুই সেমিস্টার থাকে। প্রথমটি ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে আর পরেরটি মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকে। অস্ট্রিয়ার ভর্তি, অফার লেটার, ডকুমেন্ট এটাসটেশন, ভিসা- পুরো প্রসেস অনেক সময় সাপেক্ষ (৬ থেকে ১২ মাস)। তাই আগে ভাগেই কাজ শুরু করতে হয়।

ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা নীচে দেওয়া হলঃ

১। পূরণকৃত আবেদন ফর্ম

২। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট এর সত্যায়িত কপি

৩। আইইএলটিএস (ন্যূনতম ৬.০) / জার্মান B2 সনদ

৪। এন আই ডি/পাসপোর্ট কপি

৫। মোটিভেশন লেটার/ সিভি/ রেফারেন্স লেটার

৬। কাজের অভিজ্ঞতা/ রিসার্স পেপার (যদি প্রয়োজন হয়)

অস্ট্রিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার টিউশন ফি দিতে হয় না, তবে সেমিস্টার ফি প্রায় ১৯ ইউরো দিতে হয়। তবে ভর্তির সময় রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাপ্লিকেশন ফি বাবদ কিছু ইউরো দিতে হয়। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিছু কোর্সের ক্ষেত্রে টিউশন ফি দিতে হয়, তবে তা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। আবেদন করার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় – এর সাথে মেইল করে এর এডমিশন ও টিউশন ফি বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়াই ভালো।

আর্থিক সচ্ছলতার প্রমান/ব্যাংক সলভেন্সি সনদ: ব্যাংক সলভেন্সির জন্য শিক্ষার্থীদের একাউন্টসে ৫৮৯৭.১৬ ইউরো (শিক্ষার্থী যদি ২৪ বছরের নীচে হয়) অথবা ১০৬৭৮.০৮ (শিক্ষার্থী যদি ২৪ বছরের বেশি হয়) ইউরো।

শিক্ষার্থীদের স্পন্সর মা-বাবা-স্ত্রী থেকে যেকোন আত্মীয় হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে অর্থের উৎস, ট্যাক্সের ডকুমেন্ট সকল কিছু ভিসার জন্য জমা দিতে হবে। স্পন্সর যদি আস্ট্রিয়ায় বসবাস করে তবে আরো ভালো। ভিসা পাওয়ার পর শিক্ষার্থী চাইলে এই অর্থ তুলে ফেলতে পারবে।

ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া: বাংলাদেশে অস্ট্রিয়ান দূতাবাস না থাকা ভিসার জন্য শিক্ষার্থীদের দিল্লি যেতে হবে। এজন্য প্রথমেই শিক্ষার্থীদেরকে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। যে সকল কাগজপত্র জমা দিতে হবে তার মূল কপির সাথে ২ সেট ফটোকপিও নিয়ে যেতে হবে।

ডকুমেন্ট চেকলিস্টঃ

১। পূরণকৃত আবেদন ফর্ম ও সাথে সংযুক্ত পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৩৫ মিমি x ৪৫ মিমি)

২। এপয়েন্টমেন্ট লেটার আর এপন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুনঃ

https://appointment.bmeia.gv.at/?Office=new-delhi
৩। পাসপোর্ট

৪।ইউনিভার্সিটি অফার লেটার

৫। সিভি বা জীবন বৃত্তান্ত/ মোটিভিশন লেটার

৬। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশীট এর সত্যায়িত কপি

৭। আইইএলটিএস বা জার্মান ভাষাগত দক্ষতার সার্টিফিকেট

৮। টিউশন ফি পেমেন্ট-এর কপি

৯। ট্রাভেল হেলথ ইনস্যুরেন্স

১০। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কনসুলেট অফিস কর্তৃক সত্যায়িত)

১১। একোমোডেশ ন কনফার্মেশন লেটার

১২। বার্থ সার্টিফিকেট (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং কনসুলেট অফিস কর্তৃক সত্যায়িত)

১৩। জব এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট (মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য)

১৪। স্পন্সের এফিডেভিড পেপার

১৫। স্পন্সর যদি ব্যবসায়ী হয়, তাহলে

৬-মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
ট্রেড লাইসেন্স
আপডেটেড TIN ও ট্যাক্স রিটার্ন পেপার
স্পন্সর চাকুরিজীবি হলে প্রয়োজন হবে।

আই,ডি ও স্যালারী উল্লেখপূর্বক জব সার্টিফিকেট
জব আই,ডি কার্দের কপি
৬-মাসের স্যালারী স্টেটমেন্ট
১৬। স্পন্সরের একাউন্ট থেকে এপ্লিকেন্টের একাউন্টে টাকা পাঠানোর পেমেন্ট প্রুফ।

১৭। এপ্লিক্যান্টের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

Visa Application – Austria
Source: Internet
অস্ট্রিয়ান দূতাবাস নিউ দিল্লির ঠিকানাঃ

Austrian Embassy New Delhi

EP-13, Chandragupta Marg Chanakyapuri New Delhi 110 021 India

T: (+91/11) 2419 2700
F: (+91/11) 2688 6929
e-mail: new-delhi-ob(at)bmeia.gv.at

Opening hours: Mo – Th 08:30 – 17:00

তথ্যসূত্র: বিভিন্ন ওয়েব সাইট ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী

নির্বাহী সম্পাদক আন্তর্জাতিক/ইবিটাইমস/এম আর 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »