আশ্রয় আবেদনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে ১২ হাজার আশ্রয়প্রার্থীর সাক্ষাৎকার না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার
ইউরোপ ডেস্কঃ ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত অনলাইন পোর্টাল ইনফোমাইগ্র্যান্টসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পত্রিকাটি জানায় আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের পরিবর্তে তথ্য চেয়ে একটি প্রশ্নপত্র প্রদান করা হবে, যেখানে আশ্রয়প্রার্থী তার বিস্তারিত বিবরণ পেশ করবেন৷ সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে আশ্রয়ের আবেদনের পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করা হবে ৷
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানায় বলে ইনফোমাইগ্র্যান্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বৃটিশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, আশ্রয়প্রার্থীদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে৷ আর যে সকল আশ্রয়প্রার্থী প্রশ্নপত্রের উত্তর প্রদান করতে পারবে না তাদের আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে ৷
মন্ত্রণালয়েরে এক মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমরা আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চাই যেন আবেদনকারীদেরকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে না হয়, যে সময়ে জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ হয়৷ তাছাড়া এর লক্ষ্য হলো, যাদের এ দেশে থাকার আইনি যৌক্তিকতা নেই, তাদেরকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো ৷’’
সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের শেষ পর্যন্ত আশ্রয়ের জন্য যুক্তরাজ্যে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৯১৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী আবেদন করেছেন৷ আবেদেনের এই সংখ্যা গত তিন বছর আগের অর্থাৎ, ২০১৯ সালের তুলনায় তিনগুণ বেশি ৷
এই পরিস্থিতিতে সরকার আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়৷ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিরিয়া, ইরিত্রিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া এবং আফগানিস্তান থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের বেলায় নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে৷ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশালসংখ্যক আবেদেনের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৷
এদিকে বৃটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্রে মোট ৫০টি প্রশ্ন থাকবে এবং আশ্রয়প্রার্থীকে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে এর উত্তর জমা দিতে হবে৷ প্রশ্নপত্রের ভাষা হবে ইংরেজি৷ তবে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, যুদ্ধ ও নিপীড়ণ থেকে পালিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা তত ভালো না-ও হতে পারে ৷
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস