ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ স্কুলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নেই শহীদ মিনার। ফলে ২১ ফেব্রæয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও শহীদদের স্মরণে ফুল দিতে পারে না স্কুলে পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। শহীদদের সম্মান জানাতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বানিয়েছেন অস্থায়ী শহীদ মিনার। আর তাতে ব্যবহার করা হয়েছে কলাগাছ,মাটি,রঙিন কাগজ। পরে নানারকম ফুল অর্পণ করে শ্রদ্ধাও জানানো হয়েছে। তাদের এমন কাজে হতবাক স্থানীয়রা। শুধু শিক্ষার্থীরাই না,ফুল দিয়েছেন শিক্ষক-এলাকাবাসীরাও। এমন ঘটনার জন্ম ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মহিষাডাঙ্গা গ্রামের ৯৯ নং এম সি পি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
জানা যায়, স্কুলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন ১৯৭২ সালে। তবে এত বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত জোটেনি শহীদ মিনার। তাতে বিগত বছরগুলোতেও শহীদদের স্মরণে ফুল দিতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। তবে এবছর আর থেমে থাকেনি তারা। স্থানীয় যুবক ইয়াসিন আরাফাতের সাহায্যে তৈরি করেছে শহীদ মিনার।
শহীদদের প্রতি এমন শ্রদ্ধা দেখে আবেগ আপ্লুত স্থানীয়রা। তাদের দাবি অতিদ্রত স্কুলটিতে যেন একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। শিক্ষার্থীরা এমন কাজে খুশিতে যেন আটখানা শিক্ষার্থীরা। অতিসত্ত¦র শহীদ মিনার নির্মাণের দাবী তাদের।
স্থানীয় যুবক ইয়াসিন আরাফাত বলেন, বিগত বছরগুলোতে এই স্কুলে শহীদ মিনার না থাকার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেনি। তাই এ বছর উদ্যেগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগীতায় কলাগাছ,মাটি,রঙিন কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে তাতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
৯৯ নং এম সি পি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) নরেন্দ্রণাথ মন্ডল বলেন, স্কুলটিতে শহীদ মিনার না থাকায় প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা শহীদদের সম্মান জানাতে পারে না। তবে এবার তারা নিজ উদ্যেগে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়েছে। তাতে শিক্ষক-এলাকাবাসী সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ অতিদ্রæত যেন আমাদের স্কুলে একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া আক্তার চৌধুরী বলেন, যেহেতু স্কুলটিতে কোন শহীদ মিনার নেই। যার কারণে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যেগে শহীদ মিনার বানিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এমন কাজকে সাধুবাদ জানাই।
শেখ ইমন/ইবিটাইমস