বাংলাদেশের সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের নোটাবেঁকী অভয়ারণ্য অঞ্চল থেকে বাঘ গণনার কাজে বসানো আটটি ক্যামেরা নিয়ে গেছে দুর্বত্তরা
বাংলাদেশ ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) একেএম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বিষয়টি বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে বনবিভাগের কর্মকর্তারা।
বনবিভাগ জানান, সুন্দরবনে বাঘ শুমারি (গণনা) ২০২৩ শুরু করা হয়েছে বেশ কিছুদিন পূর্বে। ক্যামেরা ট্রাকিং পদ্ধতি ব্যবহার করে গণনার কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য ক্যামেরা ট্রাকিং গ্রুপ সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে গাছে গাছে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ করছে। এর মধ্যে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে মোট ৩৭৬টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে নোটাবেঁকী অভয়ারণ্য অঞ্চলে স্থাপিত আটটি ক্যামেরা চুরি হয়ে গেছে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) একেএম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘ক্যামেরা চুরি হওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি আমাদের নজরে এসেছে। কবে চুরি হয়েছে তা এখনো জানতে পারিনি।’ ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় পশ্চিম সুন্দরবনের দুটি স্টেশন দিয়ে জেলেদের বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সম্প্রতি সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী ও কদমতলা স্টেশন দিয়ে জেলেদের অনুকূলে পাস (অনুমতিপত্র) দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশনের মধ্যে কোবাদক ও বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন দিয়ে জেলেদের সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ক্যামেরা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হলে বন্ধ স্টেশন দুটির জন্য পাস দেওয়া শুরু হবে।
সুন্দরবনের মোট আয়তন ১০,০০০ বর্গ কি.মি.। তারমধ্যে বাংলাদেশে আছে ৬,০১৭ বর্গ কি.মি.। বাকীটা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২৪ পরগনা জেলায়। সুন্দরবনের মোট আয়তেনের শতকরা যে ৬২ ভাগ বাংলাদেশে রয়েছে,তা খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে রয়েছে।
সুন্দরবনে মোট অভয়ারণ্য আছে তিনটি। সুন্দরবনের ভিতরে প্রবাহিত প্রধান নদী দুইটি যথা- হাড়িয়াভাঙ্গা ও রায়মঙ্গলা। সুন্দরবনের পূর্বে এবং পশ্চিমে যথাক্রমে প্রবাহিত নদী পূর্বে বালেশ্বর ও পশুর এবং পশ্চিমে রায়মঙ্গলা।
সুন্দরবনের অপর নাম বাদাবন, গরান বন। সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী গাছ এবং এই গাছ প্রায় ৭০% সুন্দরবন ব্যাপী বিস্তৃত আছে। ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর UNESCO সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ৭৯৮ তম ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করে।
কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস