ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ প্রতি মাসে শতকরা ১৫ থেকে ৩০ টাকা সুদ হিসেবে দিতে হয় মহাজনদের। তাহলেই পাওয়া যায় টাকা। মাস শেষে সুদের টাকা দিতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বৃদ্ধি পায়। পরে তা দিতে পারলে মাঠের জমি, গরু এমনকি বসতভিটা পর্যন্ত লিখে দিতে হয় সুদ কারবারীদের নামে। কৌশলে আসল আর সুদ একসাথে মিলিয়ে টাকা ধার হিসাবে ষ্ট্যাম্পেও লিখে নেয়। কখনো কখনো ব্যাংকের ব্যাংক চেকও নিয়ে থাকে। ফলে সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে কিুছুই করার থাকে না। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখও খুলতে পারে না।
এমন প্যাঁচে পড়ে সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এরই মধ্যে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। অন্যদিকে ফুলে ফেঁপে বড় হচ্ছে আরেক শ্রেণির মানুষ। সুদ কারবারি গাড়ি-বাড়ি সহ লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। এমন ঘটনা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার। ভূক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬ সুদ কারবারিকে আটক করেছে শৈলকুপা থনাা পুলিশ। আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক চেক ও স্টাম্প উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সুদ কারবারিদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলেন, শৈলকুপা উপজেলার হরিহরা গ্রামের মৃত আব্দুল বিশ্বাসের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, ব্রাহিমপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ মোল্লার ছেলে আমজাদ হোসেন মোল্লা, বারইপাড়া গ্রামের মৃত আবুল শেখের ছেলে রহিম শেখ, শেখপাড়া গ্রামের শহর আলী শেখের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান,ভাটই বাজারের আব্দুস সালামের ছেলে পলাশ হোসেন,চাঁদপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে পিয়ার আলী।
এদিকে শৈলকুপায় সুদ কারবারিদের আটকের ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা জানিয়েছেন সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকুক।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করেই এই জনপদে সুদ কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শেখ ইমন/ইবিটাইমস