জাহিদ দুলাল, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: মোসা. ময়ফুল বেগম। বয়স ৪৫। লালমোহন পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকার সাগু গাছের নিচে একটি টং দোকান করেন তিনি। যেখানে বিক্রি করেন চা, সিগারেট, পান, কলা ও রুটি। যা দিয়ে কোনো রকমে চলে ময়ফুল বেগমের সংসার।
বিগত প্রায় এক বছর ধরে ওই স্থানে প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত দোকান করছেন তিনি। ময়ফুল বেগম প্রতিদিন গড়ে তার দোকানে বিক্রি করতে পারেন এক হাজার টাকার মত। সেখান থেকে আয় হয় দুই থেকে আড়াই শত টাকা। ময়ফুল বেগম ভোলার লালমোহন উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাদের বাড়ির বাসিন্দা।
তিনি বলেন, স্বামী অনেক আগ থেকেই অসুস্থ্য। তার পায়ের ও মাজার হাড়ে ক্ষয় ধরেছে। ভিক্ষা করলে মানুষ খারাপ চোখে দেখে। তাই বাধ্য হয়েই নিজে খুঁজে নিয়েছি কর্ম। তবে এই দোকান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে খুব টানাপোড়নে চলে সংসার। তিন বেলা ভাত খেতেই যেখানে কষ্ট করতে হয়, সেখানে আবার স্বামীর প্রতি সপ্তাহে দরকার হয় প্রায় এক হাজার টাকার ওষুধের। শুধু স্বামীরই নয়, আমিও প্রায় দেড় মাস আগে স্ট্রোক করেছি। ডাক্তার দেখানোর পর তিন মাসের জন্য যে ওষুধ দিয়েছে, তাও টাকার অভাবে কিনতে পারছি না। তাই নিজের ওষুধ না কিনে স্বামীর ওষুধই অনেক কষ্ট করে কিনছি, তাকে কিছুটা হলেও সুস্থ্য রাখার জন্য।
ময়ফুল বেগম আরো বলেন, এত কষ্টের পরেও সংসারে সব সময় অভাব অনটন লেগেই থাকে। স্বামী প্রতিবন্ধি ভাতা পায়। তবে সেখান থেকে যা অর্থ দেয় তা দিয়েও কোনোভাবেই সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পারছি না। তাই আমার দাবী সরকারি যে চাল দেয়া হয়, সেখানে যেন আমার একটি নাম দেয়া হয়। এতে করে অন্তত মাস শেষে চালের চিন্তাটা কমবে। আর বিত্তবানদের কাছে দাবী; আমার আর স্বামীর চিকিৎসায় তারা যেন মানবিক দিক থেকে এগিয়ে আসেন।
লালমোহন/ইবিটাইমস