ঢাকা প্রতিনিধি: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ এরইমধ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠি, বন্দুক, টিয়ারশেল দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। বিএনপির নয় সরকারের কোমর ভেঙে গেছে। আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পুলিশ ও অস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ছাত্রসমাবেশ বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ সমাবেশের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈরাজ্য তৈরি করেছে সরকার। ভোটাধিকার রক্ষায়, গণতন্ত্রের জন্য মানুষ যখন জেগে উঠতে শুরু করেছে, তখন আন্দোলন দমন করার জন্য সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গিয়ে সমানে মিথ্যাচার করছে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে। তাদের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় এই কথা শুনে বাংলাদেশের মানুষ হাসছে। পনের বছর ধরে অত্যাচার, নির্যাতন করা হচ্ছে। দায়িত্ব একটাই সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সরকারকে পরাস্ত করতে হবে।
ফখরুল বলেন, লাঠির জবাব, লাঠি দিয়েই দিতে চায় বিএনপি। মাঠের রাজনীতিতে আর কোন ছাড় না দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
সমাবেশে ফখরুল বলেন, কোমর ভেঙে গেছে আওয়ামী লীগের। তাই মিথ্যাচারে নেমেছেন ক্ষমতাসীনরা। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু লাঠি নয়, রাম দা, কুড়াল নিয়ে নিয়েছে। এছাড়া আপনাদের কোনো উপায় নেই। পুলিশের বন্দুকের ওপর ভর করে আছেন। আপনারা জনগণের সঙ্গে নেই। সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছেন।
তিনি বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিটিং, মিছিলে ও ছাত্রদের ওপর লাঠি, বন্দুক, টিয়ারগ্যাস দিয়ে আক্রমণ করা শুরু করে দিয়েছে। তার মানে তারা এরই মধ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে।
এদিকে সমাবেশকে ঘিরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তার বলায় গড়ে তুলেছেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এমএইচ