ঢাকা প্রতিনিধি: বিনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চলমান আন্দোলনে ভীত হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পুলিশ বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করার নামে হয়রানি করছে।
বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমিটির তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ সংবিধান, ফৌজদারী কার্যবিধি, পুলিশ আইন বা পুলিশবিধি কিংবা অন্য কোনো আইন দ্বারা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম একদিকে যেমন নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে, তেমনই নাগরিকের আইনি অধিকার ভোগ করা এবং তাঁর ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে প্রতীয়মান হয়।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘চলমান অবস্থায় প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশ বিএনপিসহ ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনের উদ্দেশে গণহারে শুধু নাম ঠিকানা নয়, তাদের পেশা, সন্তান-সম্পত্তির বিবরণ আত্মীয়-স্বজনদের যাবতীয় বিষয়, তথ্যসংগ্রহ করছে।’
‘পুলিশের কর্মকাণ্ড দেশে বিরাজমান আতঙ্কের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে’ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি এই অবস্থার অবসান চায়। আমরা পুলিশ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি, এভাবে সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন।’
এদিকে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বধ্যভূমি। আওয়ামী দুঃশাসন এখন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। মুন্সীগঞ্জে জেলা বিএনপির সমাবেশে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নেতাকর্মীদেরকে হত্যা ও জখমের প্রতিবাদে কেন্দ্রের পূর্ব ঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে আজ বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের মুক্তারপুরে সদর উপজেলা বিএনপির সমাবেশে জনগণ ও নেতাকর্মীরা জমায়েত হলে বিনা উসকানিতে পুলিশ হামলা চালিয়ে ও নির্বিচারে গুলি করে শতাধিক নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করেছে। আহতদের মধ্যে বিএনপি নেতা শাওন, যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর, ছাত্রদল নেতা তারিক, বিএনপি কর্মী শিপন, তপন, রুবেল, সোহেল, হাফিজুল, হাসান গুলিবিদ্ধ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে অনেককেই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রিজভী বলেন, ‘পুলিশের এই নির্মম হামলায় সাংবাদিকরাও রেহাই পায়নি। এই কর্মসূচি ছিল অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে জনগণ ভয়াবহ দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে নিপতিত হয়েছে। সুতরাং, জনগণের দাবির প্রতি সংহতি জানাতেই বিএনপির কর্মসূচির ওপর সরকারের পেটোয়া বাহিনী ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে।’
বিএনপির নেতা বলেন, ‘আজকে মুন্সীগঞ্জের ঘটনা তার জঘন্য বহিঃপ্রকাশ। এরা বিএনপির নারী-পুরুষ কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না।’
ঢাকা/ইবিটাইমস/এমএইচ