ভোলায় বেড়েছে শিশুদের নিউমোনিয়া, এক সপ্তাহে আক্রান্ত শতাধিক

ভোলা থেকে নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভোলায় ছড়িয়ে পড়েছে শিশুদের নিউমোনিয়া। জেলার সাতটি হাসপাতালে এখন শিশু রোগীদের চাপ। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

এদিকে বেড সংকট থাকায় এক বেডে গড়ে ২/৩ জন রোগীকে করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে শিশুদের নিয়ে উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

গত এক সপ্তাহে জেলায় দুই শতাধিক রোগী ভর্তি হলেও  ১১০টি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তবে চিতিৎসকরা বলছে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে শিশুদের নিউমোনিয়া বেড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,  তীব্র গরমের পর গত এক সপ্তাহ ধরে দ্বীপজেলা ভোলার উপর দিয়ে টানা বর্ষন বয়ে গেছে। এতে শিশুদের জ্বর, সর্দি,কাশি,শ্বাষকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালে চিতিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে বেশীরভাগই নিউমোনিয়া আক্রান্ত যাদের ভোলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর মা ফেরদৌসী বেগম বলেন, ২ দিন ধরে নিউমোনিয়া আক্রান্ত  ৪ মাসের  শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে রয়েছি। আমাদের বেডে ৩ জন রোগী কষ্ঠ হচ্ছে তবুও বাধ্য হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

আরেক অভিভাবক মিনারা আক্তার বলেন, হঠাৎ করেই শিশুদের নিউমোনিয়া বেড়েছে, আমরা সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু রোগীদের চাপ। শিশুকে নিয়ে তাদের মা-বাবারা বসে আছেন। একদিকে গরম অন্যদিকে একটি বেডে গড়ে ২/৩ করে করে রোগী চিকিৎনা নেয়ায় পরিস্তিতি অনেকটা সামলে নিতে পারছেন না তারা। তবুও সন্তানের চিকিৎসার কথা মাথায় রেখে কস্ট সহ্য করেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ রকম ভোগান্তির কথা জানালেন কয়েকজন অভিভাবক। তবে ডাক্তার নার্সরা ঠিকমত  চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

শিশু ওয়ার্ডের তথ্য মতে জানা গেল, ২০ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৮২ টি শিশু। যাদের মধ্য নিউমোনিয়া আক্রান্ত ছিলো ৭৯ জন।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৮ জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৫৪ জন। যাদের বেশীরভাগ নিউমোনিয়া আক্রান্ত।

শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্সরা জানালেন, যারা চিকিৎসা নিতে আসছেন তাদের বেশীরভাগ নিউমোনিয়া আক্রান্ত। আমাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে শুধু ভোলা সদর হাসপাতাল নয়,  জেলার সাত হাসপতালের যেন একই চিত্র। হঠাৎ করেই শিশুদের নিউমোনিয়ার প্রকোপড়ে যাওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। এ অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হিশশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। কয়েকদিনের টানা বর্ষন, প্রচন্ড গরম আর আবহাওয়া পরিবর্তন  কারনে শিশুদের অসুখ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানালেন ২৫০ শয্যার জেনালের হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ তামান্না হাবিবা।

তিনি বলেন, শিশু ওয়ার্ডে যেসব রোগী ভর্তি হচ্ছে, তাদের বেশীরভাগ নিউমোনিয়া আক্রান্ত। আমরা তাদের সেবা দিচ্ছি। হাসপাতালে কোন ওষুধের সংকট নেই। তবে ডাক্তার-নার্স সংক থাকায় চিকিৎসা সেবা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা সাধ্যমত চিকিৎসা দিচ্ছে। বর্তমানে নিউমোনিয়া পরিস্তিতি বেশীর হওয়ার কারন হতে পারে আবহাওয়া পরিবর্তন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত এক মাসে জেলায় ৩৮৫টি শিশু নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে মারা গেছে ৪জন। গত এক সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছে ১১০ টি শিশু। গত ৮ মাসে যার সংখ্য দাড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৮০ জন। যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৭ টি শিশুর।

মনজুর রহমান/ইবিটাইমস/এম আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »