চির নিদ্রায় শায়িত হলেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

বাংলাদেশ ডেস্কঃ প্রখ্যাত সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’-এর রচয়িতা আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীকে শনিবার (২৮ মে) বিকালে, মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশিষ্ট এই বাংলাদেশি-ব্রিটিশ লেখক ও কলামিস্টের দাফন সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় দৈনিক প্রথম আলো জানিয়েছে ভাষা আন্দোলন ও একুশের প্রতীক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাঁর ছেলে অনুপম আহমেদ রেজা চৌধুরী বলেন, তাঁর বাবা বাংলাদেশকে খুবই ভালোবাসতেন। তিনি জানতেন, বাংলাদেশের মানুষও তাঁকে অনেক ভালোবাসেন। তিনি সব সময় বলতেন, এ দেশেই যেন তাঁকে মাটি দেওয়া হয়। সে জন্যই তাঁকে লন্ডন থেকে দেশে নিয়ে আসা হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী মরহুম গাফ্ফার চৌধুরীর মরদেহ বিমানবন্দর থেকে প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে, দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তার নামাজে জানাজার আগে, জাতীয় প্রেসক্লাবের (জেপিসি) সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ও যুগ্ম সম্পাদক মাইনুল আলম সাংবাদিকতাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে গাফ্ফার চৌধুরীর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

নামাজে জানাজা শেষে, জেপিসির ব্যবস্থাপনা কমিটি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান জাহিদ তুষার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) গাফফার চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

তাছাড়াও, প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধিরা, গাফ্ফার চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান বলেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন।

এখানে উল্লেখ্য যে,গত বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থানময় মারা যান আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন যাবত দূরারোগ্য কিডনি জনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

আজ সকাল ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারের পক্ষে তাঁর মরদেহ গ্রহণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ সময় কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »