ভিয়েনা ১১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এবার নতুন আইসিসির দাবি পাকিস্তানের গাজায় শান্তি প্রচেষ্টা এবং লিবিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তুরস্ক ও মিশর একসাথে কাজ করছে – এরদোগান “আপনি হৃদয়ের প্রধানমন্ত্রী”, আমাদের ভোলা-বরিশাল সেতু করে দেবেন-বরিশালে তারেক রহমানকে পার্থ বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ওপর জামায়াতের হামলা, আহত-৮ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধর, জরুরি বিভাগ ২ ঘণ্টা বন্ধ প্রচারণায় বাধার অভিযোগে টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন ১২ তারিখে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ এসেছে : জামায়াত আমীর জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে ছোট-বড় সকলেই বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া পাবে : মুজিবুর রহমান দেশে ইনসাফ কায়েম করতে চাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বর্ষা নিক্ষেপে স্বর্ণপদক পেলাে ঝালকাঠির মেয়ে ফারজানা

অস্ট্রিয়ায় আবারও করোনার নতুন প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৬:০০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মে ২০২২
  • ২৯ সময় দেখুন

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসাবে অস্ট্রিয়ায় করোনার ওমিক্রনের নতুন ধরণ বা ভ্যারিয়েন্ট BA.4 এবং BA.5 শনাক্ত

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ সহ সকল জাতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন অস্ট্রিয়া কোভিড-১৯ এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা ধরণ ওমিক্রন BA.4 এবং  BA.5 ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোহানেস রাউখ (গ্রিনস) আজ বুধবার (৪ মে) রাজধানী ভিয়েনায় জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ায় কোভিড-১৯ এর ওমিক্রোনের নতুন ধরণ BA.4 এবং BA.5 শনাক্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপের মধ্যে অস্ট্রিয়ায় এই ধরণ প্রথম শনাক্ত হল।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় শুধুমাত্র রাজধানী ভিয়েনাতেই ৩০ জনের শরীরে উপরোক্ত ভাইরাস সমূহ শনাক্ত হয়েছে। অস্ট্রিয়ার Salzburg এবং Steiermark রাজ্যেও এই নতুন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এপিএ আরও জানান সম্ভবত বর্তমানে এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট সমগ্র অস্ট্রিয়াতেই ছড়িয়ে পড়েছে।

অস্ট্রিয়া সবেমাত্র করোনার বিভিন্ন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের শুরুর মধ্যেই এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব সরকারকে আবার নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোহানেস রাউখ পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখার কথা জানিয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার সুপারমার্কেটে বাধ্যতামূলক FFP2 মাস্ক পড়ার নিয়ম উঠিয়ে দেয়ার জন্য ইতিমধ্যেই অস্ট্রিয়ার শ্রমিক ইউনিয়ন সহ সুপার মার্কেট মালিক কর্তৃপক্ষ জোড়ালো আবেদন জানিয়েছেন। এরই মধ্যে করোনার এই ওমিক্রন BA.4 এবং BA.5 এর নতুন প্রাদুর্ভাবের বিস্তার লাভের খবরে পুনরায় জনমনে কিছুটা আতঙ্ক ও হতাশার ছাপ ফুটে উঠছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা “হু”কয়েক সপ্তাহ পূর্বেই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের এই নতুন ধরণ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী এক নতুন সতর্কতা দিয়েছিল। “হু” আরও জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ পূর্ব এই নতুন ধরণ দুইটি প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান করোনার সংক্রমণের শতকরা ৩৫ শতাংশই এই নতুন ধরণের কারনে।

অস্ট্রিয়ার শীর্ষ সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ আন্দ্রিয়াস বার্গথালার রাস্ট্রায়ত্ব টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারনে বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার পঞ্চম প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট অস্ট্রিয়ায় এসেছে।

তিনি আশঙ্কা করে বলেন, এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট অস্ট্রিয়াতেও খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে অস্ট্রিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে। অস্ট্রিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদিন কয়েক শতাধিক মানুষ আসা যাওয়া করছে। ফলে অস্ট্রিয়াও এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করা,অসম্ভব কিছু না। তবে ধারণা করা হচ্ছে নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তার লাভ করলেও সরকার আপাতত কোন নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করবে না।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় করোনায় নতুন করে সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৬,৭৬০ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ২,২৩৯ জন।

অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ১,৩৫৫ জন, OÖ রাজ্যে ১,১৮৬ জন, Steiermark রাজ্যে ৬১০ জন, Tirol রাজ্যে ৩৫৭ জন, Salzburg রাজ্যে ৩৪১ জন, Vorarlberg রাজ্যে ২৪৭ জন, Kärnten রাজ্যে ২১৪ জন এবং Burgenland রাজ্যে ২১১ জন নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ১৩২ জন এবং করোনার প্রতিষেধক টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ৩,০২৩ জন।

অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে করোনার প্রতিষেধক টিকার বৈধ সনদের অধিকার ৬১,০৫,৩০৪ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৮ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪১,৬১,০০৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৮,২০০ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৪০,৭০,৭৩২ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৭২,০৭২ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৮৩ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,১১১ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

জনপ্রিয়

এবার নতুন আইসিসির দাবি পাকিস্তানের

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

অস্ট্রিয়ায় আবারও করোনার নতুন প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা

আপডেটের সময় ০৬:০০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মে ২০২২

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসাবে অস্ট্রিয়ায় করোনার ওমিক্রনের নতুন ধরণ বা ভ্যারিয়েন্ট BA.4 এবং BA.5 শনাক্ত

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ সহ সকল জাতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন অস্ট্রিয়া কোভিড-১৯ এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা ধরণ ওমিক্রন BA.4 এবং  BA.5 ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোহানেস রাউখ (গ্রিনস) আজ বুধবার (৪ মে) রাজধানী ভিয়েনায় জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ায় কোভিড-১৯ এর ওমিক্রোনের নতুন ধরণ BA.4 এবং BA.5 শনাক্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপের মধ্যে অস্ট্রিয়ায় এই ধরণ প্রথম শনাক্ত হল।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় শুধুমাত্র রাজধানী ভিয়েনাতেই ৩০ জনের শরীরে উপরোক্ত ভাইরাস সমূহ শনাক্ত হয়েছে। অস্ট্রিয়ার Salzburg এবং Steiermark রাজ্যেও এই নতুন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এপিএ আরও জানান সম্ভবত বর্তমানে এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট সমগ্র অস্ট্রিয়াতেই ছড়িয়ে পড়েছে।

অস্ট্রিয়া সবেমাত্র করোনার বিভিন্ন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের শুরুর মধ্যেই এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব সরকারকে আবার নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোহানেস রাউখ পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখার কথা জানিয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার সুপারমার্কেটে বাধ্যতামূলক FFP2 মাস্ক পড়ার নিয়ম উঠিয়ে দেয়ার জন্য ইতিমধ্যেই অস্ট্রিয়ার শ্রমিক ইউনিয়ন সহ সুপার মার্কেট মালিক কর্তৃপক্ষ জোড়ালো আবেদন জানিয়েছেন। এরই মধ্যে করোনার এই ওমিক্রন BA.4 এবং BA.5 এর নতুন প্রাদুর্ভাবের বিস্তার লাভের খবরে পুনরায় জনমনে কিছুটা আতঙ্ক ও হতাশার ছাপ ফুটে উঠছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা “হু”কয়েক সপ্তাহ পূর্বেই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের এই নতুন ধরণ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী এক নতুন সতর্কতা দিয়েছিল। “হু” আরও জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ পূর্ব এই নতুন ধরণ দুইটি প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান করোনার সংক্রমণের শতকরা ৩৫ শতাংশই এই নতুন ধরণের কারনে।

অস্ট্রিয়ার শীর্ষ সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ আন্দ্রিয়াস বার্গথালার রাস্ট্রায়ত্ব টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারনে বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার পঞ্চম প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট অস্ট্রিয়ায় এসেছে।

তিনি আশঙ্কা করে বলেন, এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট অস্ট্রিয়াতেও খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে অস্ট্রিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে। অস্ট্রিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদিন কয়েক শতাধিক মানুষ আসা যাওয়া করছে। ফলে অস্ট্রিয়াও এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করা,অসম্ভব কিছু না। তবে ধারণা করা হচ্ছে নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তার লাভ করলেও সরকার আপাতত কোন নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করবে না।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় করোনায় নতুন করে সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৬,৭৬০ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ২,২৩৯ জন।

অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ১,৩৫৫ জন, OÖ রাজ্যে ১,১৮৬ জন, Steiermark রাজ্যে ৬১০ জন, Tirol রাজ্যে ৩৫৭ জন, Salzburg রাজ্যে ৩৪১ জন, Vorarlberg রাজ্যে ২৪৭ জন, Kärnten রাজ্যে ২১৪ জন এবং Burgenland রাজ্যে ২১১ জন নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ১৩২ জন এবং করোনার প্রতিষেধক টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ৩,০২৩ জন।

অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে করোনার প্রতিষেধক টিকার বৈধ সনদের অধিকার ৬১,০৫,৩০৪ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৮ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪১,৬১,০০৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৮,২০০ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৪০,৭০,৭৩২ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৭২,০৭২ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৮৩ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,১১১ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস