অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা ও কয়েকটি প্রধান শহরের আজকের ইফতার ও আগামীকালের সেহরির শেষ সময়

ইউরোপ ডেস্কঃ আজ বুধবার ২৭ এপ্রিল অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ২৬ তম রোজার ইফতারের সময় : ২০:০২ মিনিট। (Ifter in Vienna at 20:02 p.m)

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ভিয়েনায় ২৭ তম রোজার সেহরির শেষ সময় : রাত ৪:০০ মিনিট।

ভিয়েনার সাথে অস্ট্রিয়ার অন্যান্য কয়েকটি ফেডারেল রাজ্যের প্রধান শহরের সময়ের পার্থক্য নিম্নে উল্লেখ করা হল,
* Innsbruck (Tirol) + 20 Min.
* Salzburg + 13 Min.
* Villach (Kärnten) + 10 Min.
* Linz (OÖ) + 08 Min.
*Klagenfurt (Kärnten) + 08 Min.
* Graz (Steiermark) + 4 Min.
* St. Pölten (NÖ) + 3 Min.

■ অস্ট্রিয়ায় এই বছর ফিতরা €১০ ইউরো।
(তথ্য: অস্ট্রিয়া মুসলিম কমিউনিটি)
■ বাংলাদেশ ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭৫ টাকা।
(তথ্য বাংলাদেশ সংবাদ মাধ্যম)

(দেশে চলতি বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ফিতরার সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩১০ টাকা।)

ফিতরা বা ফেতরা(فطرة) আরবী শব্দ, যা ইসলামে যাকাতুল ফিতর (ফিতরের যাকাত) বা সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরের সদকা) নামে পরিচিত। ফিতর বা ফাতুর বলতে সকালের খাদ্যদ্রব্য বোঝানো হয় যা দ্বারা রোজাদারগণ রোজা ভঙ্গ করেন।
[আল মুজাম আল ওয়াসিত, পৃষ্ঠা ৬৯৪ ]

যাকাতুল ফিতর বলা হয় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরীব দুঃস্থদের মাঝে রোজাদারদের বিতরণ করা দানকে। রোজা বা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় ইফতার বা সকালের খাদ্য গ্রহণ করা হয়। সেজন্য রমজান মাস শেষে এই দানকে যাকাতুল ফিতর বা সকালের আহারের যাকাত বলা হয়।
[ফাতহুল বারী ৩, পৃষ্ঠা ৪৬৩]

যাকাতুল ফিতরের বিধান বা হুকুম:

যাকাতুল ফিতর প্রদান করা ফরয। এটাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মুসলিমের উপর অপরিহার্য বলে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহর রাসূল যা ফরয করেছেন অথবা করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন সেগুলোও যা আল্লাহ ফরয করেছেন ও নির্দেশ দিয়েছেন তার হুকুম রাখে। অর্থাৎ তা মানাও অবশ্যম্ভাবী।

* আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿ مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظٗا ٨٠ ﴾ [النساء: ٨٠]

‘যে রাসূলের হুকুম মান্য করল, সে আল্লাহর হুকুমই মান্য করল। আর যে তা থেকে বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে তাদের জন্য পর্যবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাই নি।’
(সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০)

যাকাতুল ফিতর মুসলিম নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, স্বাধীন-কৃতদাস সকলের ওপর ফরয।

* আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,

«فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَكَاةَ الفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى العَبْدِ وَالحُرِّ، وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى، وَالصَّغِيرِ وَالكَبِيرِ مِنَ المُسْلِمِينَ»

‘রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে স্বাধীন, গোলাম, নারী, পুরুষ, ছোট-বড় সকল মুসলিমের ওপর এক সা‘ খেজুর, বা এক সা‘ যব যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন।’
[ বুখারী: ১৫০৩; মুসলিম: ৯৮৪।]

ফিতরার পরিমাণঃ
হাদিসের বর্ণনায় ফিতরার সাদকা হচ্ছে- ‘এক সা’। এখানে ‘সা’ বলতে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় মদিনায় প্রচলিত ‘সা’ উদ্দেশ্য। পৃথিবীর অন্য কোথাও যদি ‘সা’ এর হিসাব প্রচলিত থাকে আর তা যদি নবিজী ঘোষিত ‘সা’ এর বিপরীত হয়; তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত ‘সা’ অনুযায়ী বর্তমান সময়ের ওজন বা পরিমাপ হলো- ২ কেজি ৪০ গ্রাম।

ফিতরা দেওয়ার সময়:
ফিতরার খাদ্য ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগেই বণ্টন করা ওয়াজিব। ঈদের নামাজের পর পর্যন্ত দেরি করা বৈধ নয়। বরং ঈদের এক বা দুই দিন আগে আদায় করে দেওয়াই উত্তম।

ইসলামিক স্কলারদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী ফিতরা আদায় করার সময় শুরু হয় ২৮ শে রমজান। কারণ রমজান মাস ২৯ দিনও হতে পারে। আবার ৩০ দিনও হতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবাগণ ঈদের একদিন বা দুই দিন আগে ফিতরা আদায় করতেন।

ফিতরা পাবেন যারা:
ফিতরা দেওয়ার খাত হচ্ছে- ফকির ও মিসকিন। আবার অনেক ইসলামিক স্কলাররা বলেছেন, সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরা আদায় করবে। কারণ ফিতরা দেওয়ার মাধ্যমে রোজাদারের রোজার দোষ-ত্রুটিগুলো মার্জনাকারী। হাদিসে এসেছে-

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনর্থক কাজ ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্রকরণ এবং মিসকিনদের জন্য খাদ্যের উৎস হিসেবে রোজা পালনকারীর উপর ফিতরা ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে তা আদায় করবে তা কবুলযোগ্য ফিতরা হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পর আদায় করবে সেটা সাধারণ সাদকা হিসেবে গণ্য হবে।’
(আবু দাউদ)

বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত ফিতরার পরিমাণ:
গত ৯ এপ্রিল (শনিবার) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভায় এ বছরের ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। তাহলো-
১. গমের বাজার মূল্য অনুযায়ী : ৭৫ টাকা।
২. যবের বাজার মূল্য অনুযায়ী : ৩০০ টাকা।
৩. কিসমিসের বাজার মূল্য অনুযায়ী : ১৪২০ টাকা।
৪. খেজুরের বাজার মূল্য অনুযায়ী : ১৬৫০ টাকা।
৫. পনিরের বাজার মূল্য অনুযায়ী : ২৩১০ টাকা।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সর্বোচ্চ পরিমাণ ২,৩১০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা। তাতে সামর্থ্য না হলে যার যার অবস্থা অনুযায়ী পণ্যের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে ফিতরা আদায় করা। একান্তই যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের জনপ্রতি ৭৫ টাকা দিয়ে ফিতরা করা।

ফিতরা আদায়ের উপকারিতা:

১. এই সাদকাহ হবে রোজার ভুল-ত্রুটির ঘাটতির পরিপূরক। কেননা সওয়াবের কাজ-কর্ম মানুষের পাপ তথা গুনাহকে ধ্বংস করে দেয়।

২. এ সাদকাহকে আবশ্যক করার আরেকটি কারণ হচ্ছে- ঈদের দিন গরিব ও মিসকিনদের আনন্দ-বিনোদন, উত্তম পোশাক ও খাবারের সহজলভ্যতার জন্য। যাতে তারাও ধনীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। হাদিসে এসেছে-

> হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদের স্বাধীন ও ক্রীতদাস পুরুষ ও নারী এবং ছোট ও বড় সবার জন্য এক সা’ (প্রায় ২ কেজি ৪০ গ্রাম) খেজুর বা যব খাদ্য (আদায়) ফরজ করেছেন। (বুখারি, মুসলিম)

> হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় এর জমানায় আমরা সাদকাতুল ফিতর দিতাম এক সা (সাড়ে তিন কেজি প্রায়) খাদ্যবস্তু, তিনি বলেন, তখন আমাদের খাদ্য ছিল: যব, কিসমিস, পনির ও খেজুর। (বুখারি)

> তিনি আরও বলেন, আমরা সাদকাতুল ফিতর আদায় করতাম এক সা খাদ্যবস্তু। যেমন- এক সা যব, এক সা খেজুর, এক সা পনির, এক সা কিশমিশ। (বুখারি)

> আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দীর্ঘ একটি বছর মুমিন মুসলমানকে সুস্থ্য ও নিরাপদ রাখার পর বরকতময় মাস রমজান দান করেছেন। তাই এ সুস্থ্য দেহের জাকাত হল ফিতরা।

> এই সাদকাহ আদায় করতে হয় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য। কেননা আল্লাহ মেহেরবানী করে তার বান্দাদের দীর্ঘ এক মাস মহামূল্যবান ফরজ ইবাদত রোজা রাখার তাওফিক দান করেছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে ফিতরা আদায় করার তাওফিক দান করুন। ফিতরা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

কবির আহমেদ /ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »