সালাম সেন্টু, লালমোহন ভোলা প্রতিনিধি : বাতাস, ক্লান্ত পরিশ্রান্ত প্রাণির প্রাণ জুড়ায়। আর সেই বাতাস যখন ধূলো বালুকণা মিশ্রিত হয়, তখন প্রাণ জুড়ানোর বদলে প্রাণির প্রাণ সংকট দেখা দেয়। তেমনি ভোলার লালমোহনের বাতাসে মিশ্রিত ধূলো ও বালুকণা জনসাধারণের প্রাণ জুড়ানোর বদলে বিষাদে পরিনত হয়েছে।
যত্রতত্র বালু মহাল, খোলামেলা পরিবেশে বালু পরিবহন ও আঞ্চলিক সড়কসহ চলমান মহাসড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত বালু উড়ছে বাতাসে।
সবমিলিয়ে লালমোহনের বাতাস এখন ধূলিকণায় পূর্ণ। প্রচন্ড গরমে একটু সস্তির বাতাসও এখন বিষাদে রূপান্তরিত হয়েছে। মাস্ক ব্যবহার করে নাক রক্ষা করা গেলেও চোখ ও দেহ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শুধু তাই নয়, বাতাসে উড়ে ধূলিকণা এসে নষ্ট করছে বসতঘরের খাবার দাবারসহ আসবাবপত্র। এমনকি বাজারের হোটেলগুলোর খাবার নষ্টের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মালামাল ও নষ্ট করছে। একদিকে পবিত্র রমজান, অন্যদিকে বাতাসে ধূলিকণা, দুইয়ে মিলিয়ে লালমোহনবাসীর নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জান যায়, লালমোহন পৌরসভার ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে ১৫/২০টি বালু মহাল রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ফরাজগঞ্জ, লর্ডহার্ডিঞ্জ ও বদরপুর ইউনিয়নেও বালু মহাল রয়েছে। এগুলো লর বেশিরভাগই জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। এসব বালু মহাল থেকে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বালু পাঠানো হয়। তবে এসব বালু পরিবহন হচ্ছে খোলামেলা পরিবেশে।
পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডের আবু মিয়া, জসিমসহ আরও কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এ এলাকায় অনেকগুলো বালু মহাল আছে। সূর্যের তাপের সাথে সাথে বালুগুলো উত্তপ্ত হয়ে আরও তাপ ছড়ায়। ফলে আশেপাশে বসবাসরত পরিবারগুলো বিপাকে পড়েছে। পাশাপাশি বালু মহাল ও সেখান থেকে খোলামেলা পরিবেশে পরিবহনকৃত বালু উড়ে এসে ঘরের খাবারদাবার ও আসবাবপত্র নষ্ট করছে।
লালমোহন থানার মোড় এলাকার ফল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম পারভেজ ও মোঃ ফেরদাউস বলেন, এ এলাকায় মহাসড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য সড়কের দুই পাশ খুঁড়ে বালি দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিয়মিত পানি না দেয়ায় ওসব বালি উড়ে দোকানের ফলমূল নষ্ট করছে।
ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ড্রাইভার আলমগীর ও সিএনজি চালক আরিফ, রিকশা চালক জহির বলেন, পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়ন ও দালানকোঠা নির্মাণের জন্য অবৈধ ট্রাক্টরের মাধ্যমে খোলামেলা পরিবেশে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এসব ট্রাক্টরের পেছনে মোটরসাইকেল চালাতে গেলে বালু এসে নাক-মুখে পড়ছে। রাতে বাসায় ফিরে গোসল ছাড়া ঘুমানো যায়না, কারণ বালুতে শরীর চুলকায়।
পোর শহরে তিনটি মাধ্যমিক, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি কলেজ, একটি দাখিল ও একটি কামিল মাদ্রাসা রয়েছে। এছাড়াও ক্বওমী, নুরানিসহ বিভিন্ন প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন সড়কের ধূলো বালুকণার মধ্য দিয়ে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কে।
লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা আক্তার মোহনাসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে গেলে সড়কের ধূলো বালুকণা মাড়িয়ে আসতে হয়। রিকশা আসার সময় বালু ভর্তি ট্রাক্টরের পিছনে পড়ে গেলে পোশাক-পরিচ্ছদ নষ্ট হয়ে যায়। বাতাসে উড়ে আসা বালু চোখে-মুখে পড়ে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোঃ মহসিন খাঁন বলেন, বাতাসে ধূলাবালি বেশি বেড়ে গেলে মানুষের শ্বাসনালী এবং ফুসফুসের প্রদাহ হতে পারে। কারো হাঁপানি রোগ থাকলে সেটা আরও তীব্র হতে পারে। এছাড়াও যাদের এলার্জি আছে, ধূলোবালির কারণে তাদের এলার্জি বেড়ে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া হতে পারে।
বাতাসে ধূলো বালুকণা রোধ করে নির্মল পরিবেশ তৈরিতে খোলামেলা পরিবেশে বালু পরিবহন বন্ধ ও সড়ক উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে পানি ব্যবহারের দাবি সচেতন মহলের।
ভোলা/ ইবিটাইমস