আগামী বুধবার থেকে অস্ট্রিয়ায় আভ্যন্তরীণ ইভেন্টে পুনরায় FFP2 মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক

অস্ট্রিয়ার ফেডারেল রাজধানী ভিয়েনা ছাড়া অন্যান্য বাকী সব রাজ্যেই FFP2 মাস্ক পড়া সহ আরও অনেক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। রাজধানী ভিয়েনার গণ পরিবহন ও কেনাকাটায় FFP2 মাস্ক পড়া এখনও বাধ্যতামূলক আছে

 

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে,বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় করোনা পরিস্থিতির সংক্রমণের বিস্তারের অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিন যাবৎ অস্ট্রিয়ার দৈনিক গড় সংক্রমণ ৫০,০০০ হাজারের উপরে। সংক্রমণের বিস্তারের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে অস্ট্রিয়ান ফেডারেল সরকার পুনরায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গতকাল শুক্রবার (১৮ মার্চ) অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোহানেস রাউখ (Greens) দেশের করোনার টাস্ক ফোর্স ও সমস্ত ফেডারেল রাজ্যের স্বাস্থ্য কাউন্সিলরদের সাথে এক আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন,করোনার সংক্রমণের অস্বাভাবিক বিস্তারের ফলে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর পুনরায় চাপ বাড়ছে। তাই তিনি হাসপাতাল ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নার্সিংহোমে সতর্কতার কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাউখ জানান,দেশের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী বুধবার (২৩ মার্চ) থেকে দেশের সকল আভ্যন্তরীণ ইভেন্টে অর্থাৎ অফিস-আদালতে FFP2 মাস্ক পড়ার নিয়ম পুনঃপ্রবর্তন বা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে,গত বৃহস্পতিবার ভিয়েনার রাজ্য গভর্নর ও মেয়র মিখাইল লুডভিগ(SPÖ) দেশে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেডারেল সরকার
বিশেষ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জোহানেস রাউখকে সমগ্র অস্ট্রিয়ায় পুনরায় FFP2 মাস্ক পড়ার নিয়ম পুনঃপ্রবর্তনের জন্য অত্যন্ত জোড়ালো আবেদন জানিয়েছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোহানেস রাউখ সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন,বর্তমানে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সাব ভ্যারিয়েন্ট BA.2 এর অস্বাভাবিক ও ক্ষিপ্র গতিতে সংক্রমণের বিস্তারের ফলে একদিকে দেশের হাসপাতালগুলি এবং বয়স্ক লোকজনদের যত্নের সুবিধাগুলিতে “অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির” সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এও জানান বর্তমান পরিস্থিতির কারনে কিছু কঠোর বিধিনিষেধ পুনঃপ্রবর্তন করা হলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কোয়ারেন্টাইনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হবে – প্রতিরোধের জন্য কর্মীদের ঘাটতি মোকাবেলা করতে। বুধবার থেকেই এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য বা কার্যকর হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, গত ৫ মার্চ থেকে সমগ্র অস্ট্রিয়ায় সবকিছু খোলার পদক্ষেপের আগে সংক্রমণের সংখ্যা হ্রাসের প্রত্যাশা করা হয়েছিল। “তবে বাস্তবে তা সত্য হয়নি।” গতকাল সন্ধ্যার এই সংবাদ সম্মেলনে তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে অনুমান করছেন যে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা অব্যাহত (“৫০,০০০ হাজার প্লাস”) পেতে থাকবে।

হাসপাতাল এবং নার্সিং হোমের রিপোর্ট “অত্যন্ত উদ্বেগে ভরা,” বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাউখ।
হাসপাতালগুলির বার্তাটি পরিষ্কার ছিল: “এটি লোড সীমা এবং তার উপরে পৌঁছে যেতে শুরু করেছে এবং কর্মীর অভাব রয়েছে। অপারেশনগুলি কেবল অসুবিধার সাথে বজায় রাখা যেতে পারে। রাউখ নতুন কোয়ারেন্টাইন প্রবিধানগুলি কেমন তা বলতে চাননি – বর্তমানে আপনি শুধুমাত্র পাঁচ দিন পরে বিনামূল্যে পরীক্ষা করতে পারবেন। যা নিয়ে এখনও আলোচনা করা হচ্ছে,তবে নিয়ম অবশ্যই বৈশ্বিক মহামারীর নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য বা ন্যায়সঙ্গত হতে হবে।

তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো আন্তর্জাতিক উদাহরণগুলিতে নিজেকে অভিমুখী করতে চান। তবে কিছু শর্তের অধীনে, অসুস্থ ব্যক্তিদেরও আবার কাজ করতে সক্ষম হওয়া উচিত। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছেন।
এদিকে এপিএ -এর এক খবরে বলা হয়েছে অস্ট্রিয়ার করোনার টাস্ক ফোর্স থেকে অস্ট্রিয়ান রেড ক্রস প্রধান গেরি ফয়েটিক অস্ট্রিয়ার করোনার টাস্ক ফোর্স GECKO থেকে পদত্যাগ করেছেন।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় কোভিড সংকট সমন্বয় কমিটি GECKO-এর একটি সভাও হয়েছিল। দৌড়ের মধ্যে এমন সদস্যদের পদত্যাগের গুজব ছিল যারা মুখোশের প্রয়োজনীয়তা তুলে নেওয়ার সাথে লড়াই করেছিলেন। যদিও কিছু GECKO সদস্যরা এমনকি সংবাদ মাধ্যম দ্বারা জিজ্ঞাসা করায় অবাক হয়েছিলেন, রাউখ তার প্রেস কনফারেন্সে নিশ্চিত করেছেন যে ফেডারেল রেসকিউ কমান্ডার গেরি ফোটিক কমিটি ছেড়ে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে তিনি ফয়েটিকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন যে স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা মনে করেননি যে সরকার তাদের বিবেচনা করছে।

রাজধানী ভিয়েনা থেকে প্রকাশিত ফ্রি মেট্রো রেল পত্রিকা “Heute” জানিয়েছে,সরকার করোনার নতুন সংক্রমণের অস্বাভাবিক বিস্তার বৃদ্ধির ফলে আগামী বুধবার থেকে নিম্নোক্ত নতুন নিয়ম জারি করেছে।
■ FFP2 – বুধবার থেকে ঘরের ভিতরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।
■ হাসপাতালের জন্য নতুন কোয়ারেন্টাইন নিয়ম করা হয়েছে।
■ আবারও যাদের পক্ষে সম্ভব তাদের বাড়িতে থেকে কাজ(Homeoffice) করার জন্য আরেকটি সুপারিশ করা হয়েছে।
■ আবারও নতুন টিকাদান অভিযান শুরু হচ্ছে সোমবার থেকে।

এদিকে গতকাল অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৫১,১১২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২৪ জন। ফেডারেল রাজধানী ভিয়েনায় নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন,৯৬৯৭ জন, NÖ রাজ্যে ১১,৩৬৮ জন, OÖ রাজ্যে ১০,৪৪৩ জন, Steiermark রাজ্যে ৭,৩৮০ জন, Kärnten রাজ্যে ৩,১১৮ জন, Salzburg রাজ্যে ৩,০৪১ জন, Tirol রাজ্যে
২,৫৯৬ জন, Vorarlberg রাজ্যে ১,৭৮৬ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১,৬৮৩ জন নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ২৮০ জন এবং করোনার প্রতিষেধক টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ২,৬৫১ জন।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩,৮৭,০১২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫,৩৪৪ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ২৯,২৬,৪১৮ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৪,৪৫,২৫০ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ২০৭ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩,০৪৮ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে
আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ /ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »