করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে ভিয়েনার হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপ

অস্ট্রিয়া বর্তমানে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ৫০ থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে উঠানামা করছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের হাসপাতাল গুলিতে পুনরায় চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে

ইউরোপ ডেস্কঃ গত ৫ মার্চ থেকে অস্ট্রিয়ার ফেডারেল সরকার নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় FFP2 মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক ছাড়া করোনার বাকী প্রায় সমস্ত বিধিনিষেধই প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে রাজধানী ভিয়েনায় মাস্ক ছাড়াও কিছু বিধিনিষেধ এখনও অব্যাহত রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম রাতের গ্যাস্ট্রোমিতে ২জি নিয়মের বাধ্যবাধকতা।

ভিয়েনার রাজ্য গভর্নর ও সিটি মেয়র মিখাইল লুডভিগ (SPÖ) বর্তমানে করোনার দৈনিক নতুন সংক্রমণের বিস্তার রেকর্ড সংখ্যক বৃদ্ধি পাওয়ায় পুনরায় আরও কিছু নতুন বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছেন।

মেয়র মিখাইল লুডভিগ গতকাল (১৭ মার্চ) ভিয়েনার সিটি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে ভিয়েনার হাসপাতাল এবং বয়স্ক লোকজনদের নার্সিং হোমে পরিদর্শনের বা আগমনের জন্য একটি উচ্চ সীমা বিধিনিষেধ থাকার ঘোষণার কথা জানিয়েছেন।

তিনি করোনার সংক্রমণের বিস্তার পুনরায় অস্বাভাবিক আকারে বৃদ্ধি লাভ করায় হাসপাতালে প্রতিদিন মাত্র একজন দর্শনার্থীর অনুমতি কথা জানিয়েছেন। তবে বয়স্ক ব্যক্তিদের নার্সিংহোমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ জন দর্শনার্থীর অনুমতির কথা জানিয়েছেন।

মেয়র মিখাইল লুডভিগ তার বক্তব্যে আরও বলেন, ভিয়েনায় আমরা সবসময় আমাদের বাসিন্দাদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখে এসেছি। আমরা এখনও কেনাকাটায় দোকানপাটে FFP2 মাস্ক এবং ক্যাটারিং ট্রেডে 2G
নিয়ম ধরে রেখেছি -নানান জনের তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও।

আমরা এখনও যে আইন ধরে রেখেছি,আমি তা এখন ফেডারেল সরকারের কাছে আবেদন করছি অন্তত সংক্রমণের রেকর্ড সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে সমগ্র বাণিজ্যে FFP2 মাস্ক পড়ার নিয়ম পুনঃপ্রবর্তনের কথা বিবেচনা করুন। মেয়র মিখাইল লুডভিগ আবারও বরাবরের মত ফেডারেল সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে সমগ্র দেশে করোনার নতুন দৈনিক সংক্রমণের অস্বাভাবিক সংখ্যা এটাই প্রমাণ করে যে, দেশব্যাপী করোনার বিধিনিষেধ প্রত্যাহার খুব তাড়াতাড়ি করা হয়েছিল। আমরা নানা সমালোচনা সত্ত্বেও কিছু মৌলিক বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছিলাম এবং তা অব্যাহত থাকবে।

মেয়র মিখাইল লুডভিগ ভিয়েনার জন্য নিম্নোক্ত নতুন বিধিনিষেধের কথা জানান :

১, বর্তমানে চলমান বিধিনিষেধ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। যদিও এই মাসের শেষে প্রত্যাহারের কথা ছিল।

২, হাসপাতালে রোগীর প্রতি দিনে শুধুমাত্র একজন দর্শনার্থীর অনুমতি রয়েছে। অধিকিন্তু অতিরিক্ত 2GPlus (টিকা দেওয়া বা পুনরুদ্ধার প্লাস পিসিআর পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

৩, তবে বয়স্ক লোকেদের নার্সিংহোম ও বৃদ্ধাশ্রমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ জন দর্শনার্থীর সাক্ষাৎ এবং বিশেষ প্রয়োজনে আবাসিক বা থাকার অনুমতি রাখা হয়েছে। অবশ্য দর্শনার্থীদের অবশ্যই অতিরিক্ত 2GPlus ( টিকা দেওয়া বা পুনরুদ্ধার প্লাস পিসিআর পরীক্ষা) আবশ্যক করা হয়েছে।

তিনি তার বক্তব্যের শেষে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন না হলে আমরা আরও ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করি। আমি দেশব্যাপী একই ব্যবস্থার পক্ষে কারণ ভিয়েনায় প্রতিদিন বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ৩ লাখ মানুষ আগমন করেন। আমি ফেডারেল সরকারকে সমগ্র দেশে অন্তত FFP2 মাস্ক পড়ার নিয়ম পুনরায় চালু করার আহ্বান জানাই।

গতকাল বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৫২,০৪৫ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৩১ জন। গত সাতদিনের দৈনিক গড় সংক্রমণ ৪৫,০০০ হাজার। রাজধানী ভিয়েনায় নতুন করে সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৯,২৮৫ জন।

অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৯,৭৯২ জন, Steiermark রাজ্যে ৯,৩১০ জন, OÖ রাজ্যে ৯,২৯৪ জন, Salzburg রাজ্যে ৩,৮৪৩ জন, Kärnten রাজ্যে ৩,২৯৬ জন, Tirol রাজ্যে ৩,০৪২ জন, Vorarlberg রাজ্যে ২,৫২৮ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১,৬৫৫ জন নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে গতকাল সমগ্র অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ২৯৫ জন এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ২,৭৯৮ জন।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩,৩৫,৯০০ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫,৩২০ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ২৮,৮৭,১৭৩ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৪,৩৩,৪০৭ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ২১১ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩,০৮৬ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »