১ এপ্রিল থেকে মাসে জনপ্রতি ৫ টি পিসিআর ও ৫ টি এন্টিজেন পরীক্ষা বিনামূল্যে করা যাবে
ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোহানেস রাউখ ( Greens) গতকাল মঙ্গলবার(১৫ মার্চ) বিকালে স্পষ্ট করেছেন যে অস্ট্রিয়ায় বিনামূল্যে করোনার পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে। তবে প্রতি মাসে একজন পাঁচটি পিসিআর এবং পাঁচটি অ্যান্টিজেন পরীক্ষার বেশী করতে পারবে না।
অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে গতকাল অস্ট্রিয়ার নব নিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোহানেস রাউখ রাজধানী ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে দেশে করোনার ফ্রি পরীক্ষায় কিছুটা পরিবর্তন আনার কথা ঘোষণা করেছেন। ইতিপূর্বে অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে এপ্রিল মাস থেকে করোনার বিনামূল্যের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশে পুনরায় করোনার সংক্রমণ বিস্তার বৃদ্ধির ফলে সরকার করোনার বিনামূল্যের পরীক্ষা কিছুটা হ্রাস করে অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়াও অস্ট্রিয়ায় কোয়ারেন্টাইনের নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন,সংক্রামিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসার নিয়ম আরও শিথিল করা হচ্ছে। এই সবই ১লা এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। তবে স্কুলের পরীক্ষা কিভাবে চলবে তা এখনও স্পষ্ট করে বলা হয় নি। ১ এপ্রিল থেকে যারা এখনও করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করে নি,তারাও স্বাভাবিক কাজকর্ম ও সব ধরনের কেনাকাটা করতে পারব। তবে যারা করোনার টিকা নেয় নি,তাদের রাজধানী ভিয়েনায় গ্যাস্ট্রোনমি এবং কিছু বিশেষ ইভেন্টে এখনও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার বিনামূল্যের পরীক্ষায় সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন বিলিয়ন ইউরোর উপরে। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী যিনি এক সপ্তাহ ধরে দায়িত্ব পালন করছেন, “আমার কাছে মনে হচ্ছে দুই মাস হয়ে গেছে” স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাউখ তার বক্তব্যের ভূমিকায় বলেছিলেন, সরকার স্থায়ী বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থাকে বিদায় জানাবে তা নিশ্চিত করার আগে। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভল্ফগ্যাং মুকস্টাইন স্থলাভিষিক্ত নতুন-মন্ত্রীর মতে, এখন পর্যন্ত মহামারী জুড়ে পরীক্ষায় তিন বিলিয়ন ইউরোর উপরে ব্যয় করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, করোনার ফ্রি পরীক্ষা এখনও অব্যাহত চলবে। “যার করোনার বিনামূল্যে পরীক্ষার প্রয়োজন তারাও তা পাবেন,” স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। নার্সিং এবং অবসর হোমের লোকেদের আরও প্রায়ই পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। মহামারীটির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখার জন্য, আরও বেশি বর্জ্য জল পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান,দেশে কোয়ারেন্টাইন কার্যত বিলুপ্ত করা হয়েছে। করোনায় সংক্রামিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসার নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। তারা তথাকথিত ট্রাফিক বিধিনিষেধ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে. এমনকি যোগাযোগের ব্যক্তিরা যারা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয় তাদের ভবিষ্যতে আর নিজেদেরকে আলাদা করতে হবে না। আপনি শুধুমাত্র একটি মাস্ক পড়ে সঙ্গে কাজ এবং কেনাকাটায় যেতে পারেন. যাইহোক, তাদের ইভেন্ট বা ক্যাটারিং ট্রেডে যাওয়ার অনুমতি নেই (কারণ সেবন করার সময় সেখানে মুখোশটি সরিয়ে ফেলতে হবে)। এই ব্যবস্থাটি কর্মীদের একটি আসন্ন ঘাটতি মোকাবেলার উদ্দেশ্যে, রাউখ বলেছেন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার অস্ট্রিয়ায় করোনায় নতুন করে সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৩৭,১২৫ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৪০ জন। রাজধানী ভিয়েনায় নতুন করে সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৬,৯৬২ জন।
অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৭,৫১৬ জন, OÖ রাজ্যে ৬,৫২৯ জন, Steiermark রাজ্যে ৫,৩৫৪ জন, Tirol রাজ্যে ৩,৬১৮ জন, Vorarlberg রাজ্যে ২,২৮৮ জন, Salzburg রাজ্যে ১,৯৩৭ জন, Kärnten রাজ্যে ১,৫৩৭ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১,৩৮৪ জন নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গতকাল সমগ্র অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ১৮৩ জন এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ২,০৮৬ জন। বর্তমানে করোনার বৈধ সনদ গ্রহণ করেছেন ৬২,২৯,৫৭৮ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৯,৪ শতাংশ।
অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩২,২৫,২৭২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫,২৬১ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ২৮,১৬,৪১৬ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩,৯৩,৫৯৫ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ২১৯ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২,৯৮৭ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।
কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস