অস্ট্রিয়ায় টিকা দেওয়া লোকেদের মধ্যে লং-কোভিড সংক্রমণ অনেকটাই হালকা

আসন্ন সপ্তাহ এবং মাসগুলিতে মানুষকে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য টিকাদান আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার করোনা টাস্ক ফোর্স প্রধান

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের পরিচালক ও করোনার টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান ক্যাথেরিনা রাইখ গতকাল শনিবার ভিয়েনায় এক বিবৃতিতে উপরোক্ত মন্তব্য করেন। তিনি আগামী শীতে করোনার সংক্রমণের পূর্ব প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে বলেন,ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনেশন শুধুমাত্র “পরবর্তী ঠান্ডা ঋতুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া” গুরুত্বপূর্ণ, সর্বোপরি এই টিকা দীর্ঘ-কোভিডের বিরুদ্ধেও রক্ষা করে থাকবে। কারণ এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ অনেকটাই হালকা এবং অল্প সময়ের জন্য হয়ে থাকে।

ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি (TU) এবং ভিয়েনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (MedUni) এক যৌথ গবেষণার পর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, অস্ট্রিয়ায় আগামী শীতের জন্য শরতের পূর্বেই করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ শেষ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ৷ তাদের গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতার বর্তমান স্তর শরৎকালে দ্রুত হ্রাস পাবে যদি এখন থেকে আর টিকা না দেওয়া হয়।

বিশেষত, তাত্ত্বিক ধারণার অধীনে যে কেউ আর সংক্রামিত হবে না বা টিকা দেওয়া হবে না, ১লা অক্টোবর থেকে প্রায় ৪,৩ মিলিয়নের আর সম্পূর্ণ অনাক্রম্য সুরক্ষা থাকবে না – মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। “আমাদের লক্ষ্য তাই সর্বোচ্চ সম্ভাব্য টিকা হার অর্জন করতে হবে,” রাইখ ব্যাখ্যা করে বলেন।

করোনার প্রতিষেধক টিকার রাস্ট্রীয় পর্যায়ের জোড়ালো আবেদন বা প্রণোদনার ঘোষণা মানুষের টিকা গ্রহণের ইচ্ছাকে কিছুটা বাড়িয়ে দেয় বলে জানিয়েছে করোনার টাস্ক ফোর্স GECKO। অতি সম্প্রতি GECKO এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই প্রশ্নটিকে সম্বোধন করা হয়েছে যে কি পরিমাণ আবেদন অর্থাৎ আর্থিক বা অ-আর্থিক প্রণোদনা, টিকা দেওয়ার ইচ্ছা বাড়াতে পারে।

প্রাসঙ্গিক অধ্যয়নের রেফারেন্স দিয়ে এর উত্তরটি বেশ গভীর। এই প্রণোদনাগুলি শক্তিশালী টিকা প্রদানকারী এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষ উভয়ের জন্যই “কমই কোন ভূমিকা” পালন করেছে। একটি নিয়ম হিসাবে, টিকা দেওয়ার হার “একক-অঙ্কের শতাংশ দ্বারা বৃদ্ধি” হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকা দেওয়ার কারণগুলির মধ্যে রয়েছে আত্মরক্ষার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদের থেকে সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার আশা। অন্যদিকে, অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে উদ্বেগ, ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা সম্পর্কে সন্দেহ এবং নিজের ইমিউন সিস্টেমের দ্বারা প্রদত্ত সুরক্ষায় বিশ্বাস টিকা না দেওয়ার কারণগুলির মধ্যে ছিল।

টিকা দেওয়া ব্যক্তিদের দীর্ঘ-কোভিড কোর্স অনেক ছোট এবং হালকা হয়ে থাকে। GECKO এর রিপোর্ট অনুসারে লং-কোভিডের উপর নতুন বৈজ্ঞানিক ফলাফলও সরবরাহ করে যেটি তাই টিকা দেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অনেক হালকা এবং ছোট – সংশ্লিষ্ট ভ্যাকসিন নির্বিশেষে।

অস্ট্রিয়ার করোনা টাস্ক ফোর্সের যৌথ চেয়ারম্যান এবং অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল রুডলফ স্ট্রাইডিংগারের মতে, টিকা দেওয়া ব্যক্তিরা সাধারণত লং-কোভিড-এ অনেক কম ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়েন। অন্য দিকে যারা টিকা গ্রহণের পরেও করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন তারা দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করেছেন। জেনারেল রুডলফ স্ট্রাইডিংগারের মতে,৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের জন্য এটি বিশেষভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

“সুতরাং, কোভিড -১৯ এর টিকা বর্তমানে দীর্ঘ- কোভিডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, ঘটনা এবং কোর্স উভয়ের পরিপ্রেক্ষিতে,” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে টাস্ক ফোর্স গেকোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

GECKO কমিশন হাসপাতালগুলির পরিস্থিতিকে “কখনও কখনও উত্তেজনাপূর্ণ, কিন্তু হুমকিস্বরূপ নয়” বলে বর্ণনা করেছেন। হাসপাতালগুলির জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হল কর্মীদের ঘাটতি, বিশেষ করে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটগুলিতে, “খুব প্রায়ই প্রচুর ক্লান্তি এবং ক্লান্তি থাকে”। তুলনামূলকভাবে বিপুল সংখ্যক কর্মী চলে যাওয়ার এবং নতুন কর্মী খুঁজে পেতে অসুবিধার খবরও রয়েছে।

এদিকে গতকাল শনিবার অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৩১,২৮৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬ জন। রাজধানী ভিয়েনায় নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৫,৩২২ জন।

অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৫,৮০৫ জন, Steiermark রাজ্যে ৫,৩৬৯ জন, OÖ রাজ্যে ৫,০২৪ জন, Tirol রাজ্যে ২,৭২৭ জন, Salzburg রাজ্যে ২,৫০০ জন, Kärnten রাজ্যে ১,৮৯০ জন, Vorarlberg রাজ্যে ১,৬৩৫ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১,০১৭ জন নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গতকাল শনিবার সমগ্র অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৭৫০ জন এবং করোনার প্রতিষেধক টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ৪,৩৬৫ জন। অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে করোনার প্রতিষেধক টিকার সনদ গ্রহণ করেছেন ৬২,৪৫,২৭৫ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৯,৯ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৮,৩৯,২৯৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪,৯৮৬ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ২৫,৩৪,৮৯৭ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ২০২ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২,৫৪৭ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ইবি টাইমস/এম আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »