কবির আহমেদ, ভিয়েনাঃ অস্ট্রিয়ার স্কুলের প্রতিটি ক্লাসে সপ্তাহে তিনবার করোনার পরীক্ষার নিয়ম শেষ হয়েছে শুক্রবার। ক্রিসমাস ও নববর্ষের ছুটির পর গত ৭ জানুয়ারী থেকে এ নিয়ম চালু ছিল। নতুনভাবে আগামী সপ্তাহ থেকে স্কুলে সপ্তাহে একবার পিসিআর পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অস্ট্রিয়ায় বর্তমান করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের
ব্যাপক প্রাদুর্ভাব চলছে। অস্ট্রিয়ার সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা মধ্য ইউরোপের আল্পস পর্বতমালার ছোট এই দেশটিতে শীঘ্রই দৈনিক নতুন সংক্রমণ ৫০,০০০ হাজারে উঠার সতর্কতা দিয়েছেন।
অস্ট্রিয়াতে চলমান করোনার ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবে
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রণালয় পূর্বেই এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে অনুমান করে ৭ জানুয়ারী থেকে ২৮ জানুয়ারী পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে “বিশেষ সতর্কতা” সপ্তাহ ঘোষণা করে। একইসঙ্গে সপ্তাহে তিনবার করোনার ফ্রি পরীক্ষার কথা ঘোষণা করেছিল। শুক্রবার ২৮ জানুয়ারী “বিশেষ সতর্কতা” সপ্তাহ শেষ হয়েছে।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে বর্তমানে চলমান ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের উপসর্গ অত্যন্ত হালকা বলে হাসপাতালে রোগীদের তেমন কোন চাপ নাই।
এদিকে, অস্ট্রিয়া-বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রায় দুই শতাধিক প্রবাসী ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হলেও বেশিরভাগই বাসায় আইসোলেশনে সুস্থ হয়েছেন
এদিকে, আজ শুক্রবার অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩৮,৬৩১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৯,৫৯৯ জন।
অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৬,৭০৪ জন,Steiermark রাজ্যে ৫,৮৭৪ জন,NÖ রাজ্যে ৫,৬৪৯ জন,Tirol রাজ্যে ৩,১৫৯ জন,Salzburg রাজ্যে ২,৫৭২ জন,Kärnten রাজ্যে ২,০৯১ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১,১৬০ জন নতুন করে করোনায় শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের প্রায় সবাই
ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৩,০৭৪ জন এবং করোনার প্রতিষেধক টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ২২,১৪৫ জন। এপর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৬৪,৬৭,১৩৬ জন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৭২.৪ শতাংশ।
অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭,৬৬,২৯২ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১৪,০৬১ জন। করোনার থেকে এপর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট ১৪,৬৯,২৩৫ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২,৮২,৯৯৬ জন।
কবির/ইবিটাইমস/আরএন