আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত পাঁচদিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে অবশেষে বিক্ষোভকারীদের ‘দেখা মাত্র’ গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। শুক্রবার এক সরকারি আদেশে এ সম্পর্কে বলা হয়, গুলি চালানোর আগে তাদের সতর্ক করার কোনো প্রয়োজন নেই সেনা সদস্যদের
কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসেম জোমার্ট তোকায়েভ সরকারি ওই আদেশে আরও বলেন, ‘বিক্ষোভের নিয়ন্ত্রণ এখন বিদেশী মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের হাতে। আলমাতিতে অন্তত ২০ হাজার ডাকাত ঢুকে গত কয়েকদিন ধরে তাণ্ডব চালাচ্ছে।’
এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত রোববার (২ জানুয়ারি) থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় কাজাখস্তানের প্রধান শহর আলমাতিসহ ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা ক্রমশ সহিংস রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেয়।
এই দেশটিতে গত পাঁছদিনের বিক্ষোভে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৪ জন। তাদের মধ্যে ২৬ জন হলেন বিক্ষোভকারী, যাদেরকের কাজাখ সরকার অভিহিত করেছে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ হিসেবে এবং বাকি ১৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা।
জনতার রোষ শান্ত করতে ৫ জানুয়ারি দেশটির প্রধানমন্ত্রী আসকার মমিন মন্ত্রিপরিষদসহ পদত্যাগ করেছেন। তারপর জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে দেশজুড়ে, ঘোষণা করা হয়েছে রাত্রিকালীন কারফিউ; কিন্তু তারপরও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না সরকারবিরোধী বিক্ষোভ।
দাঙ্গা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিতে থাকায় কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসেম জোমার্ট তোকায়েভ কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সিএসটিও) চুক্তির আওতায় রাশিয়াকে সেনা সহায়তা পাঠাতে অনুরোধ করেন। তাতে সাড়া দিয়ে দেশটিতে বৃহস্পতিবার সেনাবহরও পাঠিয়েছে রাশিয়া।
ডেস্ক/ইবিটাইমস/এমএইচ