ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৯৭২-১৯৭৪ পর্যন্ত তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার নৌ-বাহিনীর চট্টগ্রাম বন্দরের মাইন অপসারণের ওপর ভিত্তি করে ‘ফ্রিডম ডাজ নট ব্রেথ মানি’ শীর্ষক একটি বিশেষ তথ্যচিত্র মস্কোতে প্রিমিয়ার শো হয়েছে।
রাশিয়ার চলচ্চিত্রকার ইভগেনি বারখানভ পরিচালিত তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার শো রাশিয়ার সেলিব্রেটিদের উপস্থিতিতে মস্কোর সেন্ট্রাল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া তথ্যচিত্রের পরিচালক ইভজেনি বারখানভ এবং মাইন অপসারণের সঙ্গে জড়িত তরুণ নৌ-বাহিনী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন (অব.) নিকোলায়েভিচ কোলোসকভও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘৪৪ মিনিটের এই ডকুমেন্টারিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কিছু দুর্লভ ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, যা এর আগে আমাদের অনেকে কখনো দেখিনি।’ তথ্যচিত্রে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরের ঘটনা দেখানো হয়েছে, কারণ চট্টগ্রাম নৌবন্দরে ডুবে যাওয়া জাহাজ ও মাইনের জন্য চালু করা যাচ্ছিল না। সে সময় পশ্চিমা কোন দেশ আমাদের এই বিষয়ে সাহায্য করার কোন আগ্রহ দেখায়নি।
১৯৭২ সালের ১ থেকে ৩ মার্চ মস্কোতে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি কোসিগিন ও সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল লিউনিভ ব্রেজনেভকে ডুবন্ত জাহাজ উদ্ধার ও মাইন অপসারণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।
সোভিয়েত সরকার বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে সাড়া দিয়ে তাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌঘাটি থেকে প্রায় ৯শ’ নৌসেনাকে মাইন অপসারণ ও নিমজ্জিত জাহাজ উদ্ধার করতে সামরিক নৌ যানসহ চট্টগ্রামে পাঠায়।
তথ্যচিত্রটিতে এডমিরাল ইউরি কনস্ট্যান্টিনোভিচ সেনাটস্কিও রাশিয়ান নৌ-বাহিনীর আরো দু’জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মাইন অপসারণ ও প্রাসঙ্গিক ঘটনাগুলো দেখানো হয়েছে। এডমিরাল ইউরি চট্টগ্রাম নৌ-বন্দরে নিয়োজিত সোভিয়েত নৌ-বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এডমিরাল ইউরি সাক্ষাৎকারটি দেওয়ার পর পরই ২০২০ সালের কভিড-১৯ লকডাউনের সময় মারা যান।
তথ্যচিত্রটি নিচের লিংকে দেখা যাবে-
https://www.youtube.com/watch?v=aO6ObsqSj9c
ডেস্ক/ইবিটাইমস/এমএইচ