ঝালকাঠিতে লঞ্চ ট্রাজেডির ঘটনায় চতুর্থ দিনে একজনের ভাসমান মৃতদেহ উদ্ধার, অভিযান অব্যাহত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চ ট্রাজেডির ঘটনায় চতুর্থ দিনে সোমবার সকাল ৯টায় ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাচিলাপুর নামক স্থানের বিশখালি নদী থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার দিন ঝালকাঠিতে ৩৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে নিখোঁজ একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা স্থানীয়ভাবে ৩৮ জন। উদ্ধার করা ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা মৃতদের সংখ্যা কত জন তা সঠিকভাবে জানা যায় নি।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে, এই ঘটনায় ঝালকাঠিতে লঞ্চ কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয়রা একটি পুরুষের মরদেহ নদীতে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এবং পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক ভাবে লঞ্চঘাটে অপেক্ষমান স্বজনদের একাধিক ব্যাক্তি মৃতদেহ শনাক্ত করতে এসে তাদের স্বজন না হওয়ায় মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

হাসপাতাল মর্গে এসে কহিনূর বেগম নামের এক নারী মৃতদেহটি তার দূর সম্পর্কের চাচা হাকিম শরীফ(৬০) বলে শনাক্ত করেন। । সে বরগুনা সদরের ৬নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা এবং এই এলাকার ওয়াজেদ উদ্দীন শরীফের পুত্র। এই লঞ্চে হাকিম শরীফ স্ত্রী প্রিয়া বেগম(৫৫) কন্যা হাফসা(১৭) ও পুত্র নাসির উল্লাহ(২) এদের নিয়ে বরগুনা যাচ্ছিল, তবে হাকিম শরিফ ব্যতিত অন্য তিন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। কহিনুর বেগম নিহত পরিবারের কাছে খবর দিলে তারা মৃতদেহ নেয়ার জন্য তারা লাশ নেয়ার জন্য ঝালকাঠি আসছে।

ঝালকাঠি থানার এস.আই মো: খোকন জানান এই লাশটি নারায়নগঞ্জ এর শাকিল নামে একজনের হতে পাড়ে। শাকিল এই লঞ্চের বাবুর্চি ছিল। এ পরিস্থিতে দুজন মৃতদেহের দাবী করায় ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে প্রকৃত দাবীদারকে লাশ প্রদান করা হবে। লাশের ছবি দেখে তার পরিবার থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং তারাও লাশ তাদের কিনা দেখার জন্য নিকট আত্মীয়রা ঝালকাঠি আসছে।

এছাড়াও সোমবার চতুর্থ দিনেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিস ও কোষ্টগাটের কর্মীগণ।এ ঘটনায় জেলা পুলিশের কন্টোল রুমে ৪১ জনের নিখোজের তালিকা জমা হয়েছে।

বাধন রায়/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »