ওমিক্রোন আতঙ্ক সত্ত্বেও অস্ট্রিয়ায় করোনার ট্র্যাফিক লাইট তিন রঙের

অস্ট্রিয়ার চতুর্থ করোনার প্রাদুর্ভাবে আশানুরূপ উন্নতির ফলে বুর্গেনল্যান্ড রাজ্যকে পুন:রায় করোনার হলুদ জোনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে অস্ট্রিয়াকে তিন রঙে রঞ্জিত করেছে।গত এক সপ্তাহে অস্ট্রিয়ার পূর্বাঞ্চলের রাজ্য বুর্গেনল্যান্ডে প্রতি এক লাখ জনপদে করোনার সংক্রমণ ৫০ এর নীচে নেমে আসায় করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন বুর্গেনল্যান্ডকে করোনার অত্যন্ত কম ঝুঁকিপূর্ণ হলুদ জোন ঘোষণা করেছে।

রাজধানী ভিয়েনা সহ লোয়ার অস্ট্রিয়া(NÖ), Salzburg ও Steiermark রাজ্যে গত এক সপ্তাহে প্রতি এক লাখ জনপদে করোনার সংক্রমণ ৫০ এর উপরে থাকায় এই চার রাজ্য এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কমলা জোনেই থাকছে।

অন্যদিকে অস্ট্রিয়ার ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে আপার অস্ট্রিয়া(OÖ),Tirol, Kärnten ও Vorarlberg রাজ্যে গত এক সপ্তাহে প্রতি এক লাখ জনপদে করোনার সংক্রমণ ১০০ শতের উপরে থাকায় রাজ্য চারটি এই সপ্তাহেও করোনার অতি ঝুঁকিপূর্ণ লাল জোনেই থাকছে।ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তারের আশঙ্কা ব্যতীত অস্ট্রিয়ার করোনা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে।ভিয়েনার ফ্রি মেট্রো পত্রিকা জানিয়েছে, অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত ওমিক্রোনে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪১৯ এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওমিক্রোন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের বিস্তার হ্রাসে অস্ট্রিয়া ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।অস্ট্রিয়া গত সপ্তাহে অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর ডেপুটি চীন অফ স্টাফ ও দেশের জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধানের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি জাতীয় করোনার টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্ক ফোর্সের এখন প্রধান কাজ দেশের উপর করোনার নতুন রূপ ওমিক্রোনের প্রভাব বিস্তারকে প্রতিহত করা।

অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় দৈনিক Kronen Zeitung জানিয়েছে,অস্ট্রিয়া দ্রুত সংক্রামক নতুন ওমিক্রোন বৈকল্পিকের আগমনের বিরুদ্ধে নতুন কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে নিজেকে সজ্জিত করছে। তবুও,করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন বর্তমান সময়ের উপর ভিত্তি করে অস্ট্রিয়ার করোনার সংক্রমণের বিস্তারের একটা স্বস্তিদায়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। এখন দেখা যাক, অস্ট্রিয়া ওমিক্রোন থেকে নিজেকে কতটা নিরাপদে রাখতে পারে।

অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, জার্মানি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির তালিকা থেকে অস্ট্রিয়াকে সরিয়ে দিয়েছে। এপিএ জানায়, আগামী শনিবার থেকে অস্ট্রিয়া আর জার্মানির জন্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকবে না।আজ বৃহস্পতিবার জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে বলে জানিয়েছে এপিএ।

এপিএ আরও জানায়, বৃহস্পতিবার ২৩ ডিসেম্বর  জার্মানির রবার্ট  কোচ ইনস্টিটিউট এ ঘোষণা দিয়েছে।  গত ১৪  নভেম্বর থেকে, মিটেলবার্গ (ভোরালবার্গ) এবং জুংহোলজ এবং রিস ভ্যালি (উভয়টি তিরল) ব্যতীত সমস্ত অস্ট্রিয়াকে একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল,যেগুলি শুধুমাত্র জার্মানি থেকে অ্যাক্সেসযোগ্য ছিল।

অস্ট্রিয়া থেকে জার্মানিতে প্রবেশের সময় একটি অনলাইন এন্ট্রি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।তাছাড়াও টিকাবিহীন ব্যক্তিদের জন্য দশ দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা দ্রুততম সময়ে প্রবেশের পরে পঞ্চম দিন থেকে নেতিবাচক করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ করা যেতে পারে।  বারো বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য, কোয়ারেন্টাইন পাঁচ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়।  টিকাপ্রাপ্ত এবং সুস্থ ব্যক্তিরা যারা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রবেশ করতে চান তারা নিবন্ধন করার সময় তাদের সংশ্লিষ্ট প্রমাণ আপলোড করতে পারেন এবং তারপরে তারা কোয়ারেন্টাইন বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত হয়।

জার্মানির এই সিদ্ধান্তের সাথে সাথে অস্ট্রিয়ার পর্যটন মন্ত্রী এলিজাবেথ কোস্টিংগার (ÖVP) অস্ট্রিয়ান পর্যটন শিল্পের জন্য জার্মানির ছুটির দিন প্রস্তুতকারীদের গুরুত্বের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অস্ট্রিয়ার শীতকালীন পর্যটকদের শতকরা ৩৭ শতাংশই জার্মানির নাগরিক।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ২,১৪৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২৮ জন।রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৩৮২ জন।

অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৩৬৮ জন, OÖ রাজ্যে ৩১৪ জন, Steiermark রাজ্যে ৩০১ জন, Tirol রাজ্যে ২৮৩ জন, Vorarlberg রাজ্যে ১৫৬ জন, Kärnten রাজ্যেও ১৫৬ জন, Salzburg রাজ্যে ১৩৭ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৫০ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৭,২১২ ডোজ এবং এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৬২,৬৫,৪৮৪ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭০,১ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২,৫৮,৩৭৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩,৫৯৫ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ১২,১১,৩১২ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৩,৪৭০ জন।এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৪৩০ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,৪৫৪ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »