তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কারের হুমকি থেকে সরে এসেছেন

দশ দেশের রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির কথা বলেছিলেন। সোমবার সেই অবস্থান থেকে খানিকটা সরে এলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরদোগানের নতুন বিবৃতিতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস-সহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত দূতের নোটিস জারি করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান। সোমবার নিজের সেই অবস্থান থেকে সামান্য সরে এসেছেন তিনি। সোমবার আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এরদোগান বলেন, রাষ্ট্রদূতরা “আমাদের বিচার বিভাগ এবং আমাদের দেশের মানহানির দিকে ঘুরেছিলেন।”

তিনি বিশ্বাস করেন যে রাষ্ট্রদূতরা ভবিষ্যতে “আরও সতর্ক” হবেন। যারা তুরস্কের স্বাধীনতা এবং তুর্কিদের সংবেদনশীলতাকে সম্মান করে না, তাদের এ দেশে স্বাগত জানানো হয় না, বলেছেন এরদোগান।  ব্যক্তির মর্যাদা যাই হোক না কেন।  সংশ্লিষ্ট একাধিক দূতাবাস আয়োজক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করার পর এরদোগান একটি বিবৃতি দিয়েছেন।  মার্কিন দূতাবাস টুইট করেছে, “যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করেছে যে এটি কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিয়েনা কনভেনশনের ৪১ অনুচ্ছেদ মেনে চলে।”

এরদোগান পার্সোনা নন গ্রাটা কথাটি তিনি সরিয়ে নিয়েছেন। কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতকে পার্সোনা নন গ্রাটা ঘোষণা করার অর্থ, এরপর তাকে সে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার বিধান দেয়া হবে। সাধারণত এই নোটিশ জারি হলে রাষ্ট্রদূত নিজেই দেশে ফিরে যান। এরদোগান বলেছিলেন, দশ দেশের রাষ্ট্রদূত তুরস্কে অবাঞ্ছিত। কূটনীতিকদের অনেকেই মনে করেছিলেন, এরপর ওই রাষ্ট্রদূতদের দেশে ফিরে যেতে বলা হবে। কিন্তু গতকাল সোমবার এরদোগান জানিয়েছেন, আপাতত ওই রাষ্ট্রদূতদের ফিরে যেতে হবে না। তাদের উপর জারি করা নোটিশ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কেন এরদোগানের কঠোর অবস্থানে শিথিলতা ? এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন নিজের অবস্থান বদল করলেন এরদোগান। এরদোগান নিজে বলেছেন, ওই ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত নিজেদের অবস্থান বদল করেছেন। সে কারণেই তিনি কিছুটা নরম হয়েছেন। তুরস্কের দাবি, ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত একটি নতুন বিবৃতি জারি করেছেন। সেখানে তারা বলেছেন, তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে চান না। বস্তুত, আন্তর্জাতিক কূটনীতির নীতি অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রদূত সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন না। ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত তা স্বীকার করেছেন। এরপরেই বরফ কিছুটা গলেছে বলে তুরস্কের প্রশাসনের দাবি। ওই বিবৃতির পরেই এরদোগান পার্সোনা নন গ্রাটা-র নোটিশ তুলে নেন বলে জানানো হয়েছে।

কূটনৈতিক চাপ, ১০টি শক্তিশালী পশ্চিমা দেশের বিরুদ্ধে পার্সোনা নন গ্রাটা জারি করেছিলেন এরদোগান। কূটনীতিকদের বক্তব্য, ওই নোটিশ জারি রাখলে ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরতে হতো। যা তুরস্কের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে নিয়ে যেত। এমনিতেই তুরস্কের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক ক্রমশ জটিল হচ্ছে। তার মধ্যে এরদোগান এ কাজ করলে কার্যত সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতো বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। এরদোগান ও তা আঁচ করতে পেরেছিলেন বলেই সামান্য হলেও নরম হয়েছেন বলে কূটনীতিকদের মত। অন্যদিকে, ১০টি দেশও প্রকাশ্যে সংঘাতের রাস্তায় যেতে চায়নি। তাই নতুন বিবৃতি জারি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে,তুরস্কের জেলে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি মানবাধিকার কর্মী ওসমান কাভালা। তার মুক্তির দাবিতে বিবৃতি জারি করেছিলেন ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূত। তারপরেই বিতর্ক শুরু হয় তুরস্কের সরকারের সাথে।

অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরদোগানের নতুন বিবৃতিতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরদোগানের বিবৃতির পর এক বিবৃতিতে বলে,”আমরা আশা করি যে তুরস্কের পক্ষ থেকে বর্তমান বিবৃতিগুলি ডি-এস্কেলেশনের লক্ষণ।”

একই সময়ে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল লিনহার্ট (ÖVP) এর আগে তার তুর্কি প্রতিপক্ষ মেভলুত কাভুসোগলুর সাথে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন।

তিনি ইইউ-তুরস্ক সম্পর্কের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।  অস্ট্রিয়া “তার ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় অব্যাহত রেখেছিল,” পররাষ্ট্র দপ্তর জোর দিয়েছিল।  কেউ সম্ভাব্য আরও ব্যবস্থা সম্পর্কে অনুমান করতে চায় না। অস্ট্রিয়া পরবর্তীকালে দশটি দেশের ঘোষণার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিল।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »