অস্ট্রিয়ার করোনার সংক্রমণ স্থিতিশীল, এই সপ্তাহে কোন রাজ্য লাল জোনে নেই

অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন জানিয়েছে, অস্ট্রিয়ার করোনা পরিস্থিতি পূর্বাভাসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন আজ বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের সাপ্তাহিক নিয়মিত বৈঠকের পর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, এই সপ্তাহে অস্ট্রিয়ার করোনার সংক্রমণের বিস্তার কিছুটা স্থিতিশীল। বলা যায় সংক্রমণের বিস্তার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।গত সপ্তাহে জার্মানির সীমান্তবর্তী সালজবুর্গ রাজ্যকে করোনার সংক্রমণের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ লাল জোন ঘোষণা করা হয়েছিল কিন্ত এই সপ্তাহে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় Salzburg রাজ্যকে পুনরায় লাল থেকে কমলা জোনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফলে এই সপ্তাহে অস্ট্রিয়ার আর কোন ফেডারেল রাজ্য লাল নয়।

অস্ট্রিয়ার করোনা ট্রাফিক লাইট এই সপ্তাহে লাল ছেড়ে দিয়েছে। এর মানে হল যে আর কোথাও সংক্রমণের খুব বেশি ঝুঁকি নেই। অস্ট্রিয়ার পশ্চিমের রাজ্য সালজবুর্গ গত সপ্তাহে লাল উঠলেও এই সপ্তাহে পুনরায় কমলা রঙে ফিরে এসেছে। করোনার নতুন সংক্রমণের বিস্তার হ্রাস পাওয়ায় করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন অস্ট্রিয়ার পূর্বাঞ্চলের রাজ্য বুর্গেনল্যান্ড ও পশ্চিমের রাজ্য তিরলকে কমলা জোন থেকে হলুদ জোনে স্থানান্তরিত করেছে। ফলে এই দুই রাজ্যে করোনার সংক্রমণের বিস্তার কেবল মাঝারি ঝুঁকিতে (হলুদ) রয়েছে। করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্যান্য ফেডারেল রাজ্য সামগ্রিকভাবে এখনও উচ্চ ঝুঁকিতেই রয়েছে।

করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন জানান,নতুন করোনা সংক্রমণের বিকাশ সারা দেশে একই রকম নয়।ট্রাফিক লাইট কমিশনের কাজের নথি অনুসারে, এই প্রবণতা বুর্গেনল্যান্ড, সালজবুর্গ এবং তিরলে তুলনামূলক কিছুটা কম। তবে নিম্ন এবং উচ্চ অস্ট্রিয়া, স্টায়ারমার্ক এবং ভিয়েনায় সংক্রমণের বিস্তারের সম্ভবনা এখনও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়ে গেছে।

কমিশন আরও জানায়, গত সপ্তাহে সালজবুর্গ রাজ্যে প্রতি ১,০০,০০০(এক লাখ) জনপদে করোনায় সংক্রমিত ১০০ শত জনের বেশী হলেও এই সপ্তাহে একশতের নীচে নেমে এসেছে।রাজধানী ভিয়েনা রাজ্যে এক শতের কাছাকাছি হলেও এখনও অতিক্রম করে নি।তাছাড়াও আক্রান্তের চেয়ে দ্রুত সুস্থতার পরিমাণ বেশী হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকেই বলা যায়।

অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন আরও জানিয়েছেন করোনার সংক্রমণের বিস্তারের ঝুঁকিতে সবচেয়ে প্রথমে রয়েছে Oberösterreich(OÖ) রাজ্য। এই রাজ্যে প্রতি এক লাখ জনপদে বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত  ৮৯ জন। কমিশনের তথ্য অনুসারে অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে রাজধানী ভিয়েনায় ৮৫ জন এবং সালজবুর্গ রাজ্যে ৮৩ জন করোনায় আক্রান্ত।

বুর্গেনল্যান্ড ছাড়াও তিরল রাজ্য মাঝারি ঝুঁকির হলুদ জোনে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ আগের সপ্তাহের বিপরীতে এই সপ্তাহে প্রতি এক লাখ জনপদে করোনায় আক্রান্ত এখন ৫০ জনের নীচে নেমে এসেছে।

তবে অস্ট্রিয়ার শীর্ষ সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে,বর্তমান চলমান এই চতুর্থ প্রাদুর্ভাবে সংক্রমণের বিস্তার কিছুটা কমে আসলেও যে কোন মুহুর্তে তা আবারও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে অসাবধানতার কারনে।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১,৭০৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৪০৮ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৩৭৪ জন, NÖ রাজ্যে ২৮১ জন, Steiermark রাজ্যে ২০১ জন, Salzburg রাজ্যে ১৪১ জন, Kärnten রাজ্যে ১১৮ জন, Tirol রাজ্যে ১০৭ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৪৮ জন এবং Burgenland রাজ্যে ২৯ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র দেশে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ১৪,৯৮৯ ডোজ এবং এই পর্যন্ত দেয়ার হয়েছে ১,০৭,৪৪,৮৯৯ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৫৩ লাখ ৬৪ হাজার ২৭১ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬০,১ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৩০,৪০৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৯৪৩ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৬,৯৮,০৪২ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২১,৪১৮ জন।এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ২১৮ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৮৭৩ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস/এম আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »