অস্ট্রিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী পামেলার জনগণের প্রতি করোনার প্রতিষেধক টিকা নেয়ার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন
ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল সোস্যালিস্ট পার্টি অস্ট্রিয়ার (SPÖ) চেয়ারপার্সন ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী (২০১৭) ডা.পামেলা রেন্ডি-ভাগনার আজ ভিয়েনায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের বিরুদ্ধে করোনার চতুর্থ প্রাদুর্ভাবে কোন পরিকল্পনা ছাড়া গ্রীষ্মের ছুটিতে ঘুমিয়ে থাকার অভিযোগ আনেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে করোনার চতুর্থ প্রাদুর্ভাবে দেশে করোনার নতুন সংক্রমণের বিস্তার দিনের পর দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। দেশের বিশিষ্ট সংক্রমণ বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই অস্ট্রিয়ার হাসপাতাল থেকে আইসিইউ ও হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী বৃদ্ধির সতর্কতা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ পুনরায় অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চাপের সম্মুখীন।
পামেলা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দেশের এই রকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সরকার এখনও কোন নতুন পরিকল্পনা নিতে পারে নি। সরকার করোনার এই চতুর্থ প্রাদুর্ভাবে চরম নিষ্ক্রিয়তা ও অবহেলার পরিচয় দিছে। বিরোধী নেত্রী পামেলা স্কুল শুরুর কয়েকদিন পূর্বে তরুণদের মধ্যে টিকা দেওয়ার হার বিশেষভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে করোনার এই নতুন প্রাদুর্ভাবে শিশু ও অল্প বয়সের মানুষ অধিক মাত্রায় সংক্রমিত শনাক্ত হচ্ছে।
SPÖ প্রধান সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ এনে তীব্র সমালোচনার পর দেশের জনগণকে করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণের উদাত্ত আহবান জানান।তিনি জানান, আমাদের দেশে করোনার নতুন সংক্রমণ বিস্তার হ্রাসের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রতিষেধক টিকা মজুত আছে। কাজেই আপনারা সকলে করোনার প্রতিষেধক টিকা নিয়ে নিজে এবং আপনার পরিবার-পরিজন সহ দেশের সংক্রমণ বৃদ্ধির হ্রাসে সহযোগিতা করেন।
পামেলা রেন্ডি-ভাগনার অস্ট্রিয়ার বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বৃদ্ধি চরম”উদ্বেগজনক” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান,বর্তমান করোনার সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাতগুণ বেশি এবং যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে তাদের সংখ্যা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে চার গুণ বেশি। ফেডারেল রাজ্যগুলি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন তাদের হাসপাতাল ও আইসিইউতেও রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।পামেলা বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার গতি হ্রাসে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, এই মুহুর্তে যেখানে করোনার প্রতিষেধক টিকা বৃদ্ধির কথা সেখানে টিকাদান প্রতিদিন কমছে। রেন্ডি-ভাগনার বলেন, “আসলেই করোনার প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার গতির ক্ষেত্রে অস্ট্রিয়া পশ্চিম ইউরোপের তালিকার নীচের দিকে রয়েছে”। গতি এমনকি সবচেয়ে খারাপ পূর্বাভাস (সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে দৃশ্যকল্প) ছাড়িয়ে গেছে। “এই পর্যায়ে, সরকার কেবল গ্রীষ্মের শেষে ঘোষণা করছে যে এটি একটি পরিকল্পনা নিয়ে আসবে।”
যাইহোক, বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে “এই চতুর্থ তরঙ্গকে সমতল এবং এড়াতে” ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এটি স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সম্পর্কে, যা অবশ্যই সুরক্ষিত থাকতে হবে। “আমি ভাবছি কেন গ্রীষ্মের আগে চতুর্থ তরঙ্গের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি?” রেন্ডি-ভাগনার প্রশ্ন রেখেছিলেন। এই গ্রীষ্মে নিষ্ক্রিয়তা ছিল “চরম অবহেলা”। মারাত্মক সংকেত “মহামারী কাটিয়ে উঠেছে” ছিল “সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর”।
গতকাল অস্ট্রিয়ায় করোনায় নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১,৭৫৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৪১৬ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৪০০ জন, NÖ রাজ্যে ২৪৪ জন, Salzburg রাজ্যে ১৮৫ জন, Steiermark রাজ্যে ১৪৯ জন, Tirol রাজ্যে ১৩৫ জন, Kärnten রাজ্যে ১০২ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৮০ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৪২ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গতকাল সমগ্র দেশে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ১৪,১১৯ ডোজ এবং এই পর্যন্ত মোট টিকা দেয়া হয়েছে ১,০৪,৮৬,৩৭৬ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৫২ লাখ ২৩ হাজার ৮৯০ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৮,৫০ শতাংশ।
অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৯৩,৪১৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৭৮৫ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৬,৬৫,৮৯৪ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১৬,৭৩৭ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ১৪৯ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৫৪৩ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।
কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস /এম আর