করোনার চতুর্থ তরঙ্গের সতর্কবাণী দিয়ে ভিয়েনার স্বাস্থ্য বিষয়ক কাউন্সিলের কঠোরতা ঘোষণা

ভিয়েনার সিটি কাউন্সিলর ফর হেলথ পিটার হ্যাকার (SPÖ) যারা করোনার প্রতিষেধক টিকা নেয় নি,তাদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছেন

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় Kronen Zeitung  জানিয়েছেন করোনার চতুর্থ প্রাদুর্ভাব শুরুর ফলে ভিয়েনা রাজ্য ও সিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক কাউন্সিলর পিটার হ্যাকার জানিয়েছেন যারা এখনও করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করেন নি,তাদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তাদের আর খেলাধুলা এবং অবসর সুবিধার অ্যাক্সেস থাকা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

Kronen Zeitung এর সাথে এক সাক্ষাৎকারের কাউন্সিলর পিটার হ্যাকার জানিয়েছেন আমাদের হাতে করোনার সংক্রমণ বিস্তার রোধ করতে আরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ হাতে আছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে করোনার চতুর্থ তরঙ্গটি পুরো শক্তি নিয়ে আমাদের মাঝে ঘুরছে এবং এটি আমাদের দুর্বলতার সুযোগ খুঁজছে।

ভিয়েনার সিটি কাউন্সিলর ফর হেলথ পিটার হ্যাকার এখন ভিয়েনায় করোনার প্রতিষেধক টিকার দেয়ার গতি আরও বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি করোনার নতুন প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে করোনার প্রতিষেধক টিকার আপাতত কোন বিকল্প নাই।

তিনি জানান,”অস্ট্রিয়ায় টিকা দেওয়ার হার বাড়ানোর জন্য আমাদের এখনও চার থেকে ছয় সপ্তাহ আছে – এবং তারপরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে করোনার চতুর্থ তরঙ্গে আমাদের করণীয় কি হবে।”

তিনি তার সাক্ষাৎকারে আরও বলেন,ভিয়েনায় বর্তমানে কোন নিবন্ধন ছাড়াই করোনার প্রতিষেধক টিকাদান কার্যক্রম চলছে। সম্প্রতি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের স্কুল শুরুর আগে করোনার টিকা দিতে বলা হয়েছিল। সিটি কাউন্সিলর পিটার হ্যাকার আরও জানান,”যে সমস্ত শিক্ষকরা করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করেন নি,তারা অবশ্যই ক্লাশ রুমে বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়তে হবে। “যে পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার।  হ্যাকার বলেন, টিকা দেওয়া মানুষ টিকা না দেওয়ার চেয়ে ভিন্ন জীবন পরিস্থিতি খুঁজে পাবে ”।  যদি সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, এবং তারা স্কুলের শুরুতে বৃদ্ধি পাবে, উদাহরণস্বরূপ, টিকা ছাড়ানো শিক্ষকরা মুখোশ দিয়ে পড়াবেন। ”

তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, এখন আমাদের এই নতুন প্রাদুর্ভাব থেকে দ্রুত নিরাপদ থাকতে হলে টিকাদানের বিকল্প নাই। সিটি কাউন্সিলর ফর হেলথ পিটার হ্যাকার জানান, ভিয়েনা শহরের নতুন এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বর্তমানে নতুন করোনায় সংক্রমিতদের মধ্যে শতকরা ৮৫ শতাংশ জনই করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করেন নি। ফলে সহজেই বুঝা যাচ্ছে যতবেশী মানুষ করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করবে,সংক্রমণের বিস্তার ততবেশী কমে আসবে।

”যদি অনেক অল্প বয়স্ক মানুষ এখন টিকা ছাড়াই করোনায় আক্রান্ত হয়, তবে টিকা ছাড়া করোনায় আক্রান্ত বয়স্কদের সংখ্যা হাসপাতালগুলিকে তাদের সীমার মধ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট। ভিয়েনায় ইতিমধ্যেই সামান্য সূচকীয় বৃদ্ধি এবং আজ থেকে এক বছর আগের চেয়ে খারাপ অবস্থানের সম্মুখীন হচ্ছে।  হ্যাকার সতর্ক করে বলেন, “আমরা আমেরিকায় দেখছি কিভাবে যে সমস্ত রাজ্যে করোনার সফল টিকাদানে ব্যর্থ হয়েছে তাদের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল”।

ভিয়েনার সিটি কাউন্সিল ঘোষণা করেছে যে করোনার দ্রুত এন্টিজেন পরীক্ষা সহ করোনার ফ্রি পিসিআর পরীক্ষা  শরতের মধ্যে ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। পিটার হ্যাকার বলেন,তিনি শরৎকালে ভিয়েনায় করোনার ফ্রি পরীক্ষা বন্ধ করার কথা অস্বীকার করেন না।  “ফেডারেল সরকারকে অবশ্যই আগামী সপ্তাহে সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নিয়ম ঘোষণা করতে হবে,” হ্যাকার ব্যাখ্যা করেছেন এবং কঠোর ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন।  যদি এটি না আসে, ভিয়েনা আবার একটি পৃথক পথ যেতে পারে।  “মেয়র মাইকেল লুডভিগ এবং আমি একমত।  আমাদের শহরকে রক্ষা করা আমাদের কাজ। ”

আজ অস্ট্রিয়ায় করোনায় নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৮৯১ জন এবং ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ২৬৫ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ১৫৫ জন,NÖ রাজ্যে ১৫১ জন, Steirmark রাজ্যে ১০৯ জন,Tirol রাজ্যে ৬৫ জন, Salzburg রাজ্যে ৪৮ জন,Kärnten রাজ্যে ৪১ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৩৯ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১৮ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ১২,৫৪৪ ডোজ এবং এই পর্যন্ত মোট টিকাদান সম্পন্ন করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪২ ডোজ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৯৬৮ জন করোনার ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৫,৯ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৬৮,৭৩২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৭৫৬ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৬,৪৯,৪১৭ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৮,৫৫৯ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৫৫ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২২৫ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »