অস্ট্রিয়ার প্রধান বিরোধীদল SPÖ এর চেয়ারপার্সন পামেল কর্মক্ষেত্রেও ৩-জি নিয়ম বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন
ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ায় করোনা ভাইরাসের নতুন সংক্রমণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সরকারের পাশাপাশি বিরোধীদলও উদ্বিগ্ন। অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল সোস্যালিস্ট পার্টি অফ অস্ট্রিয়ার (SPÖ) এর প্রধান এবং এক সময়ের অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী (২০১৭) ডা.পামেলা রেন্ডি ভাগনার অস্ট্রিয়ায় করোনার নতুন প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি দেশে করোনার সংক্রমণের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে, কর্মক্ষেত্রেও ৩-জি নিয়ম প্রবর্তনের জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। ৩-জি হল ১,করোনার নেগেটিভ পরীক্ষার সনদ ২,করোনার প্রতিষেধক টিকার সনদ এবং ৩, করোনা থেকে সুস্থতার সনদ। কাজেই পামেলার বক্তব্য হল অস্ট্রিয়ায় কর্মক্ষেত্রেও সকলকে এই তিনটির একটি সনদ অবশ্যই থাকতে হবে। বিরোধী নেত্রী পামেলা বলেন,বর্তমানে দেশের কর্মক্ষেত্রে কোন সুরক্ষার বিধান নেই, উদাহরণস্বরূপ ওপেন-প্ল্যান অফিস বা মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলির জন্য, বিশেষ নিয়ম শুধুমাত্র স্বাস্থ্য খাতে বা গ্রাহকের যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
পামেলা অত্যন্ত জোড়ালোভাবে দাবী করে বলেন, অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভল্ফগাং মুকস্টাইন (গ্রিনস) কে অবশ্যই সামাজিক অংশীদারদের সাথে দ্রুত আলোচনা করতে হবে। SPÖ নেত্রী আজ বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে তার উদ্বেগ ও পরিকল্পনার কথা জানান।
পামেলা আরও বলেন,আমি বিরোধীদল SPÖ এর ফেডারেল চেয়ারপার্সনের জন্য, যদি একটি স্বেচ্ছাসেবী কফি হাউস পরিদর্শনের জন্য ৩-জি সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়, তবে এটি বৈপরীত্যপূর্ণ হবে কেননা এই নিয়ম কিন্তু কর্মস্থলে নয়, যেখানে একজনকে থাকতে হয় অনেক সহকর্মীদের সাথে এবং অনেক বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। থ্রি-জি নিয়ম প্রবর্তন প্রায় চার মিলিয়ন শ্রমিক এবং তাদের আত্মীয়দের জন্য একটি “বিশাল নিরাপত্তা লিভার” বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
আরেকটি দাবি: কোম্পানির টিকা সম্প্রসারণ উপরন্তু, থ্রি-জি নিয়মটি আইনগত স্পষ্টতা এনে দেবে যে কোন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়োগকর্তারা নিতে এবং টিকা দেওয়ার হার বাড়ানোর অনুমতি দেয়, SPÖ এর পরিকল্পনা অনুযায়ী। এই প্রসঙ্গে,রেন্ডি-ভাগনার কোম্পানির টিকা সম্প্রসারণেরও সমর্থন করেন।
এদিকে আজ অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা Oe24.at জানিয়েছেন বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় পুনরায় করোনার দৈনিক সংক্রমণ ১,০০০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সরকার। পত্রিকাটি জানায় তাদের সাথে এক সাক্ষাৎকারের অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভল্ফগাং মুকস্টাইন বলেন, তিনি পুনরায় অফিস-আদালত সহ সকল ইন্ডোর ইভেন্টে মাস্ক বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনা করছেন।
একটি সূত্র জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ায় সম্ভবত পুনরায় এফএফপি২ মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ তার ফেসবুক একাউন্টে এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন করোনার সংক্রমণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে তিনি দেশের শীর্ষ স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সাথে তার মন্ত্রণালয় থেকে এক অনলাইন ভিডিও কনফারেন্স করেছেন এবং তাদের বিভিন্ন পরামর্শ ও মতামত নিয়েছেন। আগামীকাল সম্ভবত স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিবেন।
অবশ্য গত মে মাসে অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ বলেছিলেন যে,তিনি চান এই গ্রীষ্মেই অস্ট্রিয়া থেকে মাস্ক পড়া উঠিয়ে দেয়া হবে। এখন পুনরায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে সরকার বাধ্য হয়েই তার পুরানো বিধিনিষেধে ফিরে আসতে হচ্ছে।
আজ সন্ধ্যায় অস্ট্রিয়ার করোনা কমিশন তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে বসছে। এই কমিশনে আছেন অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান ও তার অফিস, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তার অফিস,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার মন্ত্রণালয়, অস্ট্রিয়ার শীর্ষ সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ এবং ৯ টি রাজ্যের গভর্নর বা তাদের প্রতিনিধি। অস্ট্রিয়ার সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার কোন রাজ্য,জেলা বা অঞ্চল এখন আর সবুজ জোনে নেই।
অস্ট্রিয়া ও বাংলাদেশ থেকে যৌথ ভাবে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা ইউরো বাংলা টাইমস ও ইউরো সমাচার পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সকলকে পুনরায় বিধিনিষেধ না থাকা সত্ত্বেও করোনার স্বাভাবিক নিয়ামাবলী মেনে চলার অনুরোধ করছি ।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/ এম আর