অস্ট্রিয়ায় সেপ্টেম্বর থেকে শুরু নতুন শিক্ষা বৎসরে করোনার বিধিবিধান প্রণয়নের কাজ চলছে
ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুসারে অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছেন সম্ভবত আগামী সপ্তাহে শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসমান (ÖVP) দেশে আগামী শরতের স্কুল পরিচালনার পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। উল্লেখ্য যে,জুলাই-আগস্ট দুই মাস গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর অস্ট্রিয়ার তিন পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভিয়েনা,লোয়ার অস্ট্রিয়া ও বুর্গেনল্যান্ডে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে স্কুল খুলছে। বাকী রাজ্য সমূহে স্কুল খুলছে এক সপ্তাহ পর।
এরই মধ্যে বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় পুনরায় করোনার নতুন প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। তাই স্কুল খোলার পূর্বে অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের দেশের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে কিছু বিধিবিধান প্রনয়ন করতে যাচ্ছেন।
সংবাদ সংস্থা আরও জানিয়েছেন স্কুল খোলার প্রথম দুই সপ্তাহে স্কুলে শিক্ষার্থীদের একাধিকবার করোনার পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে স্কুলে মাস্কের প্রয়োজনীয়তা এবং পৃথকীকরণের বিষয় সম্পর্কে এখনও কোন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় নি।তবে আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণের বিস্তার বৃদ্ধি পেলে মাস্ক পড়ার নিয়ম আসতে পারে। তবে যে সমস্ত শিক্ষার্থী করোনার প্রতিষেধক টিকা নিয়েছে, তাদের জন্য করোনার কোন বাধ্যতামূলক পরীক্ষা নেই। অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে ১২ বছর বয়স থেকেই করোনার প্রতিষেধক টিকাদান কার্যক্রম চলছে।
তবে এপিএ জানিয়েছেন স্কুল ছুটির পূর্বে স্কুলে যে সমস্ত নিয়ম প্রচলন ছিল তার প্রায় সবই থাকছে প্রথম কয়েক সপ্তাহ। আপাতত, স্কুলের শুরুতে নিয়মিত করোনার পরীক্ষা থাকবে। পূর্বের স্কুল বছরের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শুরুতে, যেসব শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি ক্লাসে অংশ নিতে চেয়েছিল তাদের সপ্তাহে তিনবার একটি দ্রুত অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করতে হয়েছিল। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে থ্রিজি নিয়মটিও কার্যকর ছিল: যেসব শিক্ষার্থীরা অন্য অনুমোদিত সংগ্রহ পয়েন্টে বৈধ পিসিআর পরীক্ষা বা অ্যান্টিজেন পরীক্ষা উপস্থাপন করেছিল তাদের জন্য বাধ্যতামূলক দ্রুত পরীক্ষার আর প্রয়োজন ছিল না। এমনকি টিকা দেওয়া শিক্ষার্থীদের আর পরীক্ষা করতে হয়নি, যদিও সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল – এটি মূলত বয়স্ক ছাত্রদের যারা একই পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের সাথে বসবাস করে, বৃত্তিমূলক শিক্ষার্থী যারা তাদের প্রশিক্ষণ কোম্পানিতে টিকা দেওয়া হয়েছিল, অথবা স্বাস্থ্য পেশার জন্য স্কুলে তরুণদের প্রভাবিত করেছিল।
নতুন স্কুল বৎসরের প্রথম দুই সপ্তাহে কমপক্ষে তিনবার করে করোনার পরীক্ষা নেওয়া হবে,গত জুলাই মাসে স্কুল শেষে শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসমান ঘোষণা করেছিলেন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন যে,আরো অর্থপূর্ণ পিসিআর পরীক্ষাগুলি আরও বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হবে এবং থ্রিজি(3G) নিয়মটিও প্রযোজ্য থাকবে। তিনি গত সপ্তাহান্তে আবার বলেছিলেন: যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের পরীক্ষা করতে হবে না। এটি এখন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে স্কুলছাত্রীদের প্রভাবিত করবে, কারণ বারো বছর বয়সী শিশুদের এখন টিকা দেওয়া যেতে পারে।
এপিএ আরও জানান,আগামী শিক্ষা বৎসরে স্কুলে করোনার প্রতিষেধক টিকাদান কার্যক্রম এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা প্রনয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্কুলে করোনার প্রতিষেধক টিকাদান কার্যক্রম সরাসরি স্কুলের স্থানে অথবা স্কুল দ্বারা আয়োজিত টিকা কেন্দ্রগুলিতে কমপক্ষে যৌথ ভিজিটের মাধ্যমে পরিকল্পনা করা হয়েছে – এটি কীভাবে সংগঠিত হওয়া উচিত তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফেডারেল রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ টিকার জন্য দায়ী, এবং তাদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করতে হবে। আরও একটি সূত্র জানিয়েছেন আগামী শীতে ইইউ ১২ বছরের নীচে শিশুদেরও করোনার প্রতিষেধক টিকার অনুমোদন দিতে পারে।
আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৩৬৪ জন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন।
রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১১০ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৫১ জন, OÖ রাজ্যে ৪৮ জন,Tirol রাজ্যে ৪৬ জন, Steiermark রাজ্যে ৩৯ জন, Vorarlberg রাজ্যে ২৭ জন, Kärnten রাজ্যে ২২ জন, Salzburg রাজ্যে ১৯ জন এবং Burgenland রাজ্যে ২ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ দেশে করোনার প্রতিষেধক টিকাদান করা হয়েছে ২৫,১৯৪ ডোজ এবং এই পর্যন্ত করোনার মোট টিকাদান সম্পন্ন করা হয়েছে ৯৭,১৯,৯২৮ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন ৪৬ লাখ ২১ হাজার ৭৭৬ জন,যা অস্ট্রিয়ার মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫১,৮ শতাংশ।
অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৫৯,৮৭২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৭৩৯ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ৬,৪৩,৬৯২ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৬,৪৩৯ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩১ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১২৪ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস