আজ থেকে জার্মানিতে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে

ইউরোপ ডেস্কঃ আজ থেকে জার্মানিতে প্রবেশ করতে হলে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ,করোনার টিকা গ্রহণের সনদ

অথবা করোনা থেকে মুক্তির সনদ দেখাতে হবে।

জার্মানির সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন বার্লিনের কেন্দ্রীয় সরকার আজ রবিবার ১ আগস্ট থেকে অবকাশ থেকে জার্মানির নাগরিকদের সহ সকল বিদেশীদের তার দেশে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে (DW) জানিয়েছেন বিদেশ থেকে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।

ডয়েচে ভেলে জানান, ইউরোপের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে সমগ্র জার্মানির স্কুলগুলিতে গ্রীষ্মের ছুটি একই সময়ে দেয়া হয় না। অবকাশ যাপনকারী যাত্রীদের ভিড় এড়াতে রাজ্য অনুযায়ী প্রায় ছয় সপ্তাহের ছুটির সময়কাল আগে-পরে স্থির করা হয়৷ ফলে ছুটির মৌসুম কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে৷ চলতি বছর ছুটির মৌসুমের আগে করোনা সংক্রমণের হার অত্যন্ত কমে গেলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তা ধীরে হলেও লাগাতার বেড়েই চলেছে৷

জার্মানির করোনার পরিসংখ্যান ও গবেষণার সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের(Robert Koch Institut) সূত্র অনুযায়ী বিদেশে ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরা মানুষের মধ্যে সংক্রমণের প্রবণতা বাড়ছে৷ মূলত স্পেন, তুরস্ক ও নেদারল্যান্ডসে গেলে সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে৷ ক্রোয়েশিয়া ও গ্রিসে গিয়েও আক্রান্ত হচ্ছেন জার্মানির মানুষ৷ তবে প্রায় ৮০ শতাংশ সংক্রমণ জার্মানির মধ্যেই ঘটছে ৷ ফলে জার্মানির সরকার দেশে পুনরায় করোনার সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে তড়িঘড়ি করে এই বিধিনিষেধের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। আজ রবিবার ১লা আগস্ট থেকেই যে কোনো দেশ থেকে ও যে কোনো পথে জার্মানিতে প্রবেশ করতে হলে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষদের নেগেটিভ করোনা টেস্ট দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ তবে টিকাপ্রাপ্ত ও করোনাজয়ীদের এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।

জার্মানির কেন্দ্রীয় সরকারের উপ প্রধান ভাইস চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস এত দ্রুত এমন কড়া নিয়ম চালু করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার খাতিরে এমন পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

জার্মানির সরকার এই নতুন কড়া নিয়ম চালু করলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে৷ ফেডারেল পুলিশকর্মী সংগঠনের এক কর্মকর্তা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যে জার্মানিতে প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থল সীমান্তে যাতায়াতের উপর নিয়ন্ত্রণ কার্যত অসম্ভব৷ এমনকি বহিরাগতদের উপর মাঝেমধ্যে ‘ব়্যানডম চেক’ করতে গেলেও যত সংখ্যক পুলিশ বা অন্যান্য বিভাগের কর্মীর প্রয়োজন পড়বে, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হবে ৷

করোনা সংকটের কারণে জার্মানিতে পণ্য ও যন্ত্রাংশের সরবরাহ বেশ কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে৷ এবার সীমান্তে কড়াকড়ি হলে আমদানি-রপ্তানির উপর আরও চাপ পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট শিল্পজগত সতর্ক করে দিচ্ছে৷ বিশেষ করে ট্রাক থামিয়ে চালকদের করোনা টেস্টের ফল দেখা হলে মূল্যবান সময় নষ্ট হবে এবং সীমান্তে যানজটেরও আশঙ্কা রয়েছে৷ রপ্তানি শিল্পক্ষেত্র থেকে জাতীয় স্তরে বিচ্ছিন্ন বিধিনিয়মের বদলে ইউরোপীয় সমাধান সূত্রের আহ্বান জানানো হয়েছে ৷

যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার নিয়ম চালু করায় অনেক মানুষ জটিলতা এড়াতে করোনা টিকা নেবার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে৷ উল্লেখ্য, ফ্রান্স, ইটালি ও গ্রিসের মতো দেশে সরকার কড়া বিধিনিয়ম চালু করার ঘোষণা করার পর আচমকা টিকা নেবার হিড়িক পড়েছিল৷ টিকা না নিয়ে অসুবিধার সম্মুখীন হলে অনেক দেশের মানুষ সংশয় বা আলস্য কাটিয়ে করোনা টিকা নিয়েছেন৷

আজ জার্মানিতে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৪৮৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন।

জার্মানিতে এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭,৭৭,২০৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৯২,১৭২ জন। জার্মানিতে করোনা থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৩৬,৫৪,৫০০ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৯,৫৩৫ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩৫৯ জন।

কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »