ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাবে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে বৃটেন সহ সমগ্র ইউরোপে
ইউরোপ ডেস্কঃ জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমার ফলে বিধিনিষেধ শিথিল করে বিপাকে পড়েছে ইউরোপের অনেক দেশ৷ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাবের বা প্রকোপের ফলে নতুন করে আবার বিধিনিষেধ চাপাতে হচ্ছে অনেক দেশকেই। ব্রিটেন অত্যন্ত ঝুঁকি জেনেও আগামী ১৯ জুলাই থেকে করোনার প্রায় সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
বৃটেনের জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা মিরর জানিয়েছেন গত ১১ জুলাই পর্যন্ত এনএইচএস (NHS) ইংল্যান্ডের পরিসংখ্যান অনুসারে মোট ৫০২ জন কোভিড রোগী ভর্তি নিবন্ধন করা হয়েছে। যা আগের সপ্তাহ থেকে প্রায় শতকরা ২৯ শতাংশ বেড়েছে এবং ৬ মার্চের পর এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা। ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইংল্যান্ডের হাসপাতাল সমূহে ক্রমশ করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
গতকাল বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক সাংবাদিক সম্মেলনেও ইংল্যান্ড সহ সমগ্র বৃটেনে করোনার পরবর্তী প্রাদুর্ভাবের ব্যাপারে সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি জানান,সরকারি বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী আগষ্ট মাসের মাঝামাঝির পর থেকে বৃটেনে করোনায় দৈনিক মৃত্যু ২০০ শতাধিক এবং দৈনিক হাসপাতালে করোনার রোগীর ভর্তি বেড়ে ২,০০০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। মিরর আরও জানায়, গত ১২ জানুয়ারী একদিনেই করোনার আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৩,৮১২ জন।

জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে আরও জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার কিছুটা কমতেই ইউরোপের একাধিক দেশ তড়িঘড়ি করে বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছিল৷ বিশেষ করে আরো ছোঁয়াচে ডেল্টা ভেরিয়েন্টের হুমকি সত্ত্বেও সেই বিপদ দূরে রাখতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি৷ ফলে সংক্রমণের হার আবার দ্রুত বেড়ে চলেছে৷ পরিস্থিতি সামলাতে আবার কিছু বিধিনিষেধ চালু করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার ও প্রশাসন৷ গ্রীষ্মের ছুটির মৌসুমে এমন বিপদ দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলছে৷ পর্তুগাল, স্পেন ও সাইপ্রাসের মতো দেশে পর্যটনের সুযোগ আবার খুলে যাবার পর সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়ে গেছে৷
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ সমূহে কিছুটা বিলম্বে টিকাদান শুরু হলেও গত কয়েক মাসে বিপুল সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে৷ টিকার সরবরাহ নিয়েও আর তেমন কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছে না৷ কিন্তু এখনো ইউরোপের জনসংখ্যার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নানা কারণে করোনা টিকা পায় নি৷ টিকা কর্মসূচিতে গতি আনতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তিনি সব স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা করেছেন৷ সিনেমা হল বা ট্রেনের মতো বদ্ধ জায়গায় প্রবেশ করতে হলে সে দেশে করোনা টিকা অথবা করোনা পরীক্ষার ফলাফল দেখাতে হবে৷ জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশন ভাষণে মাক্রোঁ বলেন, দেশের প্রায় সব মানুষ করোনাটিকা না নিলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা কার্যত অসম্ভব৷ উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে শুধুমাত্র ইটালি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করেছিল৷ ফ্রান্স ও গ্রিসও এখন সেই পথে এগোচ্ছে৷
ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে ব্রিটেন সংক্রমণের উচ্চ হার সত্ত্বেও আগামী সপ্তাহ থেকে করোনা সংক্রান্ত সব বিধিনিয়ম তুলে নেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অবশ্য দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সাবধনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন৷ মহামারির ঝুঁকি সত্ত্বেও তিনি আইনি পদক্ষেপের বদলে পরামর্শের ভিত্তিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান৷ দেশের প্রায় ৬৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক টিকার সব ডোজ পেয়ে যাওয়ায় জনসন আর বাকিদের জন্য বিধিনিয়ম চালু রাখার পক্ষে নন৷
গতকাল মঙ্গলবার ১৩ জুলাই বৃটেনে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৩৬,৬৬০ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৫০ জন। বৃটেনে এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫১,৯১,৪৫৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১,২৮,৪৮১ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৪৩ লাখ ৮২৩ জন।
বর্তমান বৃটেনে করোনায় আক্রান্ত সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫২ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আইসিইউতে আছেন ৪১৭ জন।
কবির আহমেদ /ইবিটাইমস





















