বৃটেন জরুরী কাজে সহায়তার জন্য দেশের কোথাও কোথাও সেনা সদস্যদের নামানো হয়েছে
ইউরোপ ডেস্কঃ বৃটেন থেকে বৃটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে ভারতের করোনার নতুন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ভাইরাস ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করেছে। বৃটিশ সরকার ভারতীয় এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরীর নিমিত্তে করোনার গণ পরীক্ষা ও ভ্যাকসিন প্রদান বৃদ্ধি করেছে।
করোনার হটস্পট বল্টনের(Bolton) আগের মতো, বিবিসি-র হিসাবে অন্যদের মধ্যে বলা হয়েছে, সরকার গ্রেটার ম্যানচেস্টার বা ল্যাঙ্কাশায়ারের কাউন্টির মতো বিশেষত ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলে নাগরিকদের নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করার জন্য সেনা সদস্যদের নিয়োজিত করেছেন।
ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের বিস্তার লাভ করায় ম্যানচেস্টার এবং তার আশপাশের এলাকায় ১৮ বছরের বেশী বয়সের প্রত্যেককেও টিকা অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলি বুক করতে বলা হয়েছে – যদিও দেশব্যাপী কেবল ২৫ বছর বা তার বেশী বয়সের লোকেরা প্রকৃতপক্ষে টিকা দেওয়ার জন্য যোগ্য। এই সমস্ত অঞ্চলের মেয়ররা তাদেরকে আরও বেশী টিকা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
খবরে বলা হয়েছে খুব দ্রুত সংক্রামক এই ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্রমবর্ধমান বিস্তারটি গ্রেট ব্রিটেনে নতুন করে মহামারীর আগমনের ঈঙ্গিত দিচ্ছে। এই অঞ্চলে দীর্ঘ দিন যাবত প্রতি ১,০০,০০০ লাখ জনপদে সংক্রমণ ২০ এর নীচে থাকার পর আজ তা বেড়ে ৪৬ এ পৌঁছিয়াছে। সাধারণত প্রতি এক লাখ জনপদে সংক্রমণ ৫০ জনের বেশী হলেই বিপজ্জনক হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।
এদিকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছেন বৃটেনের বর্তমান করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ও অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। পরিস্থিতি বিবেচনায় টিকার দ্বিতীয় ডোজ আরো দ্রুত দেওয়ার জন্য চাপ বাড়ছে বৃটিশ সরকারের উপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃটেনের পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে করোনা টিকা প্রদানের ঝুঁকি তুলে ধরছে।
খবরে বলা হয়, বৃটেনে দ্রুত ছড়াতে থাকা করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা প্রকরণ গত ডিসেম্বরে ভারতে প্রথম শনাক্ত হয়। নেপালসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ঢেউয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে এই ভ্যারিয়েন্টটির। বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ৪৯টি দেশে এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বৃটেনে এর সংক্রমণ শুরুর পর বৃটিশ বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসের মোট সংক্রমণের অর্ধেক নতুন করে বিশ্লেষণ করছেন।
বি.১.৬১৭.২ নামে পরিচিত ভ্যারিয়েন্টটি আসন্ন শীতকালে বৃটেনে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হতে পারে বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণ শেষে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে এটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়ায়। তবে এই ভ্যারিয়েন্টটির উৎপত্তি এমন সময় ঘটেছে যখন বৃটেন ও অন্য ধনী রাষ্ট্রগুলো টিকাদান কর্মসূচি অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে।
ইংল্যান্ডে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে চার জনকেই টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। এতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়া ও মৃত্যুর হার কমেছে।পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের নতুন এক গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, যাদের টিকা নেওয়া শেষ হয়েছে, তারা নতুন এই ভ্যারিয়েন্টটি থেকে সুরক্ষিত।
উল্লেখ্য, ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা টিকাটি ভারতে নতুন এই ভ্যারিয়েন্টটির বিরুদ্ধে ৮৮ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছিল। তবে বৃটেনের ক্ষেত্রে তা গড়ে ৯৩ শতাংশ কার্যকর বলে জানিয়েছে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার টিকাটি ভারতে এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ৬০ শতাংশ ও বৃটেনে পাওয়া ভ্যারিয়েন্টটির বিরুদ্ধে ৬৬ শতাংশ কার্যকর। তবে কিছু গবেষণায় ফাইজার ও এস্ট্রাজেনেকার টিকার কার্যকারিতার মধ্যে কোনো পার্থক্য পায়নি ইংল্যান্ডের গবেষকরা।
বৃটেনে ভারতের এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টটির দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে এটি সেখানে প্রথম যে জায়গা থেকে ছড়িয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের বল্টনে ভ্যারিয়েন্টটির দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। ওই এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। যার কারণে এর সংক্রমণের হার বেশী হতে পারে বলে জানিয়েছেন বৃটেনের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত ৩৬৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন।
রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১০৩ জন।অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৯৭ জন, OÖ রাজ্যে ৫০ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৩৯ জন,Tirol রাজ্যে ২৮ জন,Steiermark রাজ্যে ২৪ জন,Kärnten রাজ্যে ১৪ জন, Burgenland রাজ্যে ৮ জন এবং Salzburg রাজ্যে ৩ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে আজ সমগ্র দেশে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে ৯৩,৯৬০ ডোজ। আর এই পর্যন্ত মোট ভ্যাকসিন প্রদান সম্পন্ন করা হয়েছে মোট ৫৮,০৭,৯৬৬ ডোজ।
অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৪৭,৬৮৮ জন এবং এই পর্যন্ত মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৬৫০ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৬,৩২,১৮৮ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৪,৮৫০ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ১২৪ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৭৬ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।
কবির আহমেদ /ইবি টাইমস