ভিয়েনা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইউরোপের অন্য কোনও দেশে রাশিয়ার হামলার ইচ্ছা নেই নিশ্চয়তা পুতিনের রোমানিয়া-বুলগেরিয়ার যৌথ অভিযানে ৮ মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার মাধবপুরে ইঞ্জিন বিকল, ৩ ঘন্টা পর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় যাত্রা বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় সেতুসহ পাঁচ দাবিতে শাহবাগে ভোলাবাসীর অবস্থান পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ৭০,৬৬০ প্রবাসীর নিবন্ধন বাউল শিল্পী আবুল সরকারের ফাঁসির দাবিতে লালমোহনে বিক্ষোভ লালমোহনে এসটিএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন অস্ট্রিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে পর্তুগালের অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ জয়লাভ খাল–বিলহীন খিলগাতীতে সাড়ে ৯ কোটি টাকার ব্রিজ নির্মাণ, প্রশ্ন স্থানীয়দের

কানাডায় নিহত মুসলিম পরিবারের শোক সভায় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৫:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুন ২০২১
  • ২৫ সময় দেখুন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিহতদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ শত শত মানুষ যোগ দেয় বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

 উল্লেখ্য যে,কানাডার অন্টারিওর লন্ডনে রোববার সন্ধ্যা ৯ টার দিকে হাঁটার সময় নাথানিয়েল ভেলটম্যান নামক ২০ বছর বয়সের এক মুসলিম বিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ যুবক তার ট্রাকটি ইচ্ছাকৃত ভাবে একই মুসলিম পরিবারের ৫ সদস্য ওপর উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। অবশ্য পুলিশ পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে সাত কিলোমিটার দূরত্ব থেকে তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে সে মুসলিম পরিবার দেখেই তাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ট্রাক তাদের ওপর উঠিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনাস্থলেই পরিবারের ৪ জন নিহত হন এবং ৯ বছরের এক সদস্য আহত হন। পুলিশ নিহতদের নাম প্রকাশ করেছেন।

 স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উদ্ধৃতি রয়টার্স জানিয়েছেন ট্রাক হামলায় নিহতরা হলেন,সালমান আফজাল (৪৬), তার স্ত্রী মাদিহা সালমান (৪৪), তাদের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে ইয়ুমনা আফজাল এবং আফজালের ৭৪ বছর বয়সী মা। তবে ওই হামলায় বেঁচে গেছে তাদের ৯ বছর বয়সী ছেলে ফয়েজ আফজাল। সে এখন হাসপাতালে ভর্তি। তবে তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। পরিবারটি তিন প্রজন্ম যাবত এই এলাকায় বসবাস করে আসছেন।

 গতকালের শোক ও স্মরণসভায় স্থানীয় লন্ডন মুসলিম মসজিদের চেয়ারম্যান বিলাল রাহহাল বলেন, এটা আমাদের শহর। আপনার গায়ের রং, ধর্ম বিশ্বাস বা আপনি যেখানে জন্ম নিয়েছেন, এসব কারণে কাউকে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ দেবেন না। এটা আমাদের শহর। আমরা কোথাও যাবো না। তিনি যারা নিহত হয়েছেন সকলকে শহীদের মর্যাদা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহতায়ালার নিকট দোয়া করেন।

শোক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন,তার সরকার এই হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে তা জানাননি তিনি। এর আগে মসজিদের সিঁড়িতে ফুল রাখেন ট্রুডো। তিনি বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড,আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে তার সমবেদনার কথা জানান এবং তাদেরক ধৈর্য্য ধারণ করার সাহস যোগান।

 ঘটনার পর পরই লন্ডন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা পল ওয়েইট বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, নিহতরা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন বলেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে৷’’এদিকে স্থানীয় পত্রিকা “লন্ডন ফ্রি প্রেস” জানিয়েছেন হত্যাকারী নাথানিয়েল ভেলটম্যান (২০)কে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে।

 ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার দূরেই এই মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের দরজার দুপাশে ফুল রেখে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই। শোকসভায় উপস্থিত বাসিন্দাদের অনেকেই হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ করেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লিখা ছিল,”ইসলামের প্রতি ভীতি ছড়ানোর মতো কথা মুসলিমদের প্রতি ঘৃণাকে উসকে দেয়৷’’ এক শিশুর হাতে ধরা প্ল্যাকার্ড, সেখানে হামলার শিকার মুসলিম পরিবারের নিহত কিশোরীর কথা মনে করে লেখা, ‘‘সে আমার বন্ধু ছিল!’’

সব প্ল্যাকার্ডে লেখা ভালোবাসার মাহাত্ম আর ঘৃণার ভয়ঙ্কর ক্ষতির কথা ৷ একটিতে (বাঁ দিকে সবার ওপরে) লেখা, ‘‘ঘৃণা হত্যা করে৷’’

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস

জনপ্রিয়

ইউরোপের অন্য কোনও দেশে রাশিয়ার হামলার ইচ্ছা নেই নিশ্চয়তা পুতিনের

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

কানাডায় নিহত মুসলিম পরিবারের শোক সভায় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

আপডেটের সময় ০৫:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুন ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিহতদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ শত শত মানুষ যোগ দেয় বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

 উল্লেখ্য যে,কানাডার অন্টারিওর লন্ডনে রোববার সন্ধ্যা ৯ টার দিকে হাঁটার সময় নাথানিয়েল ভেলটম্যান নামক ২০ বছর বয়সের এক মুসলিম বিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ যুবক তার ট্রাকটি ইচ্ছাকৃত ভাবে একই মুসলিম পরিবারের ৫ সদস্য ওপর উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। অবশ্য পুলিশ পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে সাত কিলোমিটার দূরত্ব থেকে তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে সে মুসলিম পরিবার দেখেই তাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ট্রাক তাদের ওপর উঠিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনাস্থলেই পরিবারের ৪ জন নিহত হন এবং ৯ বছরের এক সদস্য আহত হন। পুলিশ নিহতদের নাম প্রকাশ করেছেন।

 স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উদ্ধৃতি রয়টার্স জানিয়েছেন ট্রাক হামলায় নিহতরা হলেন,সালমান আফজাল (৪৬), তার স্ত্রী মাদিহা সালমান (৪৪), তাদের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে ইয়ুমনা আফজাল এবং আফজালের ৭৪ বছর বয়সী মা। তবে ওই হামলায় বেঁচে গেছে তাদের ৯ বছর বয়সী ছেলে ফয়েজ আফজাল। সে এখন হাসপাতালে ভর্তি। তবে তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। পরিবারটি তিন প্রজন্ম যাবত এই এলাকায় বসবাস করে আসছেন।

 গতকালের শোক ও স্মরণসভায় স্থানীয় লন্ডন মুসলিম মসজিদের চেয়ারম্যান বিলাল রাহহাল বলেন, এটা আমাদের শহর। আপনার গায়ের রং, ধর্ম বিশ্বাস বা আপনি যেখানে জন্ম নিয়েছেন, এসব কারণে কাউকে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ দেবেন না। এটা আমাদের শহর। আমরা কোথাও যাবো না। তিনি যারা নিহত হয়েছেন সকলকে শহীদের মর্যাদা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহতায়ালার নিকট দোয়া করেন।

শোক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন,তার সরকার এই হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে তা জানাননি তিনি। এর আগে মসজিদের সিঁড়িতে ফুল রাখেন ট্রুডো। তিনি বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড,আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে তার সমবেদনার কথা জানান এবং তাদেরক ধৈর্য্য ধারণ করার সাহস যোগান।

 ঘটনার পর পরই লন্ডন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা পল ওয়েইট বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, নিহতরা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন বলেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে৷’’এদিকে স্থানীয় পত্রিকা “লন্ডন ফ্রি প্রেস” জানিয়েছেন হত্যাকারী নাথানিয়েল ভেলটম্যান (২০)কে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে।

 ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার দূরেই এই মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের দরজার দুপাশে ফুল রেখে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই। শোকসভায় উপস্থিত বাসিন্দাদের অনেকেই হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ করেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লিখা ছিল,”ইসলামের প্রতি ভীতি ছড়ানোর মতো কথা মুসলিমদের প্রতি ঘৃণাকে উসকে দেয়৷’’ এক শিশুর হাতে ধরা প্ল্যাকার্ড, সেখানে হামলার শিকার মুসলিম পরিবারের নিহত কিশোরীর কথা মনে করে লেখা, ‘‘সে আমার বন্ধু ছিল!’’

সব প্ল্যাকার্ডে লেখা ভালোবাসার মাহাত্ম আর ঘৃণার ভয়ঙ্কর ক্ষতির কথা ৷ একটিতে (বাঁ দিকে সবার ওপরে) লেখা, ‘‘ঘৃণা হত্যা করে৷’’

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস