ভোলায় মুজিব বর্ষেও ঘর পেলোনা মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী পুস্প রানী

ভোলা প্রতিনিধি : “স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ঘোষনা দিয়েছিলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী “মুজিব বর্ষে” বাংলাদেশের একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবেনা এবং জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারাও ঘর পাবে। তখন থেকেই আমি একটি ঘর পাওয়ার স্বপ্ন দেখে আসছি। আমি একটি ঘরের জন্য প্রশাসনের বহু লোকের কাছে ধর্ণা দিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাকে একটি ঘরের বন্দোবস্ত করে দেয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন আমাকে একটি ঘর দিলে ছেলে বউ নাতি নাতনী নিয়ে আমি বাকী জীবনটা একটু সুখে থাকতে পারবো। কেঁদে কেঁদে কথা গুলো বলছিলেন, ভোলা সদর উপজেলার ২নং ইলিশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত আর্মি নায়েব সুবেদার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত হরিদাস মালের স্ত্রী পুস্প রানী।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইলিশা হাটের মন্দিরের পাশে ৩ শতাংশ জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে বহু বছরের পুরোনো জড়াজীর্ণ একটি মাটির ঘর। যার উপরে টিন থাকলেও বৃষ্টির পানি রোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে সেই নামধারী টিনগুলো। ছোট্ট এই ঘরটির মধ্যেই ৫ সন্তানের জননী পুস্প রানী তার দুই ছেলে, দুই পুত্রবধু, দুই নাতি নিয়ে মানবেতর জীবনজাপন করছেন।

আপনি স্বামীর মুক্তি যোদ্ধা ভাতা পেনশন ভাতা পাওয়ার পরও আপনার ঘর এরকম কেন এমন প্রশ্নের জবাবে পুস্প বলেন, ‘২০১১ সালে আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন লাখ টাকা লোন নিয়ে আমি আমার তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি এবং অনেক কষ্টে দুটি ছেলেকে কোনমতে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর অর্থের অভাবে আর পড়াশুনা করাতে পারেনি। এখন চাকুরীর অভাবে অন্যের কামলা দিয়ে ছেলে দুটো স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনমতে জিবীকা নির্বাহ করে।

সাব্বির আলম বাবু/ইবি টাইমস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »