প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার গ্রহণের নির্দেশ,অধিক সংক্রমিত এলাকায় আংশিক লকডাউনের প্রস্তাব স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজ সোমবার ২৯ মার্চ বাংলাদেশে করোনার একদিনের সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিদিনের এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ১৮১ জন,যা দেশের একদিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ লাখ ৮৯৫ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৫ জন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুবরণের সংখ্যা দাঁড়াল ৮,৯৪৯ জন। আজ করোনায় মৃত্যুবরণকারী ৪৫ জনের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ১৫ জন মহিলা। আজকের মৃত্যুবরণকারী ৪৫ জনের মধ্যে শুধুমাত্র ১ জন নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেছেন,বাকী ৪৪ জন বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারানো ৪৫ জনের মধ্যে পুরুষ ৩০ জন এবং নারী ১৫ জন। আর তাদের মধ্যে বাড়িতে একজন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যবরণ করেছেন ৪৪ জন।
বাংলাদেশে এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,০০,৮৯৫ জন এবং এই পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৮,৯৪৯ জন। করোনার থেকে বাংলাদেশে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৫,৩৭,৭১৮ জন। দেশে বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৫৪,২২৪ জন।
এদিকে আজ ঢাকা থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন,হঠাৎ করে দেশে করোনার সংক্রমণের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন সরকার। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সভাপতির বক্তব্যে বলেন,বাংলাদেশে পুনরায় আশঙ্কাজনকভাবে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তিনি সকলকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সভা সেমিনার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভ্যাকসিন দেওয়া অব্যাহত থাকবে। তবে কেউ যেন মাস্ক ছাড়া বাইরে না যায়। নিরাপদ দূরত্ব মেনে বসতে হবে। সভা, সেমিনার, কর্মশালা স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে করতে হবে। যতদূর সম্ভব খোলা জায়গায় কর্মসূচি করতে হবে,ঘরের মধ্যে করলে করোনার প্রাদুর্ভাব আরও বেশি দেখা দেয়।’
এদিকে আজ সোমবার ২৯ শে মার্চ দেশে করোনার সংক্রমণ পুনরায় আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিক সংক্রমিত এলাকায় আংশিক লক ডাউনের প্রস্তাব দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি আজ দুপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সম্প্রসারিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। তিনি জানান,মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে যেসব এলাকায় এখন সংক্রমণের হার বেশী সে এলাকাগুলিতে সম্ভব হলে আংশিক লকডাউন করাসহ সরকারের কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশকিছু প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে করোনা আক্রান্তের হার ছিল মাত্র ২ শতাংশের মতো। আর এখন সেটি হয়ে গেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।এই মুহুর্তে করোনার উৎপত্তিস্থল বন্ধ করতে না পারলে দেশের অর্থনীতির চাকা থেমে যেতে পারে, মানুষের আর্থিক বড় রকমের সংকট হতে পারে। এ বিষয়গুলি মাথায় রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশকিছু প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবনাগুলো হলো-(১) যেসব এলাকায় এখন সংক্রমণের হার বেশী সে এলাকাগুলিতে সম্ভব হলে আংশিক লক ডাউন করা। (২) বিনোদন কেন্দ্রগুলি বন্ধ রাখা।(৩) পিকনিক,ওয়াজ-মাহফিল বন্ধ রাখা।(৪) বিয়ে-সাদির অনুষ্ঠান সীমিত করা।(৫) কোয়ারান্টাইন ব্যাবস্থা জোরদার করা।(৬)সকল যানবাহন,বাস,স্টীমারে যাত্রী অর্ধেক বা তারো কম রাখা।(৭) অফিস আদালতে কম আসা যাওয়া করা।(৮) মুখে মাস্ক ছাড়া কোন সার্ভিস ব্যাবস্থা না রাখা।(৯) মোবাইল কোর্ট বাড়িয়ে দিয়ে জড়িমানা ব্যাবস্থা জোরদার করাসহ আরো বেশকিছু প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবনাগুলোর বিষয়ে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাহিদ মালেক।
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের পরিচালক প্রফেসর মীর জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
কবির আহমেদ /ইবি টাইমস