ভিয়েনা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান এইড এর বিবৃতি চরফ্যাশনে এডিশনাল পিপির উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ঝালকাঠি-১ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি নূরুল্লাহ আশরাফীর মতবিনিময় ‎ মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত ইউরোপকে ‘ক্ষয়িষ্ণু’ ও ‘দুর্বল’ বললেন ট্রাম্প আগামী নির্বাচনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে হবে: ইউএনওদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধে ইতালির মনফালকোনেতে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ন্ধ

অস্ট্রিয়ায় ৪র্থ লকডাউন এড়াতে বিরোধী দলের পরিকল্পনা উপস্থাপন

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১২:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০
  • ৬৫ সময় দেখুন

নিউজ ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ অস্ট্রিয়ার প্রধান বিরোধীদল সোস্যালিস্ট পার্টি অস্ট্রিয়ার (SPÖ) চেয়ারপার্সন পামেলা রেন্ডি-ভাগনার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার এখন করোনার ভ্যাকসিন দেয়া নিয়ে “রকিং চেয়ার” অর্থাৎ ঘূর্ণীয়মান চেয়ারের মত করে ঘুড়ছে। তিনি সরকারকে যাতে পুনরায়  লকডাউনে যেতে না হয়,তার জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

বিরোধী দলীয় নেত্রী পামেলা রেন্ডি-ভাগনার মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ফেডারেল সরকারের করোনার পরিকল্পনার বিষয়ে এসব মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের গণ-পরীক্ষা এবং ভ্যাকসিনের উপর নির্ভর করার কৌশলের সাথে একমত হন, তবে পদক্ষেপের বাস্তবায়নের সমালোচনা করেন। পামেলা করোনার টিকাদানকে এই বৈশ্বিক মহামারী থেকে বেঁচে থাকার একটি দুর্দান্ত সুযোগ হিসাবে দেখছেন।

তিনি বলেন,ক্রমান্বয়ে আমাদের সকলেরই এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করা উচিত। তিনি সরকারের বাস্তবায়ন পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন যে, সরকার দেশব্যাপী ভ্যাকসিন প্রদানের সম্ভাব্যতার সাথে সমস্ত সমস্যার সমাধান হিসাবে দেখছে, যা একটি  বিপজ্জনক ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ এই ভ্যাকসিনের সুফল পেতে আরও অনেক সময় লাগবে। শুধুমাত্র লকডাউনের পর লকডাউন দিয়ে গেলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তার জন্য প্রয়োজন একটি সুপরিকল্পিত ও গঠনমূলক স্থায়ী পরিকল্পনা।

বিরোধী দলীয় নেত্রী ডা.পামেলা রেন্ডি ভাগনার তার দল SPÖ এর পক্ষ থেকে একটি তিন দফা পরিকল্পনা উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। নিম্নে SPÖ এর নিজস্ব তিনটি পরিকল্পনা বর্ণনা করা হল-

*একটি কার্যকরী যোগাযোগ ট্রেসিং, *একটি নতুন পরীক্ষা কৌশল, *একটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত টিকা বা ভ্যাকসিন কৌশল। কোনও কার্যকারিতা এবং ডিজিটাইজড যোগাযোগের ট্রেসিং সিস্টেম ব্যতীত করোনার সংক্রমণের বিস্তার রোধ কমিয়ে নিরাপদ স্তরে বজায় রাখা সম্ভব নয়। করোনার প্রাদুর্ভাবের প্রায় “এগার মাস পরে” এটি কেবল তখনই কাজ করতে পারে যদি কমপক্ষে ১,০০০ জন অতিরিক্ত লোককে এই উদ্দেশ্যে নিয়োগ করা হয়। অর্থাৎ সোজা কথা করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে জনবল বৃদ্ধি করা। তবে এই বৃদ্ধি আঞ্চলিক ভাবে না করে রাস্ট্রীয় ভাবে সমগ্র দেশব্যাপী করতে হবে। করোনার পরীক্ষার ব্যাপারে SPÖ চাচ্ছে মানুষ যাতে ঘরে বসেই নিজেই নিজের করোনা টেস্ট করতে পারে।

তিনি বলেন,তথাকথিত “লিভিংরুমের পরীক্ষা”, যার সাহায্যে লোকেরা তাদের নিজের ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই নিজের পরীক্ষা নিজেই করতে পারে। সরকারকে এর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং অবশ্যই এই পরীক্ষার সাজ সরঞ্জাম সরকারকে বিনা পয়সায় সরবরাহ করতে হবে। এই ধরণের পরীক্ষা ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নীতিগতভাবে, করোনার পরীক্ষার বিকল্পগুলি সহজেই অ্যাক্সেসযোগ্য এবং বিনা মূল্যে হওয়া উচিত। ক্রিসমাসে দেখা গিয়েছিল যে “যখন লোকেরা পরীক্ষার পিছনে জ্ঞান এবং উপকার দেখেন” তখন পরীক্ষার ব্যাপারে আরও বেশী আগ্রহী হয়ে ওঠেন। SPÖ এর পরিকল্পনার তৃতীয়টি হল করোনার ভ্যাকসিন বা টিকাদান কর্মসূচির ব্যাপারে। রেন্ডি-ভাগনারের মতে, প্রাথমিক লক্ষ্যটি হওয়া উচিত লোকদের অধিক মাত্রায় টিকাদানে উৎসাহিত করা। এই লক্ষ্যটি টিকাদানের কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা সম্পর্কে সহজ অ্যাক্সেস এবং শিক্ষার মাধ্যমে লোকজনদের বুঝানো যেতে পারে। তবে SPÖ নেত্রী সকলের জন্য বাধ্যতামূলক টিকাদান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের অধীনে BioNTech ও Pfizer এর করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম গতকাল মঙ্গলবার ২৯ ডিসেম্বর থেকে আরও বিস্তৃত পরিসরে শুরু হয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর ভ্যাকসিনের প্রথম চালান ৯,৭৫০ ডোজের মাধ্যমে অস্ট্রিয়ায় ভ্যাকসিন ডোজ প্রদান শুরু করা হয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে এই সপ্তাহে আরও ৪ লাখ ভ্যাকসিন ডোজ অস্ট্রিয়ায় আসার কথা রয়েছে।

অস্ট্রিয়ান সরকার বলেন,এই ভ্যাকসিন প্রথম বয়স্ক লোকজন, তারপর বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপের মানুষদের দেয়া হবে। তারপর ক্রমান্বয়ে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের এই ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। সবশেষে সাধারণ সুস্থ জনসাধারণ এই করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণের সুযোগ পাবে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে সাধারণ জনগণের জন্য এই করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য কমপক্ষে এপ্রিল মাস পর্যন্ত অপেক্ষার ঈঙ্গিত দিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান এইড এর বিবৃতি

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

অস্ট্রিয়ায় ৪র্থ লকডাউন এড়াতে বিরোধী দলের পরিকল্পনা উপস্থাপন

আপডেটের সময় ১২:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০

নিউজ ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ অস্ট্রিয়ার প্রধান বিরোধীদল সোস্যালিস্ট পার্টি অস্ট্রিয়ার (SPÖ) চেয়ারপার্সন পামেলা রেন্ডি-ভাগনার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার এখন করোনার ভ্যাকসিন দেয়া নিয়ে “রকিং চেয়ার” অর্থাৎ ঘূর্ণীয়মান চেয়ারের মত করে ঘুড়ছে। তিনি সরকারকে যাতে পুনরায়  লকডাউনে যেতে না হয়,তার জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

বিরোধী দলীয় নেত্রী পামেলা রেন্ডি-ভাগনার মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ফেডারেল সরকারের করোনার পরিকল্পনার বিষয়ে এসব মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের গণ-পরীক্ষা এবং ভ্যাকসিনের উপর নির্ভর করার কৌশলের সাথে একমত হন, তবে পদক্ষেপের বাস্তবায়নের সমালোচনা করেন। পামেলা করোনার টিকাদানকে এই বৈশ্বিক মহামারী থেকে বেঁচে থাকার একটি দুর্দান্ত সুযোগ হিসাবে দেখছেন।

তিনি বলেন,ক্রমান্বয়ে আমাদের সকলেরই এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করা উচিত। তিনি সরকারের বাস্তবায়ন পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন যে, সরকার দেশব্যাপী ভ্যাকসিন প্রদানের সম্ভাব্যতার সাথে সমস্ত সমস্যার সমাধান হিসাবে দেখছে, যা একটি  বিপজ্জনক ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ এই ভ্যাকসিনের সুফল পেতে আরও অনেক সময় লাগবে। শুধুমাত্র লকডাউনের পর লকডাউন দিয়ে গেলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তার জন্য প্রয়োজন একটি সুপরিকল্পিত ও গঠনমূলক স্থায়ী পরিকল্পনা।

বিরোধী দলীয় নেত্রী ডা.পামেলা রেন্ডি ভাগনার তার দল SPÖ এর পক্ষ থেকে একটি তিন দফা পরিকল্পনা উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। নিম্নে SPÖ এর নিজস্ব তিনটি পরিকল্পনা বর্ণনা করা হল-

*একটি কার্যকরী যোগাযোগ ট্রেসিং, *একটি নতুন পরীক্ষা কৌশল, *একটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত টিকা বা ভ্যাকসিন কৌশল। কোনও কার্যকারিতা এবং ডিজিটাইজড যোগাযোগের ট্রেসিং সিস্টেম ব্যতীত করোনার সংক্রমণের বিস্তার রোধ কমিয়ে নিরাপদ স্তরে বজায় রাখা সম্ভব নয়। করোনার প্রাদুর্ভাবের প্রায় “এগার মাস পরে” এটি কেবল তখনই কাজ করতে পারে যদি কমপক্ষে ১,০০০ জন অতিরিক্ত লোককে এই উদ্দেশ্যে নিয়োগ করা হয়। অর্থাৎ সোজা কথা করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে জনবল বৃদ্ধি করা। তবে এই বৃদ্ধি আঞ্চলিক ভাবে না করে রাস্ট্রীয় ভাবে সমগ্র দেশব্যাপী করতে হবে। করোনার পরীক্ষার ব্যাপারে SPÖ চাচ্ছে মানুষ যাতে ঘরে বসেই নিজেই নিজের করোনা টেস্ট করতে পারে।

তিনি বলেন,তথাকথিত “লিভিংরুমের পরীক্ষা”, যার সাহায্যে লোকেরা তাদের নিজের ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই নিজের পরীক্ষা নিজেই করতে পারে। সরকারকে এর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং অবশ্যই এই পরীক্ষার সাজ সরঞ্জাম সরকারকে বিনা পয়সায় সরবরাহ করতে হবে। এই ধরণের পরীক্ষা ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নীতিগতভাবে, করোনার পরীক্ষার বিকল্পগুলি সহজেই অ্যাক্সেসযোগ্য এবং বিনা মূল্যে হওয়া উচিত। ক্রিসমাসে দেখা গিয়েছিল যে “যখন লোকেরা পরীক্ষার পিছনে জ্ঞান এবং উপকার দেখেন” তখন পরীক্ষার ব্যাপারে আরও বেশী আগ্রহী হয়ে ওঠেন। SPÖ এর পরিকল্পনার তৃতীয়টি হল করোনার ভ্যাকসিন বা টিকাদান কর্মসূচির ব্যাপারে। রেন্ডি-ভাগনারের মতে, প্রাথমিক লক্ষ্যটি হওয়া উচিত লোকদের অধিক মাত্রায় টিকাদানে উৎসাহিত করা। এই লক্ষ্যটি টিকাদানের কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা সম্পর্কে সহজ অ্যাক্সেস এবং শিক্ষার মাধ্যমে লোকজনদের বুঝানো যেতে পারে। তবে SPÖ নেত্রী সকলের জন্য বাধ্যতামূলক টিকাদান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের অধীনে BioNTech ও Pfizer এর করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম গতকাল মঙ্গলবার ২৯ ডিসেম্বর থেকে আরও বিস্তৃত পরিসরে শুরু হয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর ভ্যাকসিনের প্রথম চালান ৯,৭৫০ ডোজের মাধ্যমে অস্ট্রিয়ায় ভ্যাকসিন ডোজ প্রদান শুরু করা হয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে এই সপ্তাহে আরও ৪ লাখ ভ্যাকসিন ডোজ অস্ট্রিয়ায় আসার কথা রয়েছে।

অস্ট্রিয়ান সরকার বলেন,এই ভ্যাকসিন প্রথম বয়স্ক লোকজন, তারপর বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপের মানুষদের দেয়া হবে। তারপর ক্রমান্বয়ে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের এই ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। সবশেষে সাধারণ সুস্থ জনসাধারণ এই করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণের সুযোগ পাবে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে সাধারণ জনগণের জন্য এই করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য কমপক্ষে এপ্রিল মাস পর্যন্ত অপেক্ষার ঈঙ্গিত দিয়েছেন।