ভিয়েনা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল আরব দলগুলো লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু, ঘাতক যান অজ্ঞাত শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, তবু যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো? চোটে মুশফিক ছিটকে গেলেন, মিরপুর টেস্টে খেলছেন হৃদয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান লালমোহনে টেন্ডার ছাড়াই অর্ধ কোটি টাকার গাছ কর্তন! ইউএনও’র নীরব ভূমিকা ঝালকাঠিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঝালকাঠিতে ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা, আহত ৭ চরফ্যাশনে কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ভিক্ষা ছেড়ে কাজ করতে চায় রোকসানা; প্রয়োজন সমাজের সহযোগিতা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১২:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুন ২০২১
  • ১৩৪ সময় দেখুন

লালমোহন প্রতিনিধি: রোকসানা বেগম, দুই সন্তানের জননী। বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। তবে অর্ধাহারে-অনাহারে কঙ্কালসার রোকসানাকে দেখে মনে হবে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা। ৩মাসের শিশু সন্তান কোলে নিয়ে লালমোহন বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভিক্ষা করছে রোকসানা।

ইউরোবাংলা টাইমস’ এর প্রতিনিধিকে রোকসানা জানায়, মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে ভাল লাগেনা তার, কাজ করে খেতে চায় সে। সরকারি-বেসরকারি কোনও সাহায্য সহযোগিতা পেলে ভিক্ষা ছেড়ে দেয়ার আগ্রহের কথাও জানায় সে। তার এ স্বপ্ন পূরণে সমাজের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

রোকসানা বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের মৃত নাছির মেস্তরির মেয়ে। প্রায় ৮ বছর আগে একই উপজেলার মৃত আতরজমার ছেলে সিরাজের সাথে বিয়ে হয় তার। তাদের ঘরে হাবিবা (৪) ও তাসপিয়া (৩ মাস) নামের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তাসপিায়ার জন্মের আগেই রোকসানা কে ফেলে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় স্বামী সিরাজ। পরে শশুর বাড়িতে ও ঠাঁই হয়নি তার। তাই জীবিকার তাগিদে ভিক্ষার পথ বেছে নিয়েছে সে।

রোকসানা জানায়, প্রায় তিন বছর আগে তার মায়ের মৃত্যু হয়। এর বছরখানেক পর বাবা নাছির মেস্তরিও মারা যান। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। স্বামী নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি থেকে তাকেও তাড়িয়ে দেয়া হয়। তাই দুই সন্তান ও নিজের জীবন বাঁচানোর তাগিদে ভিক্ষা করছেন তিনি। ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে ভাড়া ও সন্তানদের কাওয়ার ব্যবস্থা করেন। করোনার সময় সরকারি-বেসরকারি কোনো সাহায্য পাননি বলেও জানায় রোতসানা। অভিযোগ করেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে সরকারি একটি ঘরের জন্য বারবার গিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

যদিও বিষযটি অস্বীকার করেছেন হাসাননগর ইউনিয়নের সদস্য মোঃ সাফায়েত ভূইয়া। বলেন, আমার কাছে এ নামের কেউ আসেনি। তবে আসলে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার ব্যবস্থা করবো।

হাসাননগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মানিক হাওলাদার বলেন, রোকসানা নামের কেউ আমার কাছে আসেনি। তবে আমার এলাকার কেউ ভিক্ষাবৃত্তি করুক, এটা আমিও চাইনা। সে যদি আমার কাছে আসে, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ও আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে রোকসানাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে যে কেউ চাইলে সহযোগিতা করেত পারেন। সহযোগিতার জন্য ০১৭১২-৩৮৭৩২৯ এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সে।

সমাজের বিত্তবানসহ সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ ও মাথা গোজার ঠাঁই হবে রোকসানার, এমনটাই স্বপ্ন তার।

সালাম/ইবিটাইমস/এমএন

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল আরব দলগুলো

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভিক্ষা ছেড়ে কাজ করতে চায় রোকসানা; প্রয়োজন সমাজের সহযোগিতা

আপডেটের সময় ১২:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুন ২০২১

লালমোহন প্রতিনিধি: রোকসানা বেগম, দুই সন্তানের জননী। বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। তবে অর্ধাহারে-অনাহারে কঙ্কালসার রোকসানাকে দেখে মনে হবে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা। ৩মাসের শিশু সন্তান কোলে নিয়ে লালমোহন বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভিক্ষা করছে রোকসানা।

ইউরোবাংলা টাইমস’ এর প্রতিনিধিকে রোকসানা জানায়, মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে ভাল লাগেনা তার, কাজ করে খেতে চায় সে। সরকারি-বেসরকারি কোনও সাহায্য সহযোগিতা পেলে ভিক্ষা ছেড়ে দেয়ার আগ্রহের কথাও জানায় সে। তার এ স্বপ্ন পূরণে সমাজের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

রোকসানা বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের মৃত নাছির মেস্তরির মেয়ে। প্রায় ৮ বছর আগে একই উপজেলার মৃত আতরজমার ছেলে সিরাজের সাথে বিয়ে হয় তার। তাদের ঘরে হাবিবা (৪) ও তাসপিয়া (৩ মাস) নামের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তাসপিায়ার জন্মের আগেই রোকসানা কে ফেলে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় স্বামী সিরাজ। পরে শশুর বাড়িতে ও ঠাঁই হয়নি তার। তাই জীবিকার তাগিদে ভিক্ষার পথ বেছে নিয়েছে সে।

রোকসানা জানায়, প্রায় তিন বছর আগে তার মায়ের মৃত্যু হয়। এর বছরখানেক পর বাবা নাছির মেস্তরিও মারা যান। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। স্বামী নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি থেকে তাকেও তাড়িয়ে দেয়া হয়। তাই দুই সন্তান ও নিজের জীবন বাঁচানোর তাগিদে ভিক্ষা করছেন তিনি। ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে ভাড়া ও সন্তানদের কাওয়ার ব্যবস্থা করেন। করোনার সময় সরকারি-বেসরকারি কোনো সাহায্য পাননি বলেও জানায় রোতসানা। অভিযোগ করেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে সরকারি একটি ঘরের জন্য বারবার গিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

যদিও বিষযটি অস্বীকার করেছেন হাসাননগর ইউনিয়নের সদস্য মোঃ সাফায়েত ভূইয়া। বলেন, আমার কাছে এ নামের কেউ আসেনি। তবে আসলে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার ব্যবস্থা করবো।

হাসাননগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মানিক হাওলাদার বলেন, রোকসানা নামের কেউ আমার কাছে আসেনি। তবে আমার এলাকার কেউ ভিক্ষাবৃত্তি করুক, এটা আমিও চাইনা। সে যদি আমার কাছে আসে, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ও আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে রোকসানাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে যে কেউ চাইলে সহযোগিতা করেত পারেন। সহযোগিতার জন্য ০১৭১২-৩৮৭৩২৯ এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সে।

সমাজের বিত্তবানসহ সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ ও মাথা গোজার ঠাঁই হবে রোকসানার, এমনটাই স্বপ্ন তার।

সালাম/ইবিটাইমস/এমএন