ডেস্ক রিপোর্টঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ১০ তলা বিশিষ্ট বেগম খালেদা জিয়া মহিলা হল চালুর এক বছর হলেও এখনো লিফট সুবিধা পুরোপুরি চালু হয়নি। প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এই হলে প্রতিদিন সিঁড়ি দিয়ে ১০ তলা পর্যন্ত ওঠানামা করছেন।
এতে দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
১০ম তলায় থাকা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ১০ তলায় সিট বরাদ্দ পাওয়ায় অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। উঠা নামার সমস্যার কারণে অনেক সময় দিনে একবেলা খাবার খাই। একবার নিচে নেমে খাবার নিয়ে আসি। সকালের খাবার তো খাওয়াই হয় না। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট আরও বেশি হয়। এছাড়া আমাদের রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু রান্না করে খাওয়ারও উপায় থাকে না। তাই অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।
হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলা আবাসিক হলে লিফট নেই, এমনটা দেখিনি। লিফট না থাকায় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন চরম দুর্ভোগের হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা শিক্ষক ও হাউস টিউটররা দফায় দফায় মিটিং করেছি। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমি আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হয়ে যাবে। লিফট চালু হলে ছাত্রীদের ওঠানামার কষ্ট অনেকখানি কমে যাবে। ১০ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা কতটা কষ্টের এবং অমানবিক, তা আমরা অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে গভীরভাবে অনুভব করি।
লিফট চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুহ. এনামুল হক বলেন, খালেদা জিয়া হলের জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ স্থাপনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনতলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করার পর লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে।
বর্ষা আহমেদ বৃষ্টি/ইবিটাইমস/এম আর




















