স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) এক প্রকল্প পরিচালককে হেনস্তা ও মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর জামান মিন্টু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একটি ইলেকট্রনিক টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের পরিচালক মোস্তফা কামাল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসানুর জামান মিন্টু।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে, কক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার দুপুর ১টা ৪২ মিনিট থেকে ১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত হাসানুর জামান মিন্টু প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে অবস্থান করেন। এ সময় তাঁকে মুঠোফোনে কথা বলতে দেখা যায়। প্রকল্পের একটি টেন্ডারে সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহের ক্ষেত্রে আইএসও সনদ চাওয়ার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছিল। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি ওই শর্ত নিয়ে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে প্রকল্প পরিচালককে উদ্দেশ করে ‘এক থাপ্পড়ে ঠিক করে দেব’ বলতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামালের অভিযোগ, বুধবার দুপুরে তিনি নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের পরপরই তাঁর পেছনে পেছনে হাসানুর জামান মিন্টু ও মিলন নামে দুজন তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা চলমান একটি ইলেকট্রনিক টেন্ডার তাঁদের দেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে মোস্তফা কামাল তাঁদের বলেন, নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে যিনি যোগ্য বিবেচিত হবেন, তাঁকেই কাজ দেওয়া হবে। এ সময় মিন্টু মুঠোফোনে একজনের সঙ্গে কথা বলেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে গালাগাল করা হয় বলে অভিযোগ করেন প্রকল্প পরিচালক। এতে বিব্রত হয়ে তিনি ফোন রাখতে বলেন।
মোস্তফা কামাল আরও অভিযোগ করেন, এরপর মিন্টু যেকোনোভাবে টেন্ডারটি তাঁকে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। অন্যথায় তাঁকে থাপ্পড় মারার হুমকি দেওয়া হয় এবং মারতে উদ্যত হন মিন্টু। ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁকে নানা ধরনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
প্রকল্প পরিচালক জানান, টেন্ডারের শর্তটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনার মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে। এ সময় অপর পক্ষের একজন ১৭ বছর ধরে বঞ্চিত থাকার কথা উল্লেখ করেন। জবাবে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘নেতা আমিও ছিলাম।’ এরপর তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রকল্প পরিচালককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসানুর জামান মিন্টু। তিনি বলেন, ‘আমি কেন তাঁকে হুমকি দেব? থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করব কেন? এসব মিথ্যা। পিডির টেন্ডার দেওয়ার ক্ষমতা আছে। আমি তাঁকে থাপ্পড় দিতে যাইনি।’
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান পাওয়া গেছে। টেন্ডারপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে।
ঢাকা/এসএস





















