ভিয়েনা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে লরিতে করে পালানোর সময় ২৩ বাংলাদেশী আটক

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৬:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০১ সময় দেখুন

যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধভাবে ২৩ বাংলাদেশিকে লরিতে করে পাচারের চেষ্টা করার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ

ইউরোপ ডেস্কঃ বুধবার (২৮ জানুয়ারী) জনপ্রিয় বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) বরাতে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ডোভার ফেরিঘাটের দিকে যাওয়ার সময় লরিটিকে থামানো হয়। এ সময় লরিটির ভেতর থেকে ওই বাংলাদেশিদের উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আগে থেকেই একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ওপর নজর রাখছিল। চক্রটি যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধভাবে অভিবাসী পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশ বলেছে, এ ধরনের অপরাধ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

এনসিএ বুধবার জানায়, উদ্ধার হওয়া ২৩ জন বাংলাদেশির মধ্যে ২২ জন বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তাই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একজনকে অভিবাসন বিভাগ আটক করেছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে লন্ডনের নিউ ক্রস এলাকা থেকে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে এই অপরাধচক্রের মূলহোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৩০ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া, ৪৩ থেকে ৫৫ বছর বয়সী আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লন্ডন থেকে কেন্টের হুইটস্টেবল এলাকার কাছাকাছি একটি স্থানে ট্যাক্সি চালিয়ে লোকজন পরিবহন করছিলেন। লরির চালক ৩২ বছর বয়সী এক রোমানিয়ান পাসপোর্টধারীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি নাগরিকদের লরির মাধ্যমে ব্রিটেন থেকে বাইরে নেয়ার চেষ্টা করছিল। যাতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রান্সের প্রবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়া যায়।

এনসিএর শাখা কমান্ডার সাজু সাসিকুমার বলেন, মানুষ পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রগুলো যাদের তারা পরিবহন করে, তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। একই সঙ্গে তারা বৃটেন ও ফ্রান্স উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

সংঘবদ্ধ অভিবাসন অপরাধ দমন এনসিএর শীর্ষ অগ্রাধিকার এবং এই তদন্তটি এ ধরনের অপরাধে জড়িত শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি বা নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে চলমান প্রায় ১০০টি তদন্তের একটি। এই ঘটনা এমন এক প্রেক্ষাপটে সামনে এলো, যখন গত বছরের নভেম্বরে এনসিএ সতর্ক করে যে মানুষ পাচারকারী চক্রগুলো ব্রিটেনের ভেতরে ও বাইরে অভিবাসী পাচারের জন্য লরি চালকদের টার্গেট করছে।

পুলিশ জানায়, পাচারকারীরা চালকদের টার্গেট করছে বলে জানা গেছে এবং বৈধ পণ্যবোঝাই লরির আড়ালে মানুষ পারাপারের জন্য তাদের হাজার হাজার পাউন্ডের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে কেন্টে মানুষ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে নয়জন লরি চালককে গ্রেপ্তার করেছিল এনসিএ।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর  

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

যুক্তরাজ্যে লরিতে করে পালানোর সময় ২৩ বাংলাদেশী আটক

আপডেটের সময় ০৬:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধভাবে ২৩ বাংলাদেশিকে লরিতে করে পাচারের চেষ্টা করার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ

ইউরোপ ডেস্কঃ বুধবার (২৮ জানুয়ারী) জনপ্রিয় বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) বরাতে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ডোভার ফেরিঘাটের দিকে যাওয়ার সময় লরিটিকে থামানো হয়। এ সময় লরিটির ভেতর থেকে ওই বাংলাদেশিদের উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আগে থেকেই একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ওপর নজর রাখছিল। চক্রটি যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধভাবে অভিবাসী পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশ বলেছে, এ ধরনের অপরাধ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

এনসিএ বুধবার জানায়, উদ্ধার হওয়া ২৩ জন বাংলাদেশির মধ্যে ২২ জন বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তাই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একজনকে অভিবাসন বিভাগ আটক করেছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে লন্ডনের নিউ ক্রস এলাকা থেকে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে এই অপরাধচক্রের মূলহোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৩০ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া, ৪৩ থেকে ৫৫ বছর বয়সী আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লন্ডন থেকে কেন্টের হুইটস্টেবল এলাকার কাছাকাছি একটি স্থানে ট্যাক্সি চালিয়ে লোকজন পরিবহন করছিলেন। লরির চালক ৩২ বছর বয়সী এক রোমানিয়ান পাসপোর্টধারীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি নাগরিকদের লরির মাধ্যমে ব্রিটেন থেকে বাইরে নেয়ার চেষ্টা করছিল। যাতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রান্সের প্রবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়া যায়।

এনসিএর শাখা কমান্ডার সাজু সাসিকুমার বলেন, মানুষ পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রগুলো যাদের তারা পরিবহন করে, তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। একই সঙ্গে তারা বৃটেন ও ফ্রান্স উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

সংঘবদ্ধ অভিবাসন অপরাধ দমন এনসিএর শীর্ষ অগ্রাধিকার এবং এই তদন্তটি এ ধরনের অপরাধে জড়িত শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি বা নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে চলমান প্রায় ১০০টি তদন্তের একটি। এই ঘটনা এমন এক প্রেক্ষাপটে সামনে এলো, যখন গত বছরের নভেম্বরে এনসিএ সতর্ক করে যে মানুষ পাচারকারী চক্রগুলো ব্রিটেনের ভেতরে ও বাইরে অভিবাসী পাচারের জন্য লরি চালকদের টার্গেট করছে।

পুলিশ জানায়, পাচারকারীরা চালকদের টার্গেট করছে বলে জানা গেছে এবং বৈধ পণ্যবোঝাই লরির আড়ালে মানুষ পারাপারের জন্য তাদের হাজার হাজার পাউন্ডের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে কেন্টে মানুষ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে নয়জন লরি চালককে গ্রেপ্তার করেছিল এনসিএ।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর