শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ‘কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট’ -এর উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার(২৮ জানুয়ারি) রাতে এলজিইডির টাঙ্গাইল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
টাঙ্গাইল এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘এলজিইডির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের চাপের ক্লান্তি দূর করে মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের সতেজ করে তুলবে।’
উদ্বোধনী ম্যাচটি দেখতে এলজিইডি ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। রাতভর চলা এই রোমাঞ্চকর উদ্বোধনী ম্যাচে খেলোয়াড়দের উদ্দীপনা এবং দর্শকদের করতালিতে মুখরিত ছিল পুরো এলজিইডি চত্বর। আগামি কয়েকদিন ব্যাপী এই টুর্নামেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়- এলজিইডির বিভিন্ন ইউনিট ও এলজিইডির ঠিকাদারদের সমন্বয়ে গঠিত দলগুলো ওই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে।
টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলা এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের সমন্বয়ে গঠিত মোট ৫৬ জন প্রতিযোগী ওই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা পৃথক ৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মোট ২৮টি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
টুর্নামেন্টে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন- মাহবুবুর রহমান, নায়েব আলী, রাকিব হাসান ও মাসুদ রহমান। ম্যাচ পরিচালনা করছেন, নাদিমুল ইসলাম। টুর্নামেন্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন, সাকিব উল হাফিজ। উদ্বোধনী ম্যাচে কালিহাতী ও দেলদুয়ার উপজেলা দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ২০-২২ পয়েন্টে কালিহাতী দল জয়লাভ করে। আগামি ১৫ ফেব্রুয়ারি এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলজিইডির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ঠিকাদার এবং ক্রীড়ামোদী দর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালের ২০ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার নূরুল ইসলাম সিদ্দিক এবং বেগম হামিদা সিদ্দিক দম্পতির ঘরে কামরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথমে পল্লী কর্মসূচির উপ-প্রধান প্রকৌশলী এবং পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের আওতায় নগর নির্মাণ কর্মসূচির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯২ সালের পর তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর(এলজিইডি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি এলজিইডির প্রধান ছিলেন। কামরুল ইসলাম ব্যক্তিগত জীবনে সাবেরা সিদ্দিকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির এক ছেলে এবং তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ৬৩ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস




















